


নয়াদিল্লি: ‘দিদি চাহিদামতো টাকা দিয়ে দিলে, খুন করতাম না। ওকে মারতেও চাইনি। কিন্তু (ঘটনাটা) কোনোভাবে হয়ে গেল।’ জেরায় এমনটাই স্বীকারোক্তি দিল্লিতে আয়কর দপ্তরে কর্মরত আইআরএস অফিসারের কন্যাকে ধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত রাহুল মীনার। বুধবার দিল্লির কৈলাস হিলস এলাকার হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাহুলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে গোটা ঘটনার পুনর্নিমাণ করা হবে। অভিযুক্তের মানসিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে হবে সাইকো অ্যানালিসিস টেস্টও।
পুলিশ সূত্রে খবর, দিল্লিতে খুন ও ধর্ষণকাণ্ডের আগের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার আলওয়ারের এক বন্ধুর বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিল ধৃত অভিযুক্ত। সেখানেই বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণ করে রাহুল। এরপর আলওয়ার থেকে সে পাড়ি দেয় দিল্লিতে। আয়কর কর্তার পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাপন সম্পর্কে অবগত ছিল রাহুল। তদন্তকারীদের সে জানিয়েছে, ‘আমি টাকা চুরি করতেই ওই বাড়িতে ঢুকেছিলাম। কিন্তু দিদি (নির্যাতিতা) চিৎকার করতে শুরু করে। আমায় বাধা দেয়। তখন আমি ওকে ল্যাম্পশেড দিয়ে আঘাত করি। ও জ্ঞান হারায়।’ প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অজ্ঞান যুবতির গলায় মোবাইল চার্জার পেঁচিয়ে খুন করে সে। তারপর তাঁকে ধর্ষণ করে। রক্তাক্ত দেহ টেনে নিয়ে যায় নীচের একটি ঘরে। সেখানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে লকার খোলার চেষ্টা করে। কিন্তু নির্যাতিতার ফিঙ্গারপ্রিন্ট কাজ করেনি। একটি স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে লকার খুলে টাকা ও গহনা লুঠ করে রাহুল।
অভিযুক্তের চোখে মুখে কোনো অপরাধবোধ নেই বলেই জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সে বরাবরই শান্ত ও সংযত থেকেছে। একাধিকবার বয়ানও বদল করেছে। বারবার তদন্তকারীদের বলেছে, ‘আমি খুন করতে চাইনি। আমার টাকার প্রয়োজন ছিল। ভুল হয়ে গিয়েছে।’ তদন্তকারীরা মনে করছেন, রাহুলের এই আচরণ সন্দেহজনক। তাই তার সাইকো অ্যানালিসিস টেস্ট করা হবে। রাহুলের বাড়ি আলওয়ারেও গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সেখানে তাঁরা জানতে পেরেছেন, রাহুলের বাবাও মদে আসক্ত। বাবা ও ছেলে দু’জনই স্বভাবে অত্যন্ত আগ্রাসী। রাহুলের দিদির দাবি, অনলাইন গেমের কারণে প্রথম নির্যাতিতার স্বামী (আলওয়ারের ওই বন্ধু) ও রাহুল দু’জনেই দেনার দায়ে ডুবে গিয়েছিল। সেই টাকার জন্যই রাহুল দিল্লি যায়।