Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মোদির কু-মন্তব্যে ফুঁসছে যাদবপুর, ‘যাঁর ডিগ্রি নিয়েই চ্যালেঞ্জ হয়, তিনি মর্যাদা বুঝবেন না’

যে দলের নেতারা বলেন, গোরুর দুধ থেকে সোনা বের হয়, গোমূত্রে ক্যানসার নিরাময় হয়, সেই দলের নেতার মুখে যাদবপুর কেন, দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়েই মন্তব্য মানায় না!

মোদির কু-মন্তব্যে ফুঁসছে যাদবপুর, ‘যাঁর ডিগ্রি নিয়েই চ্যালেঞ্জ হয়, তিনি মর্যাদা বুঝবেন না’
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যে দলের নেতারা বলেন, গোরুর দুধ থেকে সোনা বের হয়, গোমূত্রে ক্যানসার নিরাময় হয়, সেই দলের নেতার মুখে যাদবপুর কেন, দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়েই মন্তব্য মানায় না! শনিবার এই ভাষাতেই প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া কিশলয় রায়। নরেন্দ্র মোদির পরে দিলীপ ঘোষও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে আক্রমণ করেছেন। তাতে আরও ফুঁসে উঠেছেন এখানকার ছাত্রছাত্রীরা। কিশলয় যোগ করেন, ‘ইউজিসি নেট, মেডিকেল প্রবেশিকা নিটের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে মোদি জমানায়। মোদি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার ডিগ্রি কাউকে দেখান না। যাঁর ডিগ্রি নিয়ে চ্যালেঞ্জ হয়, তিনি এসেছেন যাদবপুরের সমালোচনা করতে! তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা বুঝবেন না।’

Advertisement

যাদবপুরের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল কাফির সাফ কথা, ‘যিনি এনটায়ার পলিটিক্যাল সায়েন্সে এমএ করেছেন, তাঁর বক্তব্য নিয়ে আর কী বলব? তাঁরা কতটা গীতা পড়েন, জানি না! তবে, গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, কাজ করে যাও। ফলের উপরে তোমার কোনো অধিকার নেই। যাদবপুরের কাজ পারস্পরিক ভালোবাসা এবং সহমর্মিতার সঙ্গে শিক্ষা এবং গবেষণা চর্চার কাজ চালিয়ে যাওয়া। তার বেশি আর যাদবপুরের হাতে নেই।’ শুধু পড়ুরা-অধ্যাপকরাই নন, মোদির বক্তব্য নিয়ে সরব হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল স্বয়ং। তিনি বলেন, ‘এখানে কী ধরণের মৌলিক গবেষণা হয় সেব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর খোঁজ নেওয়া উচিত। কেন্দ্র অনুদান তো দেয়ই না। উলটে অনুদানের আবেদন করার জন্য ১০০ কোটি টাকা কেন্দ্রকে দিয়েছিল যাদবপুর, তাও ফেরত আসেনি। এসব কথা না বলে প্রধানমন্ত্রীর উচিত যাদবপুরের পাশে দাঁড়ানো।’
পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক অমিতাভ গুপ্ত আরও বেশি আক্রমণাত্মক। বললেন, ‘ট্রাম্প ভারতকে নরককুণ্ড বলার পর বিদেশ মন্ত্রক যে ভাষায় বিবৃতি দিয়েছিল, সেই ভাষাতেই যাদবপুর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করা যায়। আনইনফর্মড (তথ্যবিহীন), ইনঅ্যাপ্রোপ্রিয়েট (অসংগত)। দেশের প্রধান বলেছেন বলে পুওর টেস্ট (রুচিহীন) আর বললাম না। প্রধানমন্ত্রীর কাছে হয়তো তথ্য নেই, দেশের ডিফেন্স ল্যাবরেটরি, ইসরো এবং তার রিজিওনাল সেন্টারগুলিতে ডিরেক্টর বা গ্রুপ ডিরেক্টরের মতো শীর্ষপদে শুধু বাঙালি নন, যাদবপুরের অসংখ্য প্রাক্তনী রয়েছেন। দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং মেধা না থাকলে তাঁরা এই কাজগুলি করতে পারতেন?’ একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে যাদবপুরের ছাত্ররা মোবাইল না দেখে যে উদাত্ত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গায়, তা দেখা উচিত প্রধানমন্ত্রীর। ‘অ্যান্টি এস্টাব্লিশমেন্ট’ (প্রতিষ্ঠানবিরোধী) মনোভাব থাকতেই পারে। তবে, ছাত্ররা ‘অ্যান্টি ন্যাশনাল’ (দেশবিরোধী) নয়।
যাদবপুরের প্রাক্তন সহ উপাচার্য সিদ্ধার্থ দত্তর মতে, আসল কথা হল ওঁরা মেধাকে বাগে আনতে পারছেন না। মেধা ও মেধাবীদের ভয় পাচ্ছেন। যাদবপুরের কৃতি ছাত্রছাত্রীরা শুধু বাংলা নয়, সারা দেশ, সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছেন। তাই আলতুফালতু বলে ওঁরা যত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ছোটো করার চেষ্টা করবেন, ততই নিজেরা মানুষের কাছে খাটো হবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ