Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

বাড়তি নিরাপত্তা, টেনশনের আবহে নজরে পাকিস্তান হাইকমিশন ভবন

ঘটনাচক্রে সিরসা থেকে দিল্লি মাত্র আড়াইশো কিলোমিটারের কিছু বেশি

বাড়তি নিরাপত্তা, টেনশনের আবহে নজরে পাকিস্তান হাইকমিশন ভবন
  • ১১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শনিবার সকাল থেকেই দিল্লিতে চাপা টেনশন। কারণ এদিন সকালেই হরিয়ানার সিরসায় উদ্ধার হয়েছে একটি পাক মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ। ঘটনাচক্রে সিরসা থেকে দিল্লি মাত্র আড়াইশো কিলোমিটারের কিছু বেশি। দিল্লিবাসীর মনে প্রশ্ন, খুব শীঘ্রই কি তাহলে রাজধানী শহরেও মিসাইল উড়ে আসতে চলেছে? শনিবার এমনিতেই ছুটির দিন। দিল্লির রাজপথে যানবাহন তুলনায় কম চলাচল করে। কিন্তু এদিন গাড়িঘোড়ার সংখ্যা আরও কমে গিয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বিশেষ কেউ বেরননি। সকাল থেকেই রীতিমতো থমথমে পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়েছে দিল্লির চাণক্যপুরীতে শান্তিপথ এলাকায়। এই চত্বরে প্রধানত বিভিন্ন দেশের দূতাবাস এবং হাইকমিশনের কার্যালয় অবস্থিত। যদিও এই মুহূর্তে আপাত শান্ত শান্তিপথে অন্যতম প্রধান ‘দ্রষ্টব্য’ই হল ২/৫০জি’র বাড়িই। দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের ঠিকানা। 

Advertisement

পুলিসকর্মীদের টহল, প্রোটোকল মেনে গার্ডরেলের ব্যারিকেড— সবমিলিয়ে এখানে সেই চাপা টেনশনের আবহই ছড়িয়ে রয়েছে। যেন তামাম দিল্লির দমচাপা পরিবেশ কেন্দ্রীভূত হয়েছে এই একটিমাত্র ঠিকানায়। খাতায় কলমে কোনও সরকারি নির্দেশ অবশ্য নেই। তবুও নির্দিষ্ট করে এই বাড়ির সামনে মোবাইলে ছবি তুলতে গেলে পুলিসকর্মীদের বাধার সম্মুখীন হতেই হবে। এলাকায় কিছুক্ষণ উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি করলেই আপনি সটান চলে যেতে পারেন সন্দেহভাজনের তালিকায়। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনার আবহে শান্তিপথের ২/৫০জি’র বাড়ি যেন একটুকরো ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’এ পরিণত হয়েছে! 
শনিবার দিল্লিতে পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনে পৌঁছে দেখা গেল, প্রমাণ সাইজের ইলেকট্রিক ল্যাডার লিফ্টে চলছে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ইনস্টলেশনের কাজ। তদারকিতে ব্যস্ত তিনজন পুলিসকর্মী। ‘এখানে কি সিসিটিভি ক্যামেরা আগে ছিল না?’ প্রশ্ন করায় অবশ্য কিছুটা এড়িয়ে গেলেন তাঁরা। জবাবে বললেন, ‘ছিল। আরও সিসিটিভি ক্যামেরা ইনস্টল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।’ অর্থাৎ, পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনে আরও বেশি নজরদারি। এবং আরও বেশি টেনশনের বাতাবরণ। যদিও এদিন বিকেলের পর কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন দিল্লির আমজনতা। কারণ জানা গিয়েছে, ভারত এবং পাকিস্তান দু’দেশই আপাতত যুদ্ধবিরতিতে সায় দিয়েছে। শনিবার বিকেল ৫টা থেকেই দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন বটে সাধারণ মানুষ। তবুও না আঁচালে যে পাকিস্তানকে বিশ্বাস করা যায় না। রাতেই ফের শুরু হয়েছে গোলাগুলি।

সম্পর্কিত সংবাদ