Bartaman Logo
১২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

গাজায় ফের ইজরায়েলের হানা সরকারের প্রধান সহ হত ৪১৩

ঈদের আগে রক্তাক্ত গাজা। হামাসের সঙ্গে দ্বিতীয়বার যুদ্ধবিরতি নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে ভয়াবহ বিমানহানা চালাল ইজরায়েল।

গাজায় ফের ইজরায়েলের হানা সরকারের প্রধান সহ হত ৪১৩
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

গাজা স্ট্রিপ: ঈদের আগে রক্তাক্ত গাজা। হামাসের সঙ্গে দ্বিতীয়বার যুদ্ধবিরতি নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে ভয়াবহ বিমানহানা চালাল ইজরায়েল। মঙ্গলবার ভোররাতের এই হামলায় মৃত্যু হয়েছে ৪১৩ জনের। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গাজা সরকারের প্রধান ইসাম-আল-দালিস, অভ্যন্তরীণ মন্ত্রকের প্রধান মহম্মদ আবু ওয়াতফা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান বহজাত আবু সুলতান। পরিবার সহ এরা মারা গিয়েছেন। এছাড়াও বহু গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক হতাহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫০ জন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। যদিও তেল আভিভের দাবি, হামাসের ঘাঁটি লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। এদিনের হামলার পর বন্দিদের খুন করা হবে বলে ইজরায়েলকে পাল্টা  হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে হামাস। 

Advertisement

গত ১৫ জানুয়ারি আমেরিকা, কাতার ও মিশরের উদ্যোগে ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। যার মেয়াদ ছিল ১৯ জানুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত। সেই সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন চলতে থাকে। তবে দ্বিতীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে হামাস সাড়া দেয়নি বলে অভিযোগ ইজরায়েলের। তারপর থেকে একাধিক পন্থা নেয় নেতানিয়াহুর সরকার। গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ, ত্রাণ, ওষুধ পাঠানো আটকে দিয়ে হামাসকে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর জন্য চাপ দিতে থাকে। যদিও তাতে এখনও সাড়া দেয়নি হামাস। তারপরই এদিন বড়সড় হামলা চালাল ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, অপহৃতদের ছাড়তে অস্বীকার করেছে হামাস। তাছাড়া মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং মধ্যস্থতাকারীদের সবরকম প্রস্তাব মানতেও তারা রাজি হয়নি। গাজায় হামলার আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট। হোয়াইট হাউস সাফ জানিয়েছে, পণবন্দিদের মুক্তি না দিয়ে যুদ্ধ ডেকে আনছে হামাস। হামলা নিয়ে ইজরায়েলকে এদিন পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হামাসের মুখপাত্র আব্দুল লতিফ আল-কোয়ানু বলেন, নেতানিয়াহু ফের নতুন করে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ আরও প্রশস্ত হল। 
এদিন গাজার ডের আল বালাহ, খান ইউনুস, রাফা সহ একাধিক স্থানে হামলা চালায় আইডিএফ। সকাল থেকেই গাজার হাসপাতালগুলিতে আসতে থাকে একের পর এক লাশ। পর্যাপ্ত বেড পরিষেবা না থাকায় আহতদের ঠাঁই হয়েছে হাসপাতালের মেঝেতে। যন্ত্রণায় ছটফট করছে শিশুরা। পবিত্র রমজান মাসে স্বজনদের হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন গাজাবাসী। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ