


ওয়াশিংটন: মাদক পাচারের অভিযোগ। তাই নিকোলাস মাদুরোকে একেবারে বেডরুম থেকে সস্ত্রীক তুলে নিয়ে গিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের ঠাঁই হয়েছে নিউ ইয়র্কের জেলে। তাহলে কি মাদুরোর দশা অপেক্ষা করছে ভ্লাদিমির পুতিনের জন্যও? জল্পনাটা উসকে দিয়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। কারণ, রুশ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে রেখেছে দ্য হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। তাই মাদুরো বন্দি হওয়ার পরপরই জেলেনস্কির ইঙ্গিতবাহী একটি মন্তব্য সামনে আসে। শুরু হয় তীব্র জল্পনা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, কোনও স্বৈরাচারীর পরিণতি যদি এটাই হয়, তাহলে আমেরিকা জানে পরের পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত। জেলেনস্কির ইঙ্গিত যে পুতিনের দিকেই, তা বুঝতে কারও বাকি ছিল না। জেলেনস্কির কথার রেশ ধরেই শুক্রবার এই ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন ফক্স নিউজের এক সাংবাদিক। তাঁর প্রশ্ন ছিল, পুতিনকেও কি মাদুরোর মতো ভবিষ্যতে বন্দি করার কথা বিবেচনা করতে পারে আমেরিকা? জবাবে ট্রাম্প বলেন, এটা সত্যি যে তিনি খুবই হতাশ। তবে, আমার মনে হয় না পুতিনকে বন্দি করার জন্য অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন হবে।
ভেনেজুয়েলা, গ্রিনল্যান্ড থেকে ইরান— বারবার হুমকি ও আগ্রাসী মনোভাব দেখিয়ে চলেছেন ট্রাম্প। একধাপ এগিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সদর্পে ঘোষণা করেছেন, তিনি আন্তর্জাতিক আইনের পরোয়াই করেন না। সীমারেখা নির্ধারণ করেন ‘নিজস্ব নৈতিকতা’য়। ‘আমেরিকার স্বার্থে’ কতদূত এগোনো হবে বা কোথায় থামা উচিত তা নির্ধারণ করবেন তিনিই। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই জল্পনা শুরু হয়, তাহলে কি পুতিনকেও এবার বন্দি বানানোর জন্য ঘুঁটি সাজাচ্ছে আমেরিকা? জেলেনস্কির মন্তব্য কি সত্যিই সেই পরিকল্পনার ইঙ্গিত? হোয়াইট হাউসে আমেরিকার তেল ও গ্যাস সংস্থাগুলির শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের ফাঁকেই এবিষয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্নটি করা হয়েছিল। তবে সেই সম্ভাবনা খারিজই করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আমার মনে হয়, আমাদের সঙ্গে তাঁর (পুতিন প্রসঙ্গে) সম্পর্ক খুবই ভালো। তবে আমি খুবই হতাশ। আটটা যুদ্ধ থামিয়েছি। ভেবেছিলাম এটাও মীমাংসার কাছাকাছি চলে এসেছে, বিশেষ কঠিন হবে না। গত মাসেও ওরা ৩১ হাজার মানুষকে হারিয়েছে। তাদের অনেকেই রুশ সেনা। রাশিয়ার অর্থনীতির হাল খুব খারাপ। আমার মনে হচ্ছে এবার এই যুদ্ধ বন্ধের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। আরও আগে হলে ভালো হত। কারণ প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে। অধিকাংশই সেনা।’