


নয়াদিল্লি: ঘড়ির কাঁটায় ৫টা ৪০ মিনিট। কান ফাটানো আওয়াজ আর চোখ ঝলসে দেওয়া আলোয় ল্যান্ডিং স্টেশন ছাড়ল জিএসএলভি-এফ ১৬ রকেট। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে সফল উৎক্ষেপণ কৃত্রিম উপগ্রহ ‘নিসার’-এর। সেই সঙ্গেই ভারতের মহাকাশ ইতিহাসের মুকুটে জুড়ল আরও একটি গর্বের পালক।
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো ও মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে নিসার (নাসা-ইসরো সিন্থেটিক অ্যাপারচার রেডার)। খরচ পড়েছে প্রায় দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে ভারত ও আমেরিকার এই যৌথ পদক্ষেপ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মত বিশেষজ্ঞদের। প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে ভারত-মার্কিন গবেষকদের প্রচেষ্টায় তৈরি এই উপগ্রহটি যে কোনও আবহাওয়ায় পৃথিবীর প্রতি মুহূর্তের মাটি, তুষার এবং বাস্তুতন্ত্রের পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা ও রিপোর্ট সংগ্রহ করবে।
২,৩৯৩ কেজি ওজনের ‘নিসার’ই বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ, যাতে রয়েছে দু’টি ফ্রিকোয়েন্সির রেডার (নাসার এল-ব্যান্ড ও ইসরোর এস-ব্যান্ড)। এই ডুয়েল ফ্রিকোয়েন্সি রেডারের মাধ্যমে পৃথিবীর পরিবেশ, বায়ুমণ্ডল, প্রাকৃতিক দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ করবে। বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তনও ধরা পড়বে এই কৃত্রিম উপগ্রহে। বিজ্ঞানীদের মতে, বছরের যে কোনও মরশুমে পৃথিবীর উচ্চমানের ছবি তুলতে পারবে এই কৃত্রিম উপগ্রহ। সেই সমস্ত তথ্য থেকে শুধু ভারত বা আমেরিকা নয়, উপকৃত হবে পৃথিবীর সমস্ত দেশই। এই যৌথ অভিযান প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেন, মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে ভারত ও আমেরিকার এই যৌথ উদ্যোগ একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত। যা আন্তর্জাতিক স্তরে ইসরোর কর্মকাণ্ডকে আরও ত্বরান্বিত করবে। শুধুমাত্র একটি কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ হিসেবে এই অভিযানকে দেখা উচিত নয়। বিজ্ঞান ও বিশ্বের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দু’টি দেশ একজোট হয়ে কী কী অর্জন করতে পারে, তার প্রতীক এই অভিযান। এই প্রসঙ্গে ইউএস মিশনের তরফে ভারতের দায়িত্বপ্রাপ্ত জোর্গান কে অ্যান্ড্রুস বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারি মাসে ওয়াশিংটনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে মহাকাশ ক্ষেত্রেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ‘নিসার’ উপগ্রহ উৎক্ষেপণের হাত ধরে নাসা ও ইসরোর সমন্বয়ের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল।’