


ডাঃ আশীষ শাসমল: ছোটদের অসুখ-বিসুখ
১. জ্বর ও সর্দি: বাচ্চাদের বিভিন্ন কারণে জ্বর ও সর্দি হতে পারে, লক্ষণ অনুযায়ী নিম্নলিখিত ওষুধ দিতে পারেন।
অ্যাকোনাইট: বিশেষ করে শীতকালে হঠাৎ করে ঠান্ডা লেগে জ্বর সর্দি কাশি হলে।
ব্রায়োনিয়া: ঠান্ডা গরমে জ্বর সর্দি কাশিতে।
বেলেডোনা: হঠাৎ জ্বর, চোখ-মুখ লাল হলে।
রাসটক্স: জলে বা বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর সর্দিতে।
২. কাশি: বাচ্চাদের Acute এবং Chronic দু’রকম কাশি সারে হোমিওপ্যাথিতে।
ড্রসেরা: রাতে শুলে কাশি যখন বেড়ে যায়।
ম্যাঙ্গানাম অ্যাসিটিকাম: সারাদিন কাশি কিন্তু বাচ্চা ঘুমিয়ে পড়লে তখন আর কোনও কাশি থাকে না।
জাস্টিশিয়া: হঠাৎ খুব কাশি, কিন্তু কারণ কিছু বুঝতে না পারলে এটা ব্যবহার করুন।
৩. হাঁপানি বা অ্যাজমা: সঠিক চিকিৎসা করালে বাচ্চাদের হাঁপানি সম্পূর্ণভাবে সেরে যায়। জ্যাসিলিমাম, টিউবার ক্যুলিনাম, ফুজা ইত্যাদি ওষুধ এক্ষেত্রে ভালো কাজ দেয়।
ছোটদের অ্যালার্জি
৪. অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস: গালে লাল দাগ, চামড়া রুক্ষ, ছোট ছোট ফুসকুড়ি এবং সেগুলি চুলকায়। এগুলি হাত-পা-গলার খাঁজে ক্রমে সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে সালফার, জ্যাসিলিমাম সোরিনাম ইত্যাদি খুব ভালো কাজ দেয়।
৫. ডাস্ট অ্যালার্জি: ধুলো-বালি ইত্যাদি এবং সঙ্গে ডাস্ট মাইট থেকে অ্যালার্জি হয়। সালফার মেডোরিনাস, থুজা এবং অ্যাকিউট হলে হাউজ ডাস্ট ৩০ ব্যবহার করা যায়।
ভাইরাস জনিত রোগ
৬. চিকেন পক্স: জল ফোস্কার মতো দেখতে হয়, চুলকানি থাকে সঙ্গে জ্বর থাকে। ব্রায়োনিয়া, রাসটক্স ভালো কাজ করে। ভ্যারিসেলা ৩০ বা ম্যালানড্রিনাম ২০০ প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করুন।
৭. হাম: এক্ষেত্রে বাচ্চাদের জ্বর, সর্দি, কাশি এবং গায়ে ছোট ছোট লাল র্যাশ বের হলে বেলেডোনা খুব ভালো কাজ দেয়। মরবিলিনাম প্রতিষেধক হিসাবেও ব্যবহার করা হয়।
৮. মাম্পস: এই রোগে মুখের দু’পাশে এবং কানের নীচের রগ দু’টির প্যারোটিড গ্রন্থি ফুলে যায়। বেলেডোনা, পালসেটিলা খুব কার্যকরী এবং প্যারোটিডিনাম ২০০ প্রতিষেধক হিসাবে ব্যবহার করুন।
৯. বমি: যে কোনও বমির প্রাথমিক ওষুধ হল ইপিকাক। আর সদ্যোজাত বাচ্চার দইয়ের মতো বমি হলে ইথুজা সাইনাশিয়াম ৩০ দিতে পারেন। অনেক সময় বাচ্চারা গাড়িতে উঠলেই বমি করে, তখন পেট্রোলিয়াম ৩০ দিন।
১০. সদ্যোজাত শিশুর কান্না: সদ্যোজাত সারা রাত কাঁদে কিন্তু দিনের বেলায় ঘুমোয়। এমন হলে জালাপা ৩০ এবং এর বিপরীত অবস্থা হলে লাইকোপোডিয়াম ৩০ ব্যবহার করুন।
১১. ডায়েরিয়া: কোনও কিছু খাওয়ার পর ফুড পয়জনিং হলে আর্সেনিক ৩০। দাঁত ওঠার সময় ডায়েরিয়া হলে ক্যামোমিলা ৩০ আমাশয় হলে অ্যালো সক ৩০ দিন।
১২. কোষ্ঠকাঠিন্য: ম্যাগমিওর ৩× দিতে হবে।
কৃমির সমস্যা হলে সিনা ৩০ দিন।
১৩. টনসিলের সমস্যা: অনেক বাচ্চাই টনসিলাইটিসে ভোগে। সঠিক হোমিওপ্যাথি ওষুধ প্রয়োগে টনসিলের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে স্ট্রেপ্টোকক্সিন ২০০ ব্যবহার করুন।
১৪. অ্যাডিনয়েড: নাকের পিছন দিকে টনসিলের মতো গ্ল্যান্ড থাকে। এই গ্ল্যান্ডে সংক্রমণ হলে নাক বন্ধ, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ায় ঘনঘন সর্দি কাশি হয়। হোমিওপ্যাথিতে এই রোগ সারানো সম্ভব। অ্যাগ্রাফিস নিউট্যানস ওষুধটি খুবই কার্যকরী।
১৫. কানে ব্যথা: প্রত্যেক বাচ্চারই কখনও না কখনও কানে ব্যথা হয়। প্রাথমিকভাবে ভারবাসকাম ৩০ দিতে পারেন।
১৬. দাঁতে ব্যথা: বাচ্চাদের দাঁতে ব্যথা হলে মার্ক সল ৩ এবং প্লানটাপো মাদার লাগাতে হবে।
১৭. আঘাত লাগা: পড়ে যাওয়া, আঘাত লাগা বা থেঁতলে গেলে এবং মাথায় আঘাত লেগে আলুর মতো ফুলে গেলে আর্নিকা ৩০ বারে বারে দেবেন। কোনও জায়গা কেটে গেলে ক্যালেন্ডুলা ৩০। দরজায় আঙুল থেঁতলে গেলে হাইপেরিকাম ৩০ দিলে উপকার হয়।
বাচ্চাদের নানা আচরণগত সমস্যা
১৮. অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার: এক্ষেত্রে কার্সিনোাসিন, এমএমআর, ব্যারাইটা কার্ব ইত্যাদি ভালো কাজ দেয়।
১৯. অ্যাটেনশন ডেফসিট হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার: ট্যারেনটুলা, জিনকাম মেট, টিউবারকুলিনাম ইত্যাদি কাজ দেয়।
২০. বিছানায় প্রস্রাব: অনেক বাচ্চার নির্দিষ্ট বয়স পরেও এটি দেখা যায়। সিমা, মেডোরিনাম ব্যাসিলিনাম খুব ভালো কাজ দেয়।
নারীদের জন্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা
২১. ডিসমেনোরিয়া: মেনস্ট্রুয়েশনের সময় সাধারণত তলপেটে, কোমরে টেনে ধরা ব্যথা হয়। ব্যথা গরমে এবং চাপে কম হলে ম্যাগ ফস ২০০ নিতে পারেন। না হলে জ্যান্থোজাইলাম ৬ নিতে পারেন।
২২. মেনোরেজিয়া: অতিরিক্ত ব্লিডিং হলে তাকে মেনোরেজিয়া বলে। জরায়ুর টিউমার, এন্ডোমেট্রেওসিস, অ্যাডিনোমায়োসিস পিআইডি ইত্যাদি কারণে অতিরিক্ত ব্লিডিং হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ব্লিডিং কমানোর জন্য চায়না ৬ দিতে পারেন।
২৩. অলিগোমেনোরিয়া বা অনিয়মিত মেনস্ট্রুয়েশন: এক্ষেত্রে মেনস্ট্রুয়েশন অনিয়মিত হয় এবং ৩৫ দিন বা তার অধিক দিনের ব্যবধানে হয়। প্রাথমিকভাবে অশোকা মাদার খেতে পারেন।
২৪. পিআইডি (পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ): এই অসুখে এন্ডোমেট্রিয়াম ফ্যালোপিয়ান টিউব, ওভারি ও আশপাশের অঙ্গগুলি সাধারণত ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হয়। ফলে তলপেটে ব্যথা, জ্বর, ইউরিনে জ্বালা ইত্যাদি হয়। ক্রিয়োজোট ২০০ দিনে ২ বার করে খান।
২৫. এন্ডোমেট্রিওসিস: এই অসুখের লক্ষণগুলি হল মেনস্ট্রুয়েশনের সময় অসহ্য ব্যথা, অতিরিক্ত ব্লিডিং এমনকী ইনফার্টিনিটিও হতে পারে। জ্যান্থোজাইলাম ৩০ ব্যবহার করুন।
২৬. ইউটেরাসে টিউমার (ফাইব্রয়েড)
জরায়ুতে এটি হয়। লক্ষণগুলি হল অতিরিক্ত ব্লিডিং তলপেটে ব্যথা। ফ্র্যাক্সিনাস আমেরিকানা মাদার খেতে পারেন।
২৭. ওভারিয়ান টিউমার: ওভারির মধ্যে ছোট বেলুনের মতো ফুলে যায়। বিভিন্ন ধরনের সিস্ট যেমন ফলিকউলার সিস্ট, চকোলেট সিস্ট ইত্যাদি হয়। প্রাথমিকভাবে কোনিয়াম ম্যাক ৬ খেতে পারেন।
২৮. পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম: বর্তমানে নারীদের মধ্যে এই রোগটি খুবই বেশি দেখা যায়। লক্ষণগুলি হল অনিয়মিত মেনস্ট্রুয়েশন, মুখে ব্রণ, গোঁফ, দাড়ি দেখা যায়। এবং শরীরের বিভিন্ন খাঁজে কালো দাগ থাকে, যা অ্যাকাস্থসিস নিগ্রিকানস নামে পরিচিত। প্রাথমিকভাবে এপিস মেল ৬ নিতে পারেন।
২৯. লিউকোরিয়া: এই রোগে ক্যানডিডা অ্যালব ২০০ নিতে পারেন।
৩০. ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা মূত্রনালীর সংক্রমণ: সাধারণত ই-কোলাই নামক ব্যাকটেরিয়া এর জন্য দায়ী। প্রস্রাবে জ্বালা, বারবার প্রস্রাবের বেগ, পেটে খিঁচ ধরা ব্যথা, সঙ্গে জ্বরও আসে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে ক্যান্থারিস ৩০ বারবার খেলে হবে।।
৩১. গর্ভপাত: অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ৩ মাসের মধ্যে বারবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে অ্যাবরশন হয়ে যায়। এক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ভালো কাজ দেয়।
গর্ভাবস্থার পরবর্তী সময়
৩২. মর্নিং সিকনেশ: গর্ভাবস্থায় বমি হলে নিম্পোরিকার্পাশ ৩০ নিন।
৩৩. অ্যাসিডিটি: ন্যাট ফস ৬x।
৩৪. জ্বর: ফেরু ফস ৬x।
৩৫. কোমরে ব্যথা: ক্যালি কার্ব ৩০।
৩৬. অর্শ: গর্ভাবস্থায় অর্শের কষ্ট হলে কলিনসনিয়া ৩০।
৩৭. মানসিক অবসাদ: অ্যাকটিয়া রেসিমোসা ৬ নিন।
৩৮. মাতৃদুগ্ধের পরিমাণ কমলে: অনেক সময় মাতৃদুগ্ধের পরিমাণ কম হয়। তেমন হলে রিসিনাস ৬ নিন।
৩৯. ইনফার্টিলিটি: বিভিন্ন ক্ষেত্রে লক্ষণ অনুযায়ী খুবই ভালো কাজ দেয়। ফলিকুলিনাম ৩০ ওষুধটি।
৪০. ব্রেস্টের সমস্যা: ফাইব্রো অ্যাডিনোসিস— ব্রেস্টের মধ্যে ছোট ছোট তরলপূর্ণ সিস্ট থাকে।
কোনিয়াম ম্যাক ৩০ নিতে পারেন। ফাইব্রো অ্যাডিনোমা— এটি শক্ত মাংসের দলার মতো ব্রেস্টের মধ্যে থাকে। ফাইটোলক্কা ২০০ নিন।
৪১. গ্যালভেটোরিয়া: ল্যাকটেটিক মা ছাড়া অনেক সময় প্রোল্যাকটিন হরমোন বেশি হলে মিল্ক লিকেশন হয়। অ্যাসাফোয়েডিটা ৩০ নিন।
৪২. মাথা ব্যথায় হোমিওপ্যাথি: আমাদের কাছে মাথা ব্যথা নিয়ে যাঁরা আসেন বেশিরভাগ মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ে আসেন। আর মাইগ্রেন কাবু হয় হোমিওপ্যাথিতে। এই রোগে মাথার এক দিকে ব্যথা, বমি ভাব ইত্যাদি থাকতে পারে। রোগী বিশেষে ট্রিগার ফাক্টর বিভিন্ন হতে পারে। মাইগ্রেনকে কাবু করার কাজে কিছু হোমিওপ্যাথি ওষুধের জুড়ি মেলা ভার। সাধারণভাবে ডানদিকে ব্যথা হলে সাঙ্গুনেরিয়া ক্যান এবং বাঁ দিকে ব্যথা হলে স্পাইজেলিয়া খান।
নাক, কান গলার সমস্যা
৪৩. ল্যারিঞ্জাইটিস: কোনও কারণে ল্যারিংসে প্রদাহ হলে তাকে ল্যারিঞ্জাইটিস বলে। খুসখুসে কাশি গলায় অস্বস্তি কথা বলতে কষ্ট, গলা শুকিয়ে যাওয়া এর লক্ষণ। প্রাথমিকভাবে কস্টিকাম ৩০ নিতে পারেন।
৪৪. টনসিলাইটিস: মজার বিষয় হল এরা শরীরকে ইনফেকশন থেকে বাঁচায় কিন্তু নিজেই যখন কোনও ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন এই সমস্যাকে টনসিলাইটিস বলি। গলা ব্যথা, জ্বর, খাবার গিলতে অসুবিধা, কানে যন্ত্রণা, মাথা ব্যথা ইত্যাদি হয়। প্রাথমিকভাবে স্ট্রেপটোকক্সিন ২০০ নিন।
৪৫. ভোকাল কর্ড নডিউল এবং পলিপও সিস্ট: ভোকাল কর্ডে মাংসের দলার মতো জমা হয়। যাঁরা জীবিকার জন্য বেশি কথা বলেন তাঁদেরই বেশি দেখা যায়। লক্ষণগুলি হল স্বর ভঙ্গ, হাল্কা ব্যথা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সার্জারি ছাড়া হোমিওপ্যাথি ওষুধ দিয়ে সারানো সম্ভব। কস্টিকাম ৩০ ভালো কাজ দেয়।
৪৬. নাক বন্ধ: এটি ছোট থেকে বড় সকলেরই সাধারণ সমস্যা, তবে এটি কখনও কখনও জটিল রোগের কারণ হতে পারে। অ্যামন কার্ব ৩০ ভালো কাজ দেয়।
৪৭. সাইনুসাইটিস: মাথা ভার অসহ্য মাথার যন্ত্রণা যা সূর্যের আলোর সঙ্গে বাড়ে আবার সন্ধ্যায় কমে যায়। হাঁচি, কাশি, নাক দিয়ে জল পড়ার মতো সমস্যা হয়। প্রাথমিকভাবে ক্যালিবাই ৩০ নিতে পারেন।
৪৮. নাকের অ্যালার্জি: ডাক্তারি ভাষায় এটিকে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বলি। অনবরত হাঁচি, চোখ লাল, জল পড়া, মাথা ভার, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। আপৎকালীন হিসাবে হিস্টামিন ৩০ নিতে পারেন।
৪৯. নাকে পলিপ: পলিপ হল বেলুনের মতো সাদা মাংসের মতো গ্রোথ নাক বন্ধ মাথা ব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া, নাকের গন্ধ চলে যাওয়া, নাক ডাকা এর লক্ষণ। চিকিৎসা করালে বেশিরভাগ পলিপ চলে যায়। টিএমভি ২০০ নিতে পারেন।
৫০. কানে পুঁজ: মধ্য কানে সংক্রমণ হলে কান দিয়ে জল পড়া বা পুঁজ বেরয়। সাধারণভাবে আমরা বলি কানের পর্দা ফুটো হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে মার্কডালসিস ৩০ খুবই কার্যকরী।
৫১. মাথা ঘোরা বা ভার্টিগো: আপনার শরীরের সব কিছু স্বাভাবিক অথচ শরীরের অবস্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মাথা ঘুরছে। এটাকে বিনাইন প্যারক্সিসমাল পজিশনাল ভার্টিগো বলা হয়। এটি কান থেকে হয়। সাময়িকভাবে কোনিয়াম ৩০ নিন।
৫২. টিনিটাস: এই রোগে শুধুমাত্র রোগী কানে ঝিঁঝি পোকার আওয়াজ বা বাঁশির আওয়াজ পান। সঙ্গে যদি মাথা ঘোরা থাকে তাহলে সেটিকে আমরা মিনিয়ার্স ডিজিজ বলি। প্রাথমিকভাবে ন্যাট্রাম স্যালিসাইপ্লিকাস ২০০ নিতে পারেন।
সুগার ও থাইরয়েডে হোমিওপ্যাথি
থাইরয়েডের রোগ যে কারও হতে পারে সে মহিলা পুরুষ, শিশু কিশোর এবং বয়স্ক। এটি দু’ধরনের— হাইপোথাইরয়েডিজম ও হাইপার থাইরয়েডিজম। হাইপার থাইরয়েডিজমের লক্ষণগুলি হল, উদ্বেগ, বিরক্তি ও নার্ভাসনেস, ঘুমের সমস্যা, ওজন কমে যাওয়া, গলগণ্ড, পেশির দুর্বলতা ও কম্পন, অনিয়মিত মেনস্ট্রুয়েশন।
৫৩. হাইপোথাইরয়েডিজম: এর লক্ষণ— ক্লান্তি বোধ, ওজন বৃদ্ধি, বিস্মৃতির অভিজ্ঞতা, ঘন ঘন এবং মেনস্ট্রুয়েশন বেশি হওয়া, শুষ্ক ও রুক্ষ চুল, ভয়েস চেঞ্জ।
চিকিৎসা: ওষুধের সংখ্যা প্রচুর। এর মধ্যে হাইপোথাইরয়েডিজমের জন্য হাইরোডিনা ৩X কাজ দেয়।
৫৪. হাইপার থাইরয়েডিজম: এই রোগের জন্য Iodun ৩xp নিতে পারেন।
৫৫. সুগার: ব্লাড সুগারের মতো জটিল একটি অসুখকে বশে না রাখতে পারলে কিডনি, হার্ট, চোখ এবং স্নায়ু সহ দেহের একাধিক অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত কার্যকরী। কোনও রোগীর সুগার ধরা পড়ার প্রথম থেকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করলে উপকার সব থেকে বেশি। সিজিজিয়াম মাদার প্রাথমিকভাবে খেতে পারেন।
৫৬. শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, সিওপিডি: অ্যাজমা বা হাঁপানির প্রকোপে সারা বছর অনেকেই কষ্ট পান। অ্যাজমাতে শ্বাসকষ্ট হয়, তবে শ্বাসকষ্ট থাকলেই তা অ্যাজমা নয়। শরীর ও মনের নানা সমস্যা যেমন— ডিহাইড্রেশন, হার্টের অসুখ, সিওপিডি, ক্লস্ট্রোফোবিয়াতেও শ্বাসকষ্ট হয়। ব্রঙ্কিওল অ্যাজমা রোগে রোগীর মনে হয় দম নিতে পারছেন না, বুকে সাঁই সাঁই বাঁশির আওয়াজের সঙ্গে বুকে কফ জমে থাকা ও কাশি থাকে। অ্যাজমা মূলত দুই রকমের, ১) অ্যাকিউট অ্যাজমা ও ২) ক্রনিক অ্যাজমা। ক্রনিক অ্যাজমা দীর্ঘমেয়াদি রোগ। আর এক ধরনের হাঁপানিও আছে যেটি অ্যালার্জিজনিত। রোগ লক্ষণ অনুযায়ী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করালে নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত সেরে যায়। আপৎকালীন হিসেবে ক্যাসিয়া সোফেরা মাদার ব্যবহার করতে পারেন।
অন্যান্য ফুসফুসের অসুখ
৫৭. সিওপিডি: ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ আজকাল ফুসফুসের একটি প্রচলিত অসুখ। বায়ুথলির অস্বাভাবিকতার কারণে রোগীর শ্বাসপ্রক্রিয়া বাধা পায়, কাশি। কাশির সঙ্গে শ্লেষ্মাও থাকে বুকের মধ্যে। তাই সাঁইসাঁই শব্দ, ক্লান্তিবোধ ইত্যাদি দেখা দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে অন্টিম আর্স নিতে পারেন।
পেটের অসুখে ভোগেন না এমন মানুষ কম আছেন। তাই পেটের রোগ থেকে বাঁচতে মুড়ি-মুড়কির মতো ওষুধ খাই, যা খুবই ক্ষতিকারক।
৫৮. বদহজম বা ডিসপেপসিয়া: হজমের গণ্ডগোল বা বদহজম, মূলত পেটব্যথা, অনেকের পেট ফুলে যায়। খাওয়ার পর ঢেঁকুর ওঠে, বমি ভাব, সাধারণত মশলাযুক্ত খাবার খেলে বদহজম হলে নাক্সভম ৩০, ঢেকুর উঠলে আরাম বোধ করলে কার্বভেজ ৩০ খান।
৫৯. গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্ল্যাক্স ডিজিজ বা GERD: এই রোগকে চলতি কথায় অম্বল বা অ্যাসিড রিফ্ল্যাক্স বলে থাকি। এই রোগে খাওয়ার পরে বুকে জ্বালা, বুকে ব্যথা, মুখ দিয়ে টক জল উঠে আসা, গলায় দলা দলাভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী কাশিও থাকতে পারে। গলায় জ্বালাজ্বালা ভাব থাকলে প্রাথমিকভাবে অ্যাসাডিটি, বুক জ্বালা ও টক বমি হলে আইবিশ ভার্স ৬ খেতে পারেন।
৬০. ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা IBS: এটি আমাদের দেশে খুবই পরিচিত নাম, লক্ষণগুলি হল তলপেটে ব্যথা, খাওয়ার পর অস্বস্তি, পেটে গ্যাস হওয়া ও পেট ফুলে যাওয়া, বারবার পায়খানার বেগ বা কোষ্ঠকাঠিন্য থাকতে পারে।
অব্যর্থ ওষুধ আছে হোমিওপ্যাথিতে, প্রাথমিকভাবে ডিসকম্পান্ড ভালো কাজ দেয়।
৬১. গ্যাসট্রিক আলসার: এর অর্থ হল পাকস্থলী, খাদ্যনালী ও ক্ষুদ্রান্ত্রে ঘা হওয়ার সমস্যা।
লক্ষণ- পেটে ব্যথা, বিশেষ করে পাঁজরের নীচে, গভীর রাতে ব্যথার কারণে ঘুম ভেঙে যায়, খিদে পেলেই পেটে যন্ত্রণা। সঠিক চিকিৎসা করলে এই রোগ বেড়ে যায়, খাওয়ার পর ব্যথা করলে অ্যানাকার্ডিয়াম ৩০ এবং খেলে ব্যথা হলে নাক্স ভোমিকা ৩০ নিন।
৬২. জন্ডিস: কোনও কারণে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে জন্ডিস বলে।
লক্ষণ- শুরুতে বমিভাব, খিদের অভাব সামান্য জ্বর দুর্বলতা হাত পা চুলকানো, চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া, ইউরিন হলুদ হয় এবং সারা শরীরে হলুদভাব ছড়িয়ে পরে। চেলিডোনিয়াম মাদার ভালো কাজ দেয়।
৬৩. ফ্যাটি লিভার: বর্তমান পরিস্থিতিতে এই রোগ অনেকের দেখা যায়। কোনও শারীরিক পরিশ্রম না করায় বেশিরভাগ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত এটি দু’ধরনের অ্যালকোহলিক এবং নন অ্যালকোহলিক। চেলিডোনিয়াম মাদার খুবই কার্যকরী।
৬৪. গলস্টোন বা পিত্তথলির পাথর: পেটের ডানদিকে হঠাৎ ব্যথা, পিত্তবমি, বমিভাব জ্বরও আসতে পারে। সব স্টোন হোমিওপ্যাথিতে যায় না নির্ভর করে সংখ্যা, সাইজ এবং প্রকারভেদের ওপর। প্রাথমিকভাবে কার্ডুয়াস মাদার খান।
৬৫. টাইফয়েড: রাস্তার অপরিষ্কার জল, শরবত, ঠান্ডা পানীয় কাটা ফল ইত্যাদি থেকে এই রোগ ছড়ায়।
টাইফয়েডিনাম এবং ব্যাপটিসিয়া ইত্যাদি ওষুধ প্রতিকার ও প্রতিরোধ করে।
৬৬. কোষ্ঠকাঠিন্য: কিছু লোক দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগে, বাচ্চা থেকে বয়স্ক সবারই হতে পারে।
সঠিক চিকিৎসা করালে সেরে যায়। প্রাথমিকভাবে ক্যাসকারা স্যাগ মাদার ব্যবহার করা যেতে পারে।
৬৭. পাইলস বা অর্শ: মলদ্বারের চারপাশ ফুলে যাওয়া, মলদ্বারে ব্যথা, চুলকানি ও রক্ত পড়া। সঠিক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করালে অবশ্যই সারবে। প্রাথমিকভাবে নাক্স ভোম ৩০ নিন।
৬৮. ফিসার: মলদ্বারের আবরণ কেটে যাওয়াকে ফিসার বলা হয়। মলত্যাগের সময় ব্যথা এবং এই ব্যথা কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সঙ্গে রক্তও বের হয়। ব্যথা কমানোর জন্য র্যাটেনহিয়া ৬ নিতে পারেন।
ত্বকের অসুখে হোমিওপ্যাথি
সুন্দর ও স্বাভাবিক ত্বক শরীর ও মন উভয়ই ভালো রাখে। ত্বক সুস্থ না থাকলে শুরু হয় নানা মানসিক উদ্বেগ।
৬৯. একজিমা: এটি একটি ক্রনিক চর্মরোগ। এই অসুখে ত্বকের মধ্যে খুব চুলকানি এবং আক্রান্ত স্থান শুকনো হয়ে ফেটে গিয়ে লাল হয়ে ওঠে। এটি বিভিন্নরকম হয়।
৭০. অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস: প্রায়ই বাচ্চাদের মধ্যে দেখা যায়। বিভিন্ন রকমের অ্যালার্জির কারণে হয়ে থাকে।
৭১. কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস: প্রতিদিন বাসনমাজা, সব্জি কাটা, কাপড় কাচার মতো কাজ করলে এই রোগ হয়।
৭২. জেরোসিস একজিমা: এটি শুষ্ক আবহাওয়াতে দেখা যায়। বিশেষ করে শীতকালে ত্বক শুষ্ক হয়ে ফাটতে শুরু করে।
৭৩. সেবোরিক ডার্মাটাইটিস: এটিতে খুশকির থেকেও মোটা মামড়ি ওঠে। মাথার ত্বক, ভ্রু এবং মুখের থেকে মামড়ি ওঠে। একজিমা সারে হোমিওপ্যাথিতে। সালফার সোরিনাম, টরুলা ভালো কাজ দেয়।
৭৪. দাদ বা রিং ওয়ার্ম: এটি ছত্রাকজনিত রোগ এবং এটি রিং এর আকার ধারণ করে। তাই এটির নাম রিং ওয়ার্ম। ত্বকের উপর তামাটে গোলাকার ফোস্কার মতো দেখা যায়। রোগটি একের থেকে অন্যের দেহে ছড়াতে পারে।
দাদ হলে বলা হয় অন্য ওষুধ বারবার হোমিও ওষুধ একবার। ব্যাসিলিনাম, টেলুরিয়াম ইত্যাদি খুব ভালো কাজ দেয়।
৭৫. স্কোবিস: এটি একটি আদি চর্মরোগ, এই রোগের শুরুতে হাত ও আঙুলের মাঝে ছোট ছোট জলপূর্ণ ফুসকুড়ি ওঠে এবং অসম্ভব চুলকানি হয়।
প্রাথমিকভাবে সালফার ৬ ভালো কাজ দেয়।
৭৬. হাজা: এটি একটি ছত্রাকঘটিত রোগ। যাঁরা জলের মধ্যে দীর্ঘসময় কাজ করেন তাঁদের হাতে ও পায়ের আঙুলের মাঝখানে সাদা ঘায়ের মতো ফুলে ওঠে। ক্যানডিডা অ্যালবিক্যানস ২০০ ভালো কাজ দেয়।
৭৭. সোরিওসিস: জটিল চর্মরোগের মধ্যে এটি অন্যতম। রোগের শুরুতে আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে যায় এবং পরে গুঁড়ি গুঁড়ি রুপোলি রঙের চামড়ার খোসা ওঠে। এটি একটি অটোইমিউন ডিজিজ এবং সাইকোসোমাটিক অসুখ হিসাবে ধরা হয়। মানসিক আঘাত, স্ট্রেস, দুশ্চিন্তা মানসিক উদ্বেগ এই অসুখের ট্রিগার ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করে। ইগনেশিয়া, স্ট্যাফিসাগ্রিয়া ইত্যাদি ওষুধ ভালো কাজ দেয়।
৭৮. অ্যাকনে বা ব্রণ: বয়ঃসন্ধিকালে শুরু হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মুখে দেখা যায় তবে পিঠে, বুকে প্রভৃতি জায়গায়ও দেখা যায়, ক্যালি ব্রম ২০০ ভালো কাজ দেয়।
৭৯. আমবাত: আমাদের দেহের বাইরের এবং অভ্যন্তরীণ অ্যালার্জি জনিত কারণে ত্বকের মধ্যে চাকা চাকা হয়ে ফুলে ওঠে একে আমরা আমবাত বলি। ঠান্ডা দিলে আরাম হলে এপিস ৩০ এবং সামুদ্রিক মাছ কাঁকড়া প্রভৃতি থেকে হলে আর্টিকা ইউরেনস ৩০ খান।
৮০. খুশকি: মাথার মৃতকোষগুলি মামড়ি আকারে ঝড়তে থাকে, শুষ্ক আবহাওয়ায়ে বেশি দেখা যায়।
প্রাথমিকভাবে কচলেরিয়া মাদার ওষুধটি মাথায় লাগাতে পারেন।
৮১. ভিটিলিগো বা শ্বেতী: এটি একটি অটোইমিউন ডিজিজ। মেলানোসাইট কোষ থেকে মেলানিন নিঃসরণ বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের ত্বক সাদা হয়ে যায়। নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত এই রোগ সারানো যায়। থুজা, সালফার, মার্কসল ইত্যাদি খুব ভালো কাজ দেয়।
৮২. আঁচিল: হোমিওপ্যাথির নিন্দুকেরাও মানেন, একমাত্র আঁচিলের চিকিৎসা হোমিওপ্যাথিতে হয়। যে কোনও ধরনের আঁচিল সারবে হোমিওপ্যাথিতে।
৮৩. হারপিস: এটি হারপিস ভাইরাস জনিত কারণে হয় আক্রান্ত স্থান ফোস্কার মতো ফুলে ওঠে এবং খুব জ্বালা এবং যন্ত্রণা হয়। কিন্তু এই রোগ সেরে যাওয়ার পরও জ্বালা যন্ত্রণা থেকে যায়, প্রাথমিকভাবে হারপিস ৩০ ব্যবহার করুন এবং যদি জ্বালা যন্ত্রণা থেকে থাকে তাহলে মেজেরিয়াম ২০০ ব্যবহার করুন।
৮৪. বাতের ব্যথা: বাত বলতে নির্দিষ্ট কোনও অসুখকে বোঝায় না। তবে চলতি কথায় রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে বুড়ো আঙুল ফুলে লাল হয়ে যায়। হাঁটু ও অন্যান্য গাঁটে ব্যথার সমস্যা হয়। এটিকে গেঁটে বাত বা গাউট বলি। এক্ষেত্রে আর্টিকা ইউরেনস মাদার ভালো কাজ দেয়।
৮৫. অস্টিওআর্থ্রাইটিস: বয়সকালে শরীরের ওজন বহনকারী জয়েন্টগুলোতে ব্যথা দেখা দেয়। তবে পেশাগত বা অতিরিক্ত ওজনের জন্য মধ্যবয়সিদেরও মধ্যেও ইদানীং কালে এই রোগ দেখা যাচ্ছে। এক্স রে করলে দু’টি হাড়ের মধ্যবর্তী জয়েন্টে ক্ষয়ের ছবি পাওয়া যায়। যদি বিশ্রামে ভালো থাকেন তাহলে ব্রায়োনিয়া এবং হাঁটা চলা করলে ভালো থাকেন তাহলে রাসটক্স নিন।
৮৬. রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস: এক ধরনের অটোইমিউন ডিজিজ। এই অসুখে শরীরের বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। যেমন ফোলা ব্যথা এবং লাল ভাব। সঠিক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করালে অবশ্যই উপকার পাবেন।
৮৭. ফাইব্রোমায়ালজিয়া: সারা শরীরে ব্যথা। বিশেষ করে ঘাড়, বুক, হাতে ব্যথা কিন্তু টেস্ট করে কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন কষ্ট পাচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে সারকোল্যাটিক ২০০ ব্যবহার করুন।
৮৮. অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস: এটি একটি অটোইমিউন ডিজিজ। সাধারণত কোমর, ঘাড় এবং মেরুদণ্ডের হাড়গুলিকে আক্রমণ করে। সাঁতারের সঙ্গে সঠিক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করালে ভালো ফল পাবেন।
৮৯. সার্ভাইকাল এবং লাম্বার স্পন্ডিলাইটিস: পেশাগত রোগ। কমবয়সে ভারী ব্যাগ, মোবাইল, ল্যাপটপ ব্যবহার সহ বিভিন্ন কারণে এখন এই রোগটি খুবই দেখতে পাওয়া যায়। সঠিক ব্যায়াম এবং সঠিক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করালে এগুলি সারে।
ল্যাকন্যানথিস ৩০ উপশমের জন্য নিতে পারেন।
৯০. ফ্রোজেন শোল্ডার: ফ্রোজেন শোল্ডার অসুখটি শুরু হয় কাঁধে ব্যথা দিয়ে। এরপর কাঁধ ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায়। একসময় হাত নাড়ানোই অসম্ভব হয়ে যায়। ফ্রোজেন শোল্ডার সারে হোমিওপ্যাথিতে। প্রাথমিকভাবে ফেরাম মেট ২০০ খেতে পারেন।
৯১. গোড়ালির হাড় বাড়া বা ক্যালকেনিয়াল স্পার: গোড়ালিতে একটি ছোট হাড় বেড়ে যায়। সঠিক জুতো না পরলে বা অতিরিক্ত গোড়ালিতে চাপ পড়লে এটি হয়। হোমিওপ্যাথিতে অব্যর্থ দাওয়াই আছে। গরম সেঁক দিয়ে আরাম পেলে ম্যাগফল এবং ঠান্ডা সেঁক দিয়ে আরাম হলে লিডাম পল নিন।
কিডনির অসুখ
৯২. ক্রনিক কিডনি ডিজিজ বা CKD: কিডনির কাজ হল শরীরে ময়লা বাইরে বের করে দেওয়া। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, রক্তচাপ এবং বিভিন্ন মেডিসিনের কারণে কিডনি কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
রোগ যদি একেবারে শুরুর দিকে থাকে তাহলে হোমিওপ্যাথিতে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়। এ্যালসেরাস 7x ওষুধটি খুব ভালো কাজ দেয়।
৯৩. কিডনি স্টোন: নির্দিষ্ট আকারের কিডনি স্টোন হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেলে চলে যায়। লক্ষণগুলো হল ব্যথা, জ্বর, বমি কিছু ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বের হয়।
প্রাথমিকভাবে বারবারিস ভালগারিস মাদার খুবই উপকারী।
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার ক্ষেত্রে সর্বদাই ডাক্তারবাবুর পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করবেন। কারণ সব রোগের জন্য প্রচুর ওষুধ আছে যার কার্যক্ষমতা দারুণ। তাই ডাক্তারবাবুরা বুঝে ওষুধপত্র এবং তার সঠিক মাত্রা নির্বাচন করেন।
লেখক: অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, পিসিএমএইচ কলেজ ও হসপিটাল