


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আপাতত পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি। তারপর আগামী তিন বছরের মধ্যেই তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির রাষ্ট্রে পরিণত হবে ভারত। নীতি আয়োগ সম্প্রতি জানিয়েই দিয়েছে যে, এখনই নাকি জাপানকে পিছনে ফেলে ভারত চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। এই উচ্চকিত প্রচারের মধ্যেই ভারত সফরে এসেছেন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট। রবিবার বৈঠকও করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। আর তারপরই জানা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক অথবা আর্থিক সংস্থাগুলি থেকে ঋণ নিয়ে উন্নয়নের প্রবণতা আগের মতোই অব্যাহত। বস্তি উন্নয়ন, নিকাশি, পরিবহণ উন্নতি, পরিকাঠামোর সংস্কার, পানীয় জলের পাইপলাইন ইত্যাদি নগরোন্নয়ন প্রকল্পে বহু বছর ধরেই ভারত সরকার এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের থেকে ঋণ নিয়ে এসেছে। ২০২৫ সালে এসে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি ভাষণে যেখানে বিকশিত ভারতের স্লোগান, সেখানে ফের ঋণ নেওয়ার পথই বজায় থাকছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক থেকে ১ হাজার কোটি ডলার ঋণ নিচ্ছে ভারত। ৫ বছরের সময়সীমায় যে ঋণ দেওয়া হবে, সেটি কাজে লাগানো হবে শহুরে পরিকাঠামো, মেট্রো রেলের নতুন কাঠামো নির্মাণ, নতুন রিজিওনাল র্যাপিড ট্র্যানজিট সিস্টেম, ট্রান্সপোর্ট করিডর ইত্যাদি প্রকল্পে। একইসঙ্গে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক বেসরকারি লগ্নিতেও সহায়তা করবে। আরবান চ্যালেঞ্জ ফান্ড প্রকল্পে দেশের ১০০টি শহরকে চিহ্নিত করে নগরোন্নয়ন এবং পানীয় জল ও নিকাশি প্রকল্পে টাকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক রাজ্য এবং পুরসভাগুলির প্রকল্পেও ৩০ লক্ষ ডলার আর্থক সহায়তা দেবে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের সঙ্গে বৈঠকে ভারত জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ থাকবে শহরাঞ্চলে। তাই আগামী ৫ বছরের জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শহরাঞ্চলের পরিকাঠামো আমূল বদলে ফেলতে হবে। জল নিকাশি, আবাসন এবং কর্মসংস্থান প্রধান টার্গেট।
প্রশ্ন উঠছে, ভারত ১১ লক্ষ কোটি টাকা পরিকাঠামো খাতে ব্যয় করবে বলে বিগত দুই বাজেটেই ঘোষণা করা হয়েছে। সেই টাকা কি এভাবে আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক এবং আর্থিক সংস্থা থেকে নেওয়ার পরিকল্পনাই করা হয়েছে? তাহলে বাজেটে যে ১১ লক্ষ কোটি টাকা ঘোষণা করা হচ্ছে সেটা কী কারণে? বুলেট ট্রেনের ব্যয়ও আসছে জাপানের ঋণে। ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের নির্মাণ ব্যয় চলছে জাপানের আর্থিক সংস্থার ঋণে। ভারত একদিকে বলছে তারা দ্রুত হবে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি, আবার অন্যদিকে এখনও নগরোন্নয়নের মতো মূলগত উন্নয়ন প্রকল্পেও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের ঋণ ভরসা?