


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘মাই নেম ইজ খান, অ্যান্ড আই অ্যাম নট এ টেররিস্ট’, মাই নেম ইজ খান ছবিতে শাহরুখ খান অভিনীত চরিত্রের এই বার্তা ঝড় তুলেছিল দেশজুড়ে। সোমবার ইন্টারনাল কমপ্লেইন্টস কমিটির (আইসিসি) ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে এই বার্তা দিয়েই পথে নামলেন যাদবপুরের পড়ুয়ারা। হাতে ধরা ব্যানারে লেখা, ‘মাই নেম ইজ জেইউ অ্যান্ড আই অ্যাম নট এ টেররিস্ট’। যাদবপুরে দেশদ্রোহী ক্রিয়াকলাপের অভিযোগ তোলা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই ছিলেন আক্রমণের মূল লক্ষ্য। রেহাই পাননি অমিত শাহ এবং আরএসএস-ও। তাঁদের একসূত্রে গেঁথে ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে স্লোগানে গর্জন তোলেন পড়ুয়ারা।
পড়ুয়া, প্রাক্তনী এবং শিক্ষকদের নিয়ে মিছিল শুরু হয় যাদবপুরের মাঠ থেকে। গন্তব্য ছিল সুলেখা মোড়। মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। প্রচুর সংখ্যায় ছিলেন আধাসেনার জওয়ানরাও। নির্বাচন কমিশনের অনুমতি না-থাকায় পুলিশ শিক্ষকদের অনুরোধ করে সুলেখা মোড় পর্যন্ত না-যাওয়ার জন্য। তা মেনে নিয়ে ২ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকে যায় মিছিল। এদিন আইসিসি নির্বাচনের ফলও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। প্রত্যাশা মতোই আর্টস ফ্যাকাল্টিতে জয়ী এসএফআইয়ের প্রতিনিধিরা। ইঞ্জিনিয়ারিং গিয়েছে ডিএসএফের দখলে। আর সায়েন্স ফ্যাকাল্টিতে জয় পেয়েছেন উই দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট (ডব্লুটিআই)-এর প্রতিনিধিরা। তবে, তাৎপর্যপূর্ণভাবে আর্টস ফ্যাকাল্টির স্নাতকোত্তর বিভাগে প্রধান বিরোধী হিসেবে উঠে এসেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি)। আর্টস ফ্যাকাল্টির স্নাতকোত্তরেই প্রার্থী দিয়েছিল টিএমসিপি। ইউনিট সভাপতি তীর্থরাজ বর্ধন ৯৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। সোশিয়োলজি এবং জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন বিভাগে ব্যাপকভাবে ভোট পেয়ে জিতেছে তৃণমূল। জার্নালিজম বিভাগে দীর্ঘ দুবছর ধরেই দুই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে খাতা না দেখে নম্বর দেওয়ার অভিযোগে ছাত্রদের আন্দোলন চলছিল। তাতে নেতৃত্ব দিয়েছে টিএমসিপিরই একটি অংশ। ফলে, এই ভোটে আরও পরিষ্কার হল ছাত্রদের অভিমত।
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্নাতক বিভাগে ডিএসএফ প্রার্থী মেহুলি সরকার ১৭১৬ ভোট পেয়ে জিতেছেন। এসএফআই প্রার্থী রূপা কেশ ৪২২ পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। এই ফ্যাকাল্টিতে গেরুয়া পার্টির প্রভাব অনেকদিন ধরেই রয়েছে। গেরুয়াপন্থী এবিভিপি (১৪২) এবং এনএসএফ (২৫৬) সংগঠন দুটি যুগ্মভাবে পেয়েছে ৩৯৮। তৃণমূলও স্নাতকোত্তরে একটি প্রার্থী দিয়ে ৪৬টি ভোট পেয়েছে। স্নাতকোত্তরে ডিএসফ প্রার্থী খুরশিদা বানো ২৭২ ভোট পেয়ে জিতেছেন।
অন্যদিকে, আর্টসের স্নাতকস্তরে এসএফআইয়ের সানিয়া ঘোষ ৮৫০ ভোট পেয়ে জেতেন। গেরুয়াপন্থী এনএসএফ প্রার্থী সেখানে পেয়েছেন ১৭টি ভোট। স্নাতকোত্তরে এসএফআই প্রার্থী দিশা ঝা ৬৪১ ভোট পেয়ে শীর্ষে। আর এনএসএফ প্রার্থী আদিত্য মণ্ডলের প্রাপ্ত ভোট ১৮। সায়েন্স ফ্যাকাল্টির স্নাতকে ডব্লুটিআইয়ের দীপশিখা কর রায় ৩০৮ ভোট পেয়ে জিতেছেন। নিকটতম প্রার্থী এসএফআইয়ের সংগীতা কেন্দুর প্রাপ্ত ভোট ২২৮। স্নাতকোত্তরে ডব্লুটিআই প্রার্থী অদ্রিকা সাহা ২৬১ ভোট পেয়ে জেতেন। এসএফআইয়ের শ্রেয়া মাইতি ১২৮ পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন। এনএসএফ প্রার্থী পাপান মণ্ডলের প্রাপ্ত ভোট ১৪। যাদবপুর যে গেরুয়া বর্জন করেছে, তা ভোটের ফলেই স্পষ্ট।