Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মহানগরে বেআইনি নির্মাণ সম্পূর্ণ বন্ধ, রাজ্যের বাকি পুরসভাকেও একই নিয়ম মানতে নির্দেশ

বেআইনি বিল্ডিং নির্মাণের কাজ কলকাতায় পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে। যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাতে আগামী দিনে বেআইনি নির্মাণ আর হবে না।

মহানগরে বেআইনি নির্মাণ সম্পূর্ণ বন্ধ, রাজ্যের বাকি পুরসভাকেও একই নিয়ম মানতে নির্দেশ
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেআইনি বিল্ডিং নির্মাণের কাজ কলকাতায় পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে। যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাতে আগামী দিনে বেআইনি নির্মাণ আর হবে না। বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করতে কলকাতা পুরসভা যে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে, তা রা঩জ্যের অন্য পুরসভাগুলিতেও কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিধানসভায় পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের বাজেট নিয়ে আলোচনার জবাবি ভাষণে একথা জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। 

Advertisement

পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, বেআইনি নির্মাণের সমস্যাটি ‘উত্তরাধিকার সূত্রেই’ তাঁদের উপর চেপেছে। বাম সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে যাদবপুর, গার্ডেনরিচ, বেহালা ও টালিগঞ্জ পুরসভাকে কলকাতা পুর কর্পোরেশনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সাবেক পুরসভাগুলিতে বিল্ডিং প্ল্যান ছাড়াই বাড়ি নির্মাণ চলত। ওইসব এলাকা কলকাতা পুরসভার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরও দীর্ঘদিন তার বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেস পুরক্ষমতা পাওয়ার পর এসব এলাকায় বিল্ডিং প্ল্যান অনুযায়ী নির্মাণ কাজ করার চেষ্টা হলেও কিছু সমস্যা যে রয়ে গিয়েছিল, তা মেনে নিয়েছেন মন্ত্রী। তবে গত বছর মার্চে গার্ডেনরিচে বাড়ি ভেঙে পড়ে মৃত্যুর ঘটনার পর পুরসভা যে ব্যবস্থা  নিয়েছে, তাতে বেআইনি নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের সাব অ্যাসিস্ট্যন্ট ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ই-লগ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সেখানে নথিভুক্ত করে তাঁদের কোনও জায়গায় পরিদর্শনে গিয়ে নির্মীয়মাণ বাড়ির ছবি তুলতে হয়। ওই ছবি থেকে তাঁর ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা দেখে নেন, নির্মাণ কাজ আইনমাফিক চলছে কি না। এটা সাধারণ মানুষও যাতে জানতে পারেন, তার জন্য এটা অন লাইনে দেওয়া হয়। গার্ডেনরিচের ঘটনার পর বেআইনি নির্মাণের জন্য ৫০০টি এফআইআর এবং হাজারখানেক নোটিস পাঠানো হয়েছে। 
কেন্দ্রীয় সরকার চাপ দিলেও রাজ্যের পুরসভাগুলিতে জলের উপর কর বসানো হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন পুরমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান না, জলের উপর কর বসিয়ে গরিব মানুষের আর্থিক বোঝা বাড়াতে। তবে জলের অপচয় বন্ধ করার জন্য নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। ফুরফরা শরিফ এলাকায় জল সরবরাহ প্রকল্প চালু না-হওয়ার যে অভিযোগ নৌশাদ সিদ্দিকি তুলেছিলেন, তথ্য পরিসংখ্যান সহকারে তা খণ্ডন করেন পুরমন্ত্রী। 

সম্পর্কিত সংবাদ