প্রীতম দাশগুপ্ত: অম্ল-মধুর। ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ইতিহাস এমনই। স্বাধীন ভারতের বুনিয়াদি শিল্প গড়তে প্রথমে মার্কিন হাতই ধরতে চেয়েছিলেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। ১৯৪৯ সালের ১৩ অক্টোবর প্রথমবার মার্কিন সফর করেন নেহরু। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে হ্যারি ট্রুম্যান। আমেরিকা-রাশিয়া ঠান্ডা যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকার কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নেহরু। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের অগ্রণী ভূমিকার সেই শুরু। এই ঘটনাই ঠান্ডা যুদ্ধ চলাকালীন ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের একটা সুর বেঁধে দিয়েছিল। আসলে দু’দেশের সম্পর্কের মধ্যে একটা শীতলতা তখন থেকেই তৈরি হয়েছিল। আর সেই শীতল সম্পর্কের হাত ধরেই ঘনিষ্ঠতা বেড়েছিল দিল্লি-মস্কোর। যে সম্পর্ক উত্তরোত্তর বেড়েছে। অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন নামে দিল্লির একটি গবেষণা সংস্থা বলছে, ভারতের বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন, রাশিয়াই ভারতের ভরসাযোগ্য বন্ধু। আমেরিকা পাকিস্তানের প্রতি বেশি দুর্বল।
নেহরুর মার্কিন সফরের ১০ বছর পরে ১৯৫৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ভারতে এসেছিলেন মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনে অনুপ্রাণিত ছিলেন তিনি। একমাস ব্যাপী এই সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রী নেহরু, গান্ধীর পরিবার ও বন্ধু এবং বিভিন্ন পণ্ডিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে লুথার কিং বলেছিলেন, এই সফর তাঁর অহিংস আন্দোলনের প্রতিশ্রুতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে। ওই বছরেরই শেষের দিকে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভারত সফর করেছিলেন আইজেনওয়ার। সফরে তিনি কথা বলেছিলেন রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ ও প্রধানমন্ত্রী নেহরুর সঙ্গে। একইসঙ্গে সংসদে ভাষণও দেন তিনি।
কৃষি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে এই সফরগুলির সুফল ভারত পেয়েছিল। ভারতের প্রথম সারির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইটি থেকে শুরু করে কৃষি ক্ষেত্রে সবুজ বিপ্লবে মার্কিন অবদান অস্বীকার করা যায় না। নয়টি আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) ভারতের প্রথম দিকের একটি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য সহায়তা করে। কানপুর ইন্দো-আমেরিকান প্রোগ্রামের অধীনে, আমেরিকান অধ্যাপকরা এক দশক ধরে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা সংক্রান্ত নানাবিধ কর্মসূচি ও গবেষণাগার তৈরি করেন। ভারতের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল আমেরিকা।
ভারতের কৃষি বিপ্লবের জনক বলা হয় বিজ্ঞানী এম এস স্বামীনাথনকে। কিন্তু ক’জন জানেন মার্কিন কৃষি বিজ্ঞানী নরম্যান বোরল্যাগের কথা। ১৯৬৩ সালে ভারতে এসেছিলেন তিনি। তাঁর ও স্বামীনাথনের উদ্যোগেই ভারতে কৃষি বিপ্লব সংগঠিত হয়েছিল। খাদ্যে আত্মনির্ভরতার ধারণা প্রথম তৈরি হয়েছিল সেই সময়েই। ভারত-মার্কিন সুসম্পর্কের এই ভিত্তিই কৃষি ক্ষেত্রে ভারতকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলেছিল।
হিন্দি-চিনি ভাই ভাইয়ের সম্পর্ক শেষে ১৯৬২ সালেই সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ভারত ও চীন। যুদ্ধে ভারতকে সরাসরি সমর্থন করেছিল আমেরিকা। যুদ্ধে সমর্থনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিকে চিঠি লিখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নেহরু। কেনেডি শুধু ভারতের অবস্থানকেই সমর্থন করেননি, প্রয়োজনীয় যুদ্ধ সরঞ্জামও পাঠিয়েছিলেন। ম্যাকমোহন লাইন-ই যে ভারত-চীন প্রকৃত সীমান্তরেখা, সে ঘোষণাও করেছিলেন কেনেডি। কেনেডি হত্যার পরেই দু’দেশের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। বিশেষ করে ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে প্রথমবার পাকিস্তানের প্রতি মার্কিন সমর্থন পাল্টে দিয়েছিল দু’দেশের সম্পর্কের রসায়ন। ভারত আরও বেশি করে ঢলে পড়েছিল রাশিয়ার দিকে।
এরপর ১৯৭১ সালে ফের ভারত-পাক যুদ্ধ ও ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জন্ম। এই যুদ্ধেও আমেরিকা সরাসরি পাশে দাঁড়িয়েছিল পাকিস্তানের। এমনকী ভারতকে সবক শেখাতে তাদের সপ্তম নৌবহর রওনা দিয়েছিল। সেই সময় মার্কিন তখতে নিক্সন। বস্তুত ছয়ের দশকের শেষার্ধ থেকে ভারতের অবস্থানের যে পরিবর্তন শুরু হয়েছিল, তা এই সময় আরও তীব্র হয়। আমেরিকা পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোয় ভারতও তার এতদিনের জোট নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে আসে। নেহরু জমানায় ঠান্ডা যুদ্ধে নিরপেক্ষতার যে নীতি ছিল, সেখান থেকে সরে এসে ভারত রাশিয়ার সঙ্গে মিত্রতার সম্পর্ক গড়ে তোলে। সাতের দশকেই রাশিয়ার সঙ্গে ২০ বছরের মৈত্রী ও বন্ধুত্বের চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এর সুফল অবশ্য ভারত পেয়েছিল ’৭১-এর যুদ্ধেই। রুশ নৌবাহিনীর হুমকির মুখে সরে এসেছিল মার্কিন সপ্তম নৌবহর। এই ঘটনার তিন বছর পর প্রথম সফল পরমাণু পরীক্ষা করে ভারত। পাঁচ শক্তিধর রাষ্ট্রের বাইরে সেটাই ছিল প্রথম কোনও দেশের পরমাণু পরীক্ষা। ভারত-মার্কিন সম্পর্কের অবনতি তখন চরম জায়গায়। পরমাণু পরীক্ষা করায় ভারতের উপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছিল আমেরিকা। ১৯৭৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে পরাস্ত হলেন লৌহমানবী ইন্দিরা গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী হলেন মোরারজি দেশাই। ভারত-মার্কিন সম্পর্ক মেরামত করতে উদ্যোগী হলেন তিনি। ১৯৭৮ সালের জানুয়ারিতে ভারত সফরে আসেন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডি ও প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইয়ের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি সংসদে ভাষণও দেন তিনি। সেই বছরই জুনে ছ’দিনের মার্কিন সফর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সেই উদ্যোগ খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি। কারণ ভারত ততদিনে পরমাণু শক্তিধর দেশ। আর আমেরিকা চাইছিল ভারতকে আন্তর্জাতিক আইনের নাগপাশে বেঁধে ফেলতে। জিমি কার্টার প্রশাসন ১৯৭৮ সালেই তৈরি করে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি। বলা হয়, এই চুক্তিতে যে সব দেশ সই করবে না, তাদের পরমাণু রিঅ্যাক্টরগুলি পরিদর্শন করতে পারবে আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএইএ। এর লক্ষ্য নিশ্চিতভাবেই ছিল ভারত। কিন্তু নয়াদিল্লি ওই শর্ত মানতে প্রস্তুত ছিল না। মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ভারতের সঙ্গে যাবতীয় পরমাণু সহায়তা সম্পর্ক ছিন্ন করে ওয়াশিংটন। সোজা কথায়, ভারতকে একঘরে করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
১৯৮০ সালে ক্ষমতায় ফেরেন ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৮২ সালের জুলাই মাসে মার্কিন সফরে গিয়ে সম্পর্কের ক্ষত সারানোর উদ্যোগ নেন তিনি। হোয়াইট হাউসে ভাষণ দিতে গিয়েও দ্বিপাক্ষিক মতপার্থক্য দ্রুত মিটিয়ে নেওয়ার বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে সেই সময় তারাপুর পরমাণু কেন্দ্রের কাঁচামাল অর্থাৎ লো ইনরিচড ইউরেনিয়াম পাওয়া মুশকিল হচ্ছিল। এর বছর দুই পরেই দেহরক্ষীর গুলিতে প্রাণ হারান ইন্দিরা গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী হন রাজীব গান্ধী। সেই বছরই ভোপালে ভয়াবহ গ্যাস দুর্ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত সংস্থা ছিল মার্কিন বহুজাতিক ইউনিয়ন কার্বাইড। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যতটা উন্নতি হয়েছিল, এই ঘটনার জেরে তা ফের কয়েক কদম পিছিয়ে যায়। ১৯৯১ সালে ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী হন কংগ্রেসের পি ভি নরসিমা রাও। অর্থমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং। শুরু হয় ভারতীয় অর্থনীতিতে এক নতুন যাত্রা। উদারনীতির এই যুগ ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসারিত করতে সাহায্য করে। এই ঘটনার সাত বছর পরে ১৯৯৮ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ ক্ষমতায় থাকার সময় পোখরানে দ্বিতীয়বার পরমাণু পরীক্ষা করে ভারত। মার্কিন গোয়েন্দারা ঘুণাক্ষরেও সেই ঘটনা টের পায়নি। এই পরীক্ষা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করে। মার্কিন আইন মেনে ভারতের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। ২০০০ সালে ভারতে আসেন বিল। ১৯৭৮ সালের পর আবার কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারত সফর। তাঁর এই সফরই অচলাবস্থা কাটাতে সাহায্য করে। এর এক বছর পরেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লু বুশ। ২০০৫ সাল। ভারত-মার্কিন সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়। এই বছরের জুনে দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় প্রতিরক্ষা চুক্তি। অক্টোবরে হয় নৌ-মহড়া। শুধু তাই নয়, দ্বিপাক্ষিক পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির খসড়াও তৈরি হয় ওই বছর। চুক্তি মোতাবেক ভারত তাদের অসামরিক ও সামরিক পরমাণু কেন্দ্রগুলিকে আলাদা করতে সম্মত হয়। এমনকী অসামরিক কেন্দ্রগুলিতে আন্তর্জাতিক সংস্থার নজরদারিতেও রাজি হয় মনমোহন সিং সরকার। ২০০৮ সালের অক্টোবরে এই চুক্তি অনুমোদন পায়। সেই বছরই ভারত প্রথম চন্দ্রযান অভিযান করে। ইসরোর এই কর্মকাণ্ডে নাসার সহযোগিতা ছিল। অন্তত দু’টি সরঞ্জাম ছিল মার্কিন সংস্থার। চাঁদের মাটিতে জলের উপস্থিতি টের পাওয়ার ক্ষেত্রে ওই সরঞ্জামের ভূমিকা ছিল। এর আগেই অবশ্য ২০০৬ সালে মনমোহন সিং ও প্রেসিডেন্ট বুশের মধ্যেকার আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জট অনেকটাই কাটে। ভারত হার্লের বাইক ভারতে ঢোকার ক্ষেত্রে অনেকটাই শুল্ক ছাড় দেয়। বিনিময়ে ১৮ বছরের ফল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আমেরিকায় আম পাঠায় ভারত। ২০০৮ সালের নভেম্বরে মুম্বই হামলার তদন্তেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই। বারাক ওবামা যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তখনও সম্পর্ক ইতিবাচক ছিল। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য পদে ভারতের দাবিকে সমর্থন করে আমেরিকা। ওবামা জমানায় তিনবার দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সেরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় আসার পরে তাঁকে আমেরিকায় আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ওবামা। ২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গার পর রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদির আমেরিকা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রথমবার আমেরিকা সফর করেন ২০১৪ সারে ২৬ সেপ্টেম্বর। ওবামার সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে চুক্তিও সেরে ফেলেন মোদি। পরের বছরই দ্বিতীয়বারের জন্য ভারত সফরে আসেন ওবামা। দিল্লিতে এসে তিনি বলেন, আমেরিকা ভারতের সবচেয়ে বড় সহযোগী হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্টকেও মোদি মাই ফ্রেন্ড বারাক বলে উল্লেখ করেছিলেন। ওই বছরই ভারতকে আমেরিকার সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা সহযোগী বলেন ওবামা।
ওবামা পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাণিজ্য থেকে এইচ-১বি ভিসা বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের অবস্থানের বিরোধী ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু মোদির সঙ্গে প্রথমবারের বৈঠকে এসব এজেন্ডাতেই ছিল না। তবে ২০১৯ সালের জুনে প্রথমবার ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের বিশেষ ট্রেড পার্টনারের স্টেটাস বাতিল করে দেয়। ১৯৭০ থেকে ওই সুবিধা ভোগ করছিল নয়াদিল্লি। এক সপ্তাহের মধ্যে ২৮টি মার্কিন পণ্যে শুল্ক চাপায় ভারত। অর্থাৎ প্রথম ট্রাম্প জমানাতেই শুরু হয়েছিল বাণিজ্য যুদ্ধ। দ্বিতীয় ট্রাম্প জমানাতে তা আরও তীব্র হয়েছে। প্রথমে ২৫ শতাংশ পরে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আসলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি আমেরিকাকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দিতে বাধ্য করেছে। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেস ৯৫ বিলিয়ন ডলারের অনুদান প্যাকেজ অনুমোদন করেছিল। এর মধ্যে মাত্র ৮ বিলিয়ন ডলার ছিল ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য। অর্থাৎ চীনকে কাউন্টার করার জন্য। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে চীন যখনই আবার আমেরিকার প্রথম শত্রুপক্ষ হয়ে উঠবে, ভারতের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে। কারণ রাশিয়ার তেল কেনাই যে শুল্ক বৃদ্ধির একমাত্র কারণ নয় সেটা তো স্পষ্ট। প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেট্টি তো বলেই দিয়েছেন, আমাদের নির্দেশেই ভারত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বাড়িয়েছিল। সম্প্রতি মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও বলেছেন, চীনও রাশিয়ার তেল কেনে। কিন্তু ওদের উপর শুল্ক চাপালে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাবে। ইউরোপও সেটা চায় না।