নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণবঙ্গের উপর সোমবার গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আজ, মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও দুই বর্ধমান জেলার কিছু জায়গায় অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি ছিল। এজন্য ‘লাল’ সতর্কতা জারি করা হয়। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই ছিল ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। তাই জারি করা হয় ‘কমলা’ সতর্কতা। কলকাতাসহ দক্ষিবঙ্গের সব জেলাতেই এদিন বৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ খতিয়ে দেখা যাচ্ছে, দুই ২৪ পরগনার উপকূল এলাকা এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে। মেদিনীপুরে বিকেল পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টায় প্রায় ৯০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপে ৮৩ মিমি, ক্যানিংয়ে ৬৩ মিমি এবং বসিরহাটে ৮৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। কলকাতায় সোমবার বিকেল পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৩০ মিমি। দমদমে হয়েছে প্রায় ৪০ মিমি। দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে কম বৃষ্টি হয়েছে এইসময়ে।
পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ এবং উত্তর ওড়িশা উপকূল লাগোয়া উত্তর বঙ্গোপসাগরের উপর রবিবার রাতে নিম্নচাপ তৈরি হয়। সোমবার সকালে সেটি শক্তি বাড়িয়ে দক্ষিণ-পূর্ব গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং লাগোয়া বাংলাদেশের উপর গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়। বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ গভীর নিম্নচাপটি কলকাতা থেকে ৭০ কিমি উত্তরে এবং বর্ধমান থেকে ৫০ কিমি পূর্বে অবস্থান করছিল। গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম অভিমুখে এগচ্ছে।
আলিপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সৌরীশ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, গভীর নিম্নচাপটি ঝাড়খণ্ডের দিকে যাবে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর আজ, মঙ্গলবার ও আগামী কাল, বুধবার ঝাড়খণ্ডে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। ঝাড়খণ্ডে বেশি মাত্রায় বৃষ্টি হলে দক্ষিণবঙ্গে বন্যার আশঙ্কা থাকে। কারণ বিভিন্ন নদীর জলস্তর বৃদ্ধির ফলে সংশ্লিষ্ট বাঁধগুলি থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ে। সেই জল ঢোকে দক্ষিণবঙ্গে। এমনিতেই দক্ষিণবঙ্গে নিম্নচাপের জন্য বেশি মাত্রায় বৃষ্টি হচ্ছে। আজ, মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
সৌরীশবাবু জানান, নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপ থেকে কী মাত্রায় বৃষ্টি হবে, তা বিভিন্ন পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে। নিম্নচাপের এবং বায়ুপ্রবাহের গতিপ্রকৃতি, জলীয় বাষ্পের পরিমাণ প্রভৃতি বৃষ্টিপাতের পরিমাণের উপর প্রভাব ফেলে। নিম্নচাপ কোনও এলাকায় দ্রুত সরে গেলে বৃষ্টি কমে যায়। কিন্তু এক জায়গায় স্থির থাকলে বা ধীর গতিতে এগলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ে। গভীর নিম্নচাপটি বিকেলের পর থেকে কিছুটা গতি পেয়েছে।