


ডালাস: স্ত্রী-পুত্রের সামনেই এক ভারতীয় ব্যবসায়ীকে এলোপাথারি চপারের কোপ মেরে কেটে নেওয়া হল মাথা। হাড়হিম করা এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে আমেরিকায়, ডালাস শহরে। জানা যাচ্ছে, নিহত ব্যক্তির নাম চন্দ্রমৌলি নাগামাল্লিয়াহ (৫০)। আদতে কর্ণাটকের বাসিন্দা চন্দ্র ডালাসে একটি ছোট হোটেল চালান। সেই হোটেলেই কাজ করত কিউবান অভিবাসী ইয়োর্দাস কোবোস মার্তিনেজ (৩৭)। বৃহস্পতিবার চন্দ্রের সঙ্গে আচমকাই বচসায় জড়িয়ে পড়ে অভিযুক্ত। তার পরেই পার্কিং লটে নৃশংসভাবে খুন করে নাগামাল্লিয়াহকে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, মার্তিনেজকে ভাঙা ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার করতে নিষেধ করেছিলেন চন্দ্র। তবে কিউবান যুবককে সরাসরি সেকথা না বলে অন্য একটি কর্মীকে বক্তব্যের তর্জমা করার নির্দেশ দেন। এর পরেই মেজাজ হারায় মার্তিনেজ। চাপাতি বের করে চন্দ্রের দিকে তেড়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে সামনের অফিসের দিকে আসার চেষ্টা করেছিলেন বছর পঞ্চাশের ওই ভারতীয়। কিন্তু পার্কিং লটে তাঁকে ধরে ফেলে মার্তিনেজ।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, নাগামাল্লিয়াহকে এলোপাথারি কোপ মারতে শুরু করে মার্তিনেজ। চিৎকার শুনে স্ত্রী ও পুত্র তাঁকে বাঁচাতে ছুটে আসে। তাঁদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় মার্তিনেজ। পরে একটি বেসবল ব্যাট হাতে বাবাকে বাঁচাতে ছুটে আসতে দেখা যায় ছেলেকে। ততক্ষণে সব শেষ। এই সময়ে মৃতের পকেট থেকে ফোন ও কি-কার্ড বের করে নিতে দেখা যায় মার্তিনেজকে। চন্দ্রমৌলির মৃত্যুর পর তাঁর কাটা মাথায় লাথি মারতে দেখা যায় কিউবান যুবককে। অপর একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, নাগামাল্লিয়াহর কাটা মাথা হাতে আর্বজনা স্তূপের দিকে যাচ্ছে মার্তিনেজ।
এই ঘটনায় চন্দ্রমৌলির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। খুনের ঘটনাকে ‘হৃদয় বিদারক’ বলে মন্তব্য করে এক্স হ্যান্ডলে লিখেছে, ‘ভারতীয় দূতাবাস মৃতের পরিবারের সঙ্গে রয়েছে। আমরা তাঁদের সবরকম সাহায্য করছি। অভিযুক্তকে ডালাস পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি।’ সূত্রের খবর, খুনে অভিযুক্ত কোবোস মার্তিনেজের নামে আগেও অপরাধের অভিযোগ ছিল। গাড়ি চুরি ও হেনস্তার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। চন্দ্র নাগামাল্লিয়াহ। ছবি: সমাজমাধ্যম