


পুজো প্যান্ডেলে আপনার গান বাজছে, প্রথম শুনলেন কত বছর বয়সে?
তখন আমার সত্যিই একুশ বছর বোধ হয় (হেসে)। কোন গান আজ আর মনে নেই।
পাড়ার পুজোর ফাংশনে গান গাইতেন না?
না। আমাদের সময় মাচা ছিল না। পুজোর পর বিজয়া সম্মিলনীর ঘরোয়া অনুষ্ঠানে গান গেয়েছি।
পুজোর অ্যালবাম এখন অতীত, অতৃপ্ত লাগে?
অতৃপ্ত লাগে বইকি। নতুন গান বেরচ্ছেই না। পুজো আসলেই মনে হয় একসঙ্গে অনেকগুলো নতুন গান গাইব, অন্যরা কী গাইলেন শুনব। এটা কত আনন্দের বলে বোঝাতে পারব না। এই পুজোর অ্যালবামের জন্য সারা বছর ধরে প্রস্তুতি চলত। প্রথমে দুটো করে গান বেরত। পরে চারটে করে হল। এখন একটাও নতুন গান শ্রোতাদের শোনাতে পারি না। এটা যে কত বড় অতৃপ্তি... মনকে খুব কষ্ট দেয়।
কেন বন্ধ হয়ে গেল পুজোর গান?
এখন তো সারা বছর ধরেই গান রিলিজ করছে। প্রযুক্তি অনেক সুবিধা দিয়েছে ঠিকই, তবে পরম্পরা নষ্ট করে দিয়েছে। গান তৈরি করে এখন আর কেউ বিশেষ উৎসব বা উপলক্ষের জন্য জমিয়ে রাখছেন না। তৈরি করেই ইউটিউবে বা অন্যান্য মিউজিক প্ল্যাটফর্মে দিয়ে দিচ্ছেন। ঠিক করেছি, আমিও এবার থেকে তাই করব।
সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় নিজের প্রতিভা প্রমাণ করে আপনি গানের জগতে প্রবেশ করেছিলেন। আজকের মিউজিক রিয়ালিটি শো-গুলোতে প্রতিভার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে?
এখন শিক্ষা সম্পূর্ণ না করেই সবাই গান গাইতে বেরিয়ে পড়ছে। প্রতিযোগিতাগুলোয় অংশগ্রহণ করছে। যেমন পড়াশোনার ক্ষেত্রে একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর্যন্ত ধাপে ধাপে অধ্যয়ন শেষে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতকস্তরের পরীক্ষার পর বোঝা যায় সেই বিদ্যার্থী কোন দিকে যেতে চান বা কোন ক্ষেত্রে গেলে তাঁর মেধা ও প্রতিভার প্রকৃত মূল্যায়ন হবে গানের ক্ষেত্রেও তাই হওয়া উচিত। আমরা তাই-ই করেছি। একটা পর্যায় পর্যন্ত তালিম নিয়ে গুরুজির অনুমতি পেয়ে তবে সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি। এখন সবাই শিক্ষা অসম্পূর্ণ রেখেই রিয়ালিটি শো-গুলোতে চলে যাচ্ছেন। অনেকেই ভালো গাইছেন। স্বীকৃতি পাচ্ছেন। তারপর তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। শেখার ইচ্ছেটা থাকতে হবে। আজও কোনও নতুন বন্দিশ শুনলে আমি শিখতে বসে যাই। হ্যাঁ, এই বিরাশি বছর বয়সেও। ধৈর্য ধরে শিক্ষাটা সম্পূর্ণ করে তবেই বৃহত্তর দুনিয়ায় পা রাখা উচিত।
আপনাদের সময়কার গান কালজয়ী। আজকের গানের কোনও স্থায়িত্ব নেই কেন?
বেঁচে থাকার জন্য প্রাণস্পন্দন প্রয়োজন। সেটাই এখনকার গানে আর নেই। প্রাণে, হৃদয়ে গেঁথে যাওয়ার মতো কথা, সুর চাই। আমার ‘কত দূর আর কত দূর প্রেমেরই সেই মধুপুর’ এই গানটার কথার মধ্যে যে আবেদন, আবেগ তা আজও সব বয়সের শ্রোতাকে স্পর্শ করে যাচ্ছে। আমি কণ্ঠ দিয়ে গাইছি বটে আসলে কাজ করছে আবেগ। সেই জন্য ভালো কথা তো চাই-ই চাই। ‘তখন তোমার একুশ বছর’ শুনে মনে হয় কেউ যেন গল্প করছে। সমস্ত ব্যাপারটার মধ্যে মিশে আছে আবেগ। না হলে গান কালোত্তীর্ণ হতে পারে না।
আপনার প্রজন্মের গুণমুগ্ধ শ্রোতাদের মধ্যে দুটো বিভাজন দেখেছি। একদল বলতেন আপনি মুম্বইতে রাজনীতির শিকার। আর একদলের মত আপনার সাংসারিক জীবনের টানাপোড়েনের জন্য গান স্যাক্রিফাইস করতে হয়েছিল। কোনটা ঠিক?
মুম্বইতে একটা সময়ে রাজনীতির শিকার হয়েছি সেটা ঠিক। তবে ওই সময়ে আমার ছেলেটা খুবই ছোট। আমার দ্বিতীয় সংসার মুনিম পরিবারের রীতি মেনে সোহমকে পণ্ডিচেরির আশ্রমে পড়তে পাঠানো হল। সে আবার আমাকে ছেড়ে থাকতে পারত না। আমি যে কীভাবে মুম্বই থেকে পণ্ডিচেরি যাতায়াত করতাম সে আমি জানি। এক এক বছর প্লেন ভাড়াই পড়ত এক লক্ষ চল্লিশ পঁয়তাল্লিশ হাজারের মতো। সেই সময়। ভাবুন একবার! শুধু ছেলেকে দেখার জন্য দশদিন অন্তর অন্তর আমি পণ্ডিচেরি যেতাম। প্লেনে করে মাদ্রাজ এয়ারপোর্ট। সেখান থেকে গাড়ি করে পণ্ডিচেরি। ‘মাম্মা... তুমি কখন আসবে’— সোহমের এই কাতর ডাকটা আমি কেন কোনও মা-ই অবহেলা করতে পারবে না। ছেলে সারাক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকত, প্লেন দেখলেই বলত, ওই প্লেনটায় মাম্মা আসছে। আসলে আমার শ্বশুরবাড়ি শ্রী অরবিন্দের ভক্ত। আমি ওঁদের পারিবারিক রীতি, ইচ্ছে মেনে নিয়ে সোহমকে অত দূরে পড়তে পাঠিয়েছিলাম।
যে স্বাধীনতার প্রত্যাশায় প্রথম বিয়ে ভেঙে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন, সেটা মুনিম পরিবার থেকে পেয়েছিলেন?
পেয়েছিলাম। আমার গান নিয়ে ওদের কোনও আপত্তি ছিল না। সলিসিটর স্বামী সর্বদা আমার গানে উৎসাহ দিতেন।
তাহলে বোঝা যাচ্ছে পারিবারিক রীতিনীতির চেয়েও মুম্বইয়ের তৎকালীন সঙ্গীত ও সিনেমা জগতের একাংশের রাজনীতি আপনার কেরিয়ারে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল?
একশোবার। আমি বিচ্ছিরিভাবে রাজনীতির শিকার হয়েছি। যে রবীন্দ্র জৈনকে আমি এত শ্রদ্ধা করতাম, পণ্ডিচেরি থেকে ফিরে দেখি আমার তোলা গান হেমলতাকে দিয়ে গাইয়ে দিয়েছেন। ভুল প্রচার করা হয়েছে যে, আরতি তো পণ্ডিচেরিতেই থাকে। এইসব হয়েছে...। কী আর করা যাবে।
লতা মঙ্গেশকর আপনাকে স্নেহ করতেন। অথচ মঙ্গেশকর পরিবারই আপনার উত্থানের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়নি কি?
(ম্লান হেসে) লতাজি ভাবতেন, আশাজি ভাবেন আমরা যে জায়গায় আছি সেটাই শেষ। তারপর আর কিছু হয় না। সেভাবে তো মুখে কখনও ওঁরা বলেননি বা বলবেনও না। হাবে, ভাবে, প্রভাবে সেই প্ল্যাটফর্মটার ধারে কাছে কাউকে ঘেঁষতে দিতেন না। চাইতেন, ওঁদের তৈরি জগতে কারও যেন ছায়া না পড়ে।
ভয় না নিরাপত্তাহীনতা?
ভয় ঠিক নয়। হয়তো খানিকটা ওই যে বললেন, ‘ইনসিকিউরিটি’। ওঁদের প্রতিভা আর দক্ষতা নিয়ে তো কোনও প্রশ্ন থাকতে পারে না। সেই ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকতে থাকতে ওঁরা মনে করতেন, এটা শুধু ওঁদেরই জায়গা। এটা অনুভব করলাম ‘গীত গাতা চল’-এর পর থেকে। তারপর রবীন্দ্র জৈন এর ‘দো পঞ্ছি’। সুপার ডুপার হিট। হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের ছবির গান, ‘মাসুম’ তো কিছুটা পরে। তখন আমি যা গাইছি সব সুপারহিট। লতাজির পাশাপাশি আর কারও গান ওই জনপ্রিয়তায় পৌঁছয়নি। ‘শ্যাম তেরে বংশী’ আমার না লতাজির গাওয়া মানুষ তা নিয়ে বিভ্রান্ত। পরে ধীরে ধীরে বুঝেছিলাম খেলাটা কোথায় লুকিয়ে ছিল। ধরুন কোনও মিউজিক ডিরেক্টরের কাছে প্রযোজক গিয়ে বললেন চারটে গান তৈরি করতে হবে। গান তো হল। তিনটের মধ্যে দুটো হয়তো লতাজি গাইবেন, আর একটা আশাজি, বাকিটা আমি। এমন পরিস্থিতিতে লতাজিরা খোঁজ রাখতেন ছবিতে মোট ক’টা গান আছে। কে ক’টা গাইছেন। ধরে নিলাম তিনটে গান আশাজি অথবা লতাজি গাইবেন ঠিক হল। তারপরেও মিউজিক ডিরেক্টর আর প্রোডিউসারকে চতুর্থ গানটা কে গাইছেন বারবার জানতে চেয়ে সমানে চাপ দিতেন। কখনওই কিন্তু বলতেন না, ওই চতুর্থ গানটাও আমাকে দিয়ে গাওয়াতে হবে। চতুর্থ গানটা নিয়েও লতাজি, আশাজি খোঁজ নিচ্ছেন, আগ্রহ দেখাচ্ছেন এটুকুই যথেষ্ট। মিউজিক ডিরেক্টর, প্রোডিউসারের ঘাড়েও তো একটাই মাথা। ভবিষ্যতেও ওঁদের লতাজি, আশাজি ছাড়া চলবে না। এরপর নিশ্চয়ই আর ব্যাখ্যা করার দরকার নেই। এতটা তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আমার ছিল না। গানের বাইরেও এত হিসেব, খোঁজখবর এখনও আমার মধ্যে নেই। মাথা নিচু করে গানটা গুনগুন করতে করতে স্টুডিওতে ঢুকতাম, রেকর্ডিং হয়ে গেল মাথা নিচু করে গানটায় আর কী কী করলে আরও ভালো হতো ভাবতে ভাবতে বেরিয়ে আসতাম। তারপরে গান নিয়ে পাবলিসিটি? আমি গানের মধ্যে বাঁচতে চেয়েছি। ব্যাস।
তৎকালীন বাংলার সঙ্গীত জগৎও কি আপনার যথার্থ মূল্যায়ন করেছিল?
না। করেনি তো। মুম্বই আমার সঙ্গে যা করার করেছে কিন্তু বাংলা কী করেছে আমার জন্য? হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের পর একমাত্র আমার নামের পাশে ব্র্যাকেটে ‘বম্বে’ লেখা থাকত। এটা যেমন তখন অনেকের সহ্য হয়নি, তেমনই অনেকের সাহস হয়নি আমার পরিমণ্ডলে ঢোকার। উল্টে বলা হতো, আরতিকে গান করাব কী, ওর তো সময় নেই। কখনও পণ্ডিচেরি, কখনও মুম্বই। বুঝুন! আমি এখানে থাকতাম না। এই অপপ্রচারের জবাবও দিতে পরতাম না। অথচ আমি সেই সময় বাংলার প্রত্যেক প্রথম সারির সুরকারের সুরে গান গেয়েছি। কী সিনেমা, কী আধুনিক সব গান হিট। সুধীনদা (দাশগুপ্ত), নচিদা (নচিকেতা ঘোষ), অনিল বাগচি, রবিন চট্টোপাধ্যায়— কেউ আমার জন্য আস্ত অ্যালবাম করার কথা ভাবেননি কোনওদিন। নিজের চেষ্টায় হিন্দিতে রবীন্দ্রসঙ্গীতের অ্যালবাম বার করেছি। এইচএমভি বলেছিল আগে লতাজি গাইবেন, তারপর আপনি। আমি কেন মেনে নেব এমন আবদার? লতাজি আজ পর্যন্ত রবীন্দ্রসঙ্গীতের অ্যালবাম করতে পারেননি। আশাজি করেছিলেন। সেটা আলাদা ব্যাপার। রবীন্দ্রসঙ্গীত আমাদের স্বতঃস্ফূর্ত বিষয়। জন্ম থেকে জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
আপনি একসময় দেবব্রত বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে বিশ্বভারতীর চোখরাঙানি মাথায় রেখেও রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্লেব্যাক করেছিলেন। এখন রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে পরীক্ষার শেষ নেই। রবীন্দ্রগানে এত নিরীক্ষার সত্যিই কি প্রয়োজন আছে?
না, এত এক্সপেরিমেন্টের দরকারই নেই আর মিউজিকের বা অর্কেস্ট্রেশনের তো নয়ই। সেদিনও ছিল না, আজও নেই। আমার গানে কিন্তু এত যন্ত্রাণুষঙ্গ নেই। আমি বলব, যেটুকু দরকার নাও, গানটাকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য। ইদানীং দেখছি রবীন্দ্রসঙ্গীতে মিউজিকের বড্ড বাড়াবাড়ি। তাতে গানের মূল আবেগটাই হারিয়ে যাচ্ছে।
এখনকার কোন শিল্পীর গান আপনার ভালো লাগে?
এখন অনেক শিল্পী। তার মধ্যে শ্রেয়া ঘোষালের গান খারাপ লাগে না। ইমনের গান ভালো। আসলে একটা গানের জন্য প্রচুর খাটতে হয়। গেলাম, গাইলাম, চলে এলাম ব্যাপারটা তো তা নয়। পরিশ্রমসাধ্য সাধনার বিষয়। এখন একটা অদ্ভুত জিনিস লক্ষ করছি, ফ্লোরেই গান দিচ্ছে, সেখানেই তোলানো হচ্ছে, তারপরেই রেকর্ডিং হয়ে যাচ্ছে। আমরা এক মাস, খুব তাড়াহুড়ো থাকলে এক সপ্তাহ তো রিহার্সাল করতামই। সবকিছু পারফেক্ট হলেই তবে রেকর্ডিং করা হতো।
এখন তো সব মেশিন করে দিচ্ছে...
হ্যাঁ... অবাক কাণ্ড! মেশিন গলার টিউন ঠিক করে দিচ্ছে। কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত সফটওয়্যার দিয়ে যদি গলার টিউন ঠিক করে দেওয়া হয়, তাহলে আমি কীভাবে সেই শিল্পীকে সম্মান করব?
আপনি এখনও কতক্ষণ রেওয়াজ করেন?
সকালে আর সন্ধ্যায় যতক্ষণ পারি। প্রতিদিন। গানই তো সব। এছাড়া আর কিছু তো ভাবতে পারলাম না জীবনে। অন্য কিছু আকর্ষণ করেনি বা করেও না। গানের মধ্যেই থাকি।
আপনি একটা সময় প্রচুর নাটকের গান গেয়েছেন। ‘পদ্মানদীর মাঝি’র জন্য ৩৫টা গান রেকর্ডিং করেছিলেন। অভিনয় করতেও ভালোবাসতেন, তবুও আপনি ঋত্বিক ঘটকের অনুরোধ রাখলেন না...
(হাসি) হ্যাঁ গেয়েছি তো। প্রচুর নাটকের গান গেয়েছি। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা নিয়ে নাটকের গানও গেয়েছি। আমার দেখাদেখি হেমন্তদাও নাটকের গান গাইতে শুরু করেছিলেন। আসলে নাটকের গান গাইলে গানের মধ্যে যে নাটকীয়তাটা আছে, ওটা প্র্যাকটিস হতো। ঋত্বিক ঘটক অভিনয়ের অফার করেছিলেন। আমার মন সায় দেয়নি। আমি শুধু গান নিয়েই থাকতে চেয়েছি। গানের আনন্দটাই আলাদা।
বিচ্ছিন্নভাবে দু-একটি ছাড়া বাংলা ছবির গান কি অতীত গৌরব হারিয়ে ফেলেছে?
সিনেমার শরীর থেকে গানটা আলাদা হয়ে যাচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। আগে ছবির গল্প অনুযায়ী গান লেখা হতো। এখন গান আলাদা অংশ। আগে গানের কথার মধ্যে ছবির পরিণতি, বিষয় মেশানো থাকত। যেমন ‘এক বৈশাখে দেখা হল দু’জনায়’। পুরো গানটার মধ্যে বিলম্বত লয় সিনেমার ঘাত প্রতিঘাতটা ধরা আছে। আবার আলাদা করে গানটাও কথা ও সুরের মাধুর্যে সুন্দর। এছাড়াও গান যিনি গাইছেন আর গানটা যিনি লিপ দিচ্ছেন, এই দু’জনের মধ্যে একটা অদৃশ্য বোঝাপড়া খুব জরুরি। তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অভিনয়। নায়ক বা নায়িকা যিনি গানটা লিপ দিচ্ছেন তাঁর অভিনয়টাও সেই গানটাকে মাধুর্য মণ্ডিত করে দিত। এসব এখন কোথায়? ছয়াছবির একটা গান জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের দায়িত্ব কম নয়।
আধুনিক বাংলা গানের হারানো গৌরব ফিরে পেতে গেলে কী করতে হবে?
ওই যে বললাম। কথা...। কথা সুন্দর হলেই সুর আপনিই সুরকারের অন্তর থেকে উঠে আসবেই। সর্বোপরি আবেগকে প্রাধান্য দিতে হবে।
সুরকার আরতি নিষ্প্রভ থেকে গেলেন কেন?
সুর করলেই তো হল না। প্রকাশের সঠিক প্ল্যাটফর্ম দরকার। সিনেমায় কে সুযোগ দেবে আমাকে? ঠিক করেছি এবার আমার সুর করা গান একটা একটা করে ইউটিউবে দেব। আমি নিজেই গাইব।
আগামী দিনের পরিকল্পনা?
গানের মধ্যেই যেন জীবনের বাকি সময়টুকু কাটিয়ে দিতে পারি।