নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর কাণ্ডের প্রতিবাদ করায় এআইডিএসও নেত্রীদের উপর থানায় অত্যাচারের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় হাইকোর্টে ভর্ৎসনার মুখে পড়ল রাজ্য। এই মামলায় তদন্তভার দেওয়া হয়েছিল আইপিএস মুরলীধর শর্মারকে। বৃহস্পতিবার তিনি রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। ওই রিপোর্ট দেখে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানান, তিনি নিজে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নির্যাতনের প্রমাণ পেয়েছেন। এদিন মামলার শুনানিতে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি ঘোষ। রাজ্যকে কড়া ভাষায় মেদিনীপুর মহিলা থানা পুনর্গঠন করতে বলেছেন তিনি। বিচারপতির মন্তব্য, ‘থানা ঠিক নয়। ডিজিকে বলুন ব্যবস্থা নিতে। না-হলে আমি কড়া নির্দেশ দিতে বাধ্য হব।’ বিচারপতির আরও মন্তব্য, ‘সিসিটিভি ফুটেজ আমি দেখেছি। নির্যাতনের প্রমাণ আছে। কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করে অত্যাচার করা, উল্লসিত হওয়া, এমনটা চলতে পারে না। ওই থানা পুনর্গঠন করতে বলুন।’ রিপোর্ট দেখে অ্যাডভোকেট জেনারেলকে (এজি) বিচারপতি বলেন, ‘আইজিপিকে সম্পূর্ণ ফুটেজ দেওয়া হয়নি। ১৭ ঘণ্টার মধ্যে ১৩ ঘণ্টার ফুটেজ দেওয়া হয়েছে। চার ঘণ্টার দেওয়া হয়নি কেন? চুলের মুঠিও-বা ধরা হয়েছিল কেন? থানায় মোম দেখা গিয়েছে।’ এর প্রেক্ষিতে এজি বলেন, ‘থানায় কাগজ সিল করা এবং মশার ধূপ জ্বালানোর জন্য মোম ছিল।’ যাদবপুর কাণ্ডে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মেদিনীপুর কলেজও। বিক্ষোভ দেখানোর সময় দুই ছাত্রীকে থানায় নিয়ে গিয়ে গায়ে মোম ঢেলে দেওয়া ও চুলের মুঠি ধরা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সুচরিতা দাস ও সুশ্রীতা সরেন।



