


তেল আভিভ: আমেরিকার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইরান যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে ইজরায়েল। কিন্তু যুদ্ধ যত দীর্ঘতর হচ্ছে, ততই চাপ বাড়ছে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী বা আইডিএফের উপর। পরিস্থিতি এমনই, যে কোনোদিন আইডিএফ নিজে থেকেই ভেঙে পড়তে পারে। এমনই আশঙ্কার সুর শোনা গেল ইজরায়েলের মিলিটারি চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের গলায়। চলতি সপ্তাহে দেশের মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দিয়ে মোট দশটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামির। তিনি জানিয়েছেন, ইজরায়েলি বাহিনীতে সেনার সংখ্যা ক্রমশ কমছে। তার সঙ্গেই যুদ্ধের জন্য অন্যান্য খরচও ক্রমশ বাড়ছে।
সেনাপ্রধান মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন, আইডিএফের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা সংক্রান্ত আইন, সংরক্ষিত বাহিনী সংক্রান্ত আইন এবং সেনায় বাধ্যতামূলক সেবার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আইন আনা প্রয়োজন। নাহলে অদূর ভবিষ্যতে আইডিএফ আর কোনো সামরিক অভিযান চালানোর জন্য প্রস্তত থাকবে না। রিজার্ভ বাহিনীর ব্যবস্থাও ভেঙে পড়বে।
সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই ইজরায়েলের অন্দরে হইচই শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, সরকার দেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদাসীন। দেশের অতি-রক্ষণশীল গোষ্ঠীর পুরুষদের অবিলম্বে সেনায় বাধ্যতামূলকভাবে যোগদান করতে বলা হোক। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাফতালি বেনেটের বক্তব্য, ‘ইজরায়েলের নেতৃত্বই আইডিএফকে যুদ্ধে জিততে দিচ্ছে না। আইডিএফে এখন ২০ হাজার সেনার ঘাটতি রয়েছে। অথচ অতি-রক্ষণশীল হারদিম সম্প্রদায়ের এক লক্ষ তরুণকে সেনায় যোগ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে না। ওদের এক-পঞ্চমাংশকে নিয়োগ করলেও সমস্যা মিটে যাবে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইন প্রণয়নের জটিলতার জন্যই সেনায় নিয়োগে দেরি হচ্ছে। জামিরের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বলেও নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
২০২৩ সাল থেকে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে ইজরায়েলি সেনা। তার সঙ্গেই ইরান, লেবাননে হিজবুল্লা, ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধেও একইসঙ্গে লড়াই করে চলেছে তারা। টানা যুদ্ধের ফলে ইজরায়েলি সেনার একাংশ মানসিকভাবেও ক্লান্ত হয়ে পড়েছে বলে খবর। গত জানুয়ারিতেও সেনার সংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে নেতানিয়াহুকে চিঠি লিখেছিলেন চিফ অব স্টাফ। মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকে আইডিএফের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আভি ব্লুথও একই বিষয় নিয়ে সরব হয়েছেন। ইজরায়েলের বিরোধী দলনেতা ইয়াইর লাপিদ বলেন, ‘কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই একসঙ্গে একাধিক ফ্রন্টে সেনাকে যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে। প্রতিটি ফ্রন্টে সেনা কমছে। সেনাপ্রধানই যখন এমন কথা বলছেন, তখন সরকার দায় এড়াতে পারে না।’ শনিবার নতুন উদ্যমে প্রতিবেশী দেশে মার্কিন পরিকাঠামোয় হামলা চালাল ইরান। দুবাই, কুয়েতের মতো জায়গায় হামলা চালানোর পাশাপাশি উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের সতর্ক করা হয়েছে।