


নয়াদিল্লি: পরের মাসেই বিয়ে। তার আগেই বাড়ি ফেরার কথা ছিল মার্চেন্ট নেভি অফিসার রিক্ষিত চৌহানের। তার আগেই মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হলেন হিমাচল প্রদেশের কাংড়া জেলার ওই বাসিন্দা। গত সপ্তাহে উত্তর আটলান্টিক সাগরে একটি রুশ তেলের ট্যাঙ্কার আটক করে ট্রাম্পের দেশ। সেই জাহাজেই কর্মরত ছিলেন রিক্ষিত। এই অবস্থায় রিক্ষিতকে দেশে ফেরানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বারস্থ হয়েছে তাঁর পরিবার।
রীতিমতো ধাওয়া করে মারিনেরা (আগে বেলা ১) নামক জাহাজটিকে আটক করে আমেরিকা। সেই সময়ে ভিতরে ছিলেন ২৮ জন আধিকারিক ও কর্মী। তাঁদের মধ্যে রিক্ষিত সহ তিন ভারতীয় ছিলেন। সূত্রের খবর, চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরে রিক্ষিতকে প্রথম ভেনেজুয়েলা পাঠিয়েছিল নিয়োগকারী রুশ সংস্থা। যুবকের পরিবার জানিয়েছে, ৭ জানুয়ারি তেলের ট্যাঙ্কারটি আটক করা হয়। তার কয়েক ঘণ্টা আগে রিক্ষিতের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছেলেকে নিরাপদে দেশে ফেরানোর আর্জি জানিয়েছেন রিক্ষিতের মা রীতাদেবী। তিনি বলেন, ‘দয়া করে আমার ছেলেকে ফিরিয়ে আনুন।’ তিনি জানান, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রিক্ষিতের বিয়ে। কথা বলতে গিয়ে রীতাদেবীর গলা ভারী হয়ে আসছিল। তাঁর কথায়, ‘৭ জানুয়ারি শেষবার রিক্ষিতের সঙ্গে কথা হয়েছিল। এখন ঈশ্বরের কাছে আমাদের প্রার্থনা, ও যেন বিয়ের আগে নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসে। প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রীর কাছেও আর্জি জানাচ্ছি। জাহাজে গোয়া ও কেরলের দুই যুবক ছিলেন। রিক্ষিতের সঙ্গে তাঁদেরও ফেরানোর দাবি জানাচ্ছি।’ রিক্ষিতের বাবা রঞ্জিত সিং বলেন, ‘শেষবার যখন কথা হয়েছিল তখনই রিক্ষিত ইঙ্গিত দিয়েছিল, কয়েকদিন যোগাযোগ করা যাবে না। বলেছিল, ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে মার্কিন সেনা। এই অবস্থায় ভেনেজুয়েলা থেকে জাহাজ ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেয় কোম্পানি। এরইমধ্যে ১০ জানুয়ারি জানতে পারি, ছেলের জাহাজ আটক করা হয়েছে।’ এদিকে রিক্ষিতকে দেশে ফেরাতে পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন পালমপুরের বিধায়ক। তিনি জানান, সিমলা গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এবিষয়ে কথা বলব।
জাহাজে ২৮ জন কর্মীর মধ্যে দু’জন রুশ নাগরিক ছিলেন। রবিবার তাঁদের মুক্তি দেয় মার্কিন সেনা। বাকিরা এখনও আটক। এহেন পরিস্থিতিতে বিয়ের আগে কি দেশে ফিরতে পারবেন রিক্ষিত?