ভোপাল: অপরাধ নয়, সাহায্য করেছিলেন। তাতেই খেসারত দিতে হল। ১৩ মাস জেলে কাটল মধ্যপ্রদেশের রাজেশ বিশ্বকর্মার। আইনি লড়াইয়ের সামর্থ্য ছিল না পেশায় দিনমজুর রাজেশের। তাই দোষ না করেও এক বছরের বেশি জেলের ঘানি টানতে হল তাঁকে। রাজেশের বাবা-মা নেই। পরিবার বলতে এক বোন। তিনিও নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। রাজেশের মাথা গোঁজার ঠাই বলতে ভোপালের আদর্শ নগর বস্তির একচিলতে ভাড়ার ঘর। ২০২৪-র ১৬ জুন স্থানীয় এক বৃদ্ধার অসুস্থতার খবর পান রাজেশ। বৃদ্ধাকে হাসপাতালে নিয়ে যান রাজেশ। কিন্তু সেদিন বিকেলেই মৃত্যু হয় বৃদ্ধার। পরদিন সকালে আচমকা রাজেশের বাড়িতে হাজির হয় পুলিস। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে থানাতে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃদ্ধার মৃত্যুর দায় তাঁর ঘাড়ে পড়তে পারে বলে দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি রাজেশ। কিন্তু বিধি বাম! থানায় তাঁকে ফাটকে ঢুকিয়ে দিল পুলিস। তাঁর কাতর আর্জিতে কোনও কাজ হয়নি। এমনই অভিযোগ রাজেশের। তারপর থেকে টানা ১৩ মাস গারদের ওপারেই কেটে গিয়েছে। রাজেশকে জেলে পাঠানোর পর তাঁর বোনকে অবশ্য খবর দিয়েছিল পুলিস। তাঁরও হতদরিদ্র অবস্থা। উকিলকে দেওয়ার মতো টাকাপয়সা জোগাড়ের সামর্থ্য তাঁর ছিল না। তবে মাঝেমধ্যে জেলে এসে দাদার সঙ্গে দেখা করতে বোন। তাই রাজেশের মতো তাঁর বোনও আদালতে সুবিচারে ভরসাতেই কাটিয়েছেন।



