Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কৃষ্ণগঞ্জে নববর্ষে বাংলা ক্যালেন্ডারের ব্যাপক চাহিদা

নববর্ষে বাংলা ক্যালেন্ডার তৈরিতে যুক্ত কর্মীদের নাওয়াখাওয়ার সময় নেই। এবার সীমান্ত এলাকা কৃষ্ণগঞ্জে বাংলা ক্যালেন্ডারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এতে খুশি ছাপাখানার মালিক ও কর্মীরা। কৃষ্ণগঞ্জে ৫০জন শ্রমিক এই কাজের সঙ্গে যুক্ত।

কৃষ্ণগঞ্জে নববর্ষে বাংলা ক্যালেন্ডারের ব্যাপক চাহিদা
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: নববর্ষে বাংলা ক্যালেন্ডার তৈরিতে যুক্ত কর্মীদের নাওয়াখাওয়ার সময় নেই। এবার সীমান্ত এলাকা কৃষ্ণগঞ্জে বাংলা ক্যালেন্ডারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এতে খুশি ছাপাখানার মালিক ও কর্মীরা। কৃষ্ণগঞ্জে ৫০জন শ্রমিক এই কাজের সঙ্গে যুক্ত।

Advertisement

বৈশাখ মানেই নতুনের শুরু। পয়লা বৈশাখ মানে হালখাতার দিন। সেইসঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, মিষ্টি ও উপহার এবং নতুন ক্যালেন্ডার পাওয়া। বাঙালির প্রিয় উৎসবের দিনক্ষণ এই ক্যালেন্ডারে দেখা যায়। সেইমতো প্রস্তুতি নিতে পারেন মানুষ। বেশ কয়েকবছর ধরে দেখা যাচ্ছে, অনেক ব্যবসায়ী হালখাতা করছেন না। তাই ক্রেতারাও আগের মতো ক্যালেন্ডার উপহার পাচ্ছেন না। ক্যালেন্ডারের চাহিদা কমে যাওয়ায় ছাপাখানায় ব্যস্ততাও কমেছে। তবে এবার নববর্ষে উল্টো ছবি দেখা গেল কৃষ্ণগঞ্জে। এবার এখানে বাংলা ক্যালেন্ডারের ব্যাপক চাহিদা দেখা দিয়েছে।
কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকে ছয়-সাতটি প্রেস রয়েছে। এই সমস্ত ছাপাখানায় হালখাতার কার্ড, খাম, ব্যাগ, ক্যালেন্ডার প্রভৃতি ছাপা হয়। কিছুক্ষেত্রে ছাপাখানার মালিকরা উন্নতমানের ডিজাইনের জন্য কলকাতা থেকেও এসব ছাপিয়ে আনেন। এবার এসমস্ত প্রেসে ক্যালেন্ডার ছাপানোয় ব্যস্ত কর্মীরা।
ছাপাখানার মালিক, কর্মীরা জানালেন, আগে বাংলা নববর্ষের একমাস আগে থেকেই ব্যস্ততা শুরু হয়ে যেত। এলাকার ছোটবড় ব্যবসায়ীরা নিজেদের সাধ্যমতো ক্যালেন্ডার, কার্ড, খাম ছাপাতেন। বিশেষত নানাধরনের ক্যালেন্ডার তৈরির বরাত মিলত। বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রচুর ব্যবসায়ীর ক্যালেন্ডারের অর্ডার আসায় একটু দেরি হয়ে গেলে প্রেসগুলি আর অর্ডার নিতে পারত না। কিন্তু গত কয়েকবছরে এই ছবিটা পুরো বদলে গিয়েছে। বিভিন্ন ছোটবড় ব্যবসায় মন্দার জেরে পয়লা বৈশাখ ঘিরে আগের উন্মাদনা কমেছে। ক্যালেন্ডার, খামের অর্ডার অর্ধেকেরও কম হয়ে গিয়েছে। সেইসঙ্গে প্রিন্টিংয়ের খরচও বেড়েছে। তবে এবার ফের ক্যালেন্ডারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ছাপাখানার মালিক ও কর্মীরা খুশি।
অনেক ব্যবসায়ী হালখাতার প্রথাকে বাঁচিয়ে রাখতে মরিয়া। তাঁরা বলেন, সারাবছর ব্যবসা চলে। নববর্ষে ক্রেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, তাঁদের হাতে মিষ্টি ও ক্যালেন্ডার তুলে দিতে পারলে একটা মধুর সম্পর্ক হয়। সুপ্রাচীন ঐতিহ্যও বেঁচে থাকে।
মাজদিয়ার কৃষি সাহিত্য প্রেসের মালিক স্বপন ভৌমিক বলেন, এবার কার্ড, খাম, ক্যালেন্ডারের ব্যাপক চাহিদা। আমরা কাজ শেষ করে উঠতে পারছি না। ১০হাজারের বেশি ক্যালেন্ডারের অর্ডার এসেছে। আর অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। কৃষ্ণগঞ্জের অপর একটি ছাপাখানার মালিক তরুণ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমরা প্রায় সাতহাজার ক্যালেন্ডার ছাপছি। সেইসঙ্গে ১০ হাজারের বেশি খাম, কার্ড,  ব্যাগ ছেপেছি।

সম্পর্কিত সংবাদ