নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৪ সালে কলকাতায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যায়নি। কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগের দাবি, ২০২৩ সালের তুলনায় গত বছর শহরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৯০ থেকে ৯২ শতাংশ কমেছে। কোন মন্ত্রে মিলল এমন নজরকাড়া সাফল্য? পুর-প্রশাসনের বক্তব্য, ২০২৪ সালের শুরু থেকেই ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে তৎপরতা শুরু করা হয়েছিল। লাগাতার সচেতনতা প্রচারের পাশাপাশি বহু নিয়ম লঙ্ঘনকারীকে নোটিস ধরানো হয়েছে। নোটিস পেয়ে টনক নড়েছে অনেকের। বাড়ির বিভিন্ন জায়গা কিংবা ফাঁকা জমিতে জঞ্জাল জমে থাকা, জমা জলের সমস্যা দূর করতে গত বছর প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার নোটিস ধরিয়েছে পুরসভা। প্রয় সবক’টি ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ জঞ্জাল বা জমা জল সরিয়েছে। মাত্র ন’টি নোটিসের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করতে হয়েছে পুরসভাকে। পুরকর্তাদের দাবি, নরমে-গরমে বার্তা দেওয়া হয়েছে নাগরিকদের। তাতেই সম্ভবত হুঁশ ফিরেছে বড় অংশের জনতার।
Advertisement
পুরসভার নিয়ম অনুযায়ী, কোনও বাড়ির চত্বরে বা ফাঁকা জমিতে আগাছার জঙ্গল, আবর্জনার স্তূপ, জল জমে থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে মালিকপক্ষকে ভেক্টর কন্ট্রোল আইনে নোটিস ধরানো হয়। জায়গাটি পরিষ্কার করার জন্য সাত থেকে দশদিন সময় দেওয়া হয়। তারপরও মালিকপক্ষ সাফাই না করলে পুরসভার জঞ্জাল সাফাই ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এলাকাটি সাফ করে দেয়। খরচ বাবদ অর্থ ওই জমি বা বাড়ির সম্পত্তি করের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমি বা বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে মিউনিসিপাল কোর্টে মামলা রুজু করা হয়। দোষীসাব্যস্ত হলে ১০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। নিয়মটি যে কোনও বেসরকারি বা স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইতিপূর্বে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেও মামলা করেছে পুরসভা। ভেক্টর কন্ট্রোল আইনের ক্ষমতা বলে পুরসভা রেল, বন্দর, এমনকী সেনাকেও নোটিস ধরাতে পারে।
পুর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, লাগাতার অভিযান এবং নোটিস ধরানোর ফলে জনমানসে সার্বিকভাবে একটা চাপ তৈরি হয়েছে। জরিমানার ভয় ঢুকেছে নাগরিকদের একাংশের মধ্যে। গত বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার নোটিস ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু মামলা করা হয়েছে মাত্র ন’টি ক্ষেত্রে। ২০২৩ সালে প্রায় ১০ হাজার নোটিস ইস্যু করা হলেও ১৪৫টি মামলা হয়েছিল। পুরসভার মুখ্য পতঙ্গবিদ ডঃ দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, ‘আর জি কর, এসএসকেএম ও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মতো হাসপাতালগুলি ২০২৪-এ ভালো কাজ করেছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও ভোগান্তি হয়নি। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। আশা করব, নতুন বছরেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’ কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। জানুয়ারি থেকেই শুরু হবে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের কর্মসূচি।
পুর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, লাগাতার অভিযান এবং নোটিস ধরানোর ফলে জনমানসে সার্বিকভাবে একটা চাপ তৈরি হয়েছে। জরিমানার ভয় ঢুকেছে নাগরিকদের একাংশের মধ্যে। গত বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার নোটিস ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু মামলা করা হয়েছে মাত্র ন’টি ক্ষেত্রে। ২০২৩ সালে প্রায় ১০ হাজার নোটিস ইস্যু করা হলেও ১৪৫টি মামলা হয়েছিল। পুরসভার মুখ্য পতঙ্গবিদ ডঃ দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, ‘আর জি কর, এসএসকেএম ও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মতো হাসপাতালগুলি ২০২৪-এ ভালো কাজ করেছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও ভোগান্তি হয়নি। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। আশা করব, নতুন বছরেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।’ কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। জানুয়ারি থেকেই শুরু হবে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের কর্মসূচি।



