Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

নিশ্চিন্তের ডলারে উধাও ‘স্বর্গসুখ’!

গত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের ঘটনা। দু’দিন পর জোহানেসবার্গে বসবে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলির জোট জি-২০-র সম্মেলন। চারদিকে সাজো সাজো রব। সম্মেলন স্থল থেকে ঠিক ২০ মিনিট দূরে প্রিটোরিয়ায় উপস্থিত দক্ষিণ আফ্রিকা ও চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানরা।

নিশ্চিন্তের ডলারে উধাও ‘স্বর্গসুখ’!
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মৃণালকান্তি দাস: গত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের ঘটনা। দু’দিন পর জোহানেসবার্গে বসবে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলির জোট জি-২০-র সম্মেলন। চারদিকে সাজো সাজো রব। সম্মেলন স্থল থেকে ঠিক ২০ মিনিট দূরে প্রিটোরিয়ায় উপস্থিত দক্ষিণ আফ্রিকা ও চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানরা। হাইপ্রোফাইল সেই বৈঠকে ঠিক হয় দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম ব্যাংক ‘স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক’ চীনের ‘ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম’ (সিআইপিএস)-এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে। এর অর্থ, এরপর থেকে আফ্রিকার ব্যবসায়ীরা কোনো মধ্যস্থতাকারী মুদ্রা (বিশেষ করে মার্কিন ডলার) ছাড়াই সরাসরি ইউয়ানে চীনের সঙ্গে লেনদেন করতে পারবেন। শুধু এই একটি খবরেই আঁতকে উঠেছিল ওয়াশিংটন।

Advertisement

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মার্কিন ডলার এখনও বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ কারেন্সি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৬০ শতাংশেরও বেশি লেনদেন ডলারেই হয়। ডলারের জন্যই দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার গায়ে সাঁটা রয়েছে ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’-এর (সেফ হেভেন) তকমা। বিশ্বের যে কোনো জায়গায় আর্থিক সংকট এলে আমেরিকার দ্বারস্থ হওয়াই ছিল রেওয়াজ। কিন্তু, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জমানায় সেই প্রথা ভাঙতে বসেছে। রাজনৈতিক কারণে ডলারকে ক্রমাগত মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহারে অনেক দেশ এখন তিতিবিরক্ত। ট্রাম্পের তুঘলকি নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে এখন কোমর বেঁধে বিকল্প পথের খোঁজ চালাচ্ছে লগ্নিকারী থেকে শুরু করে দুনিয়ার তাবড় শক্তিশালী ব্যাংক। বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি। এর নেতৃত্বে আছে ব্রিকস জোট। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে সম্প্রতি যোগ দিয়েছে মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। গ্লোবাল সাউথের সেই বাজার ধরতে ব্রিকস তাদের নিজস্ব ডিজিটাল মুদ্রা ‘ব্রিজ’ নিয়ে কাজ করছে। এটি সফল হলে ডলার এবং সুইফট সিস্টেম ছাড়াই বাণিজ্য করা সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক লেনদেন কার্যপ্রক্রিয়ার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল দ্য সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিনানশিয়াল টেলিকমিউনিকেশনস বা সুইফট। এটি এক ধরনের নিরাপদ বার্তা প্রেরণ পরিষেবা, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে দু’শোটি দেশের এগারো হাজারেরও বেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এর সদর দপ্তর বেলজিয়ামে। সুইফট মূলত আমেরিকার প্রভাবে চলে। সেই সুইফটের বিকল্প হয়ে উঠছে সিআইপিএস।
সম্প্রতি ব্রাজিলও চীনের সিআইপিএসে যুক্ত হয়েছে। চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে (যেমন- সয়াবিন বিক্রি) তারা ডলারের বদলে রিয়াল এবং ইউয়ান ব্যবহার বাড়াচ্ছে। ভারত ও আমিরশাহি রুপি ও দিরহামে বাণিজ্য করছে। চীন ও আমিরশাহি এলএনজি বাণিজ্যে ইউয়ান ব্যবহার করছে। আর্জেন্তিনা, ইরাক ও সৌদি আরবের সঙ্গেও চীন ইউয়ানে লেনদেন করছে। পশ্চিমি দুনিয়ার নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চীন ও রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নিজস্ব মুদ্রার ব্যবহার বাড়িয়েছে। ভারত ও রাশিয়াও রুপি-রুবলে বাণিজ্য করছে। তবে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন বাড়লেও এখনও সুইফট ও ডলারের তুলনায় তা নগণ্য। এখনও বিশ্ববাণিজ্যের ১০ শতাংশেরও কম চীনা মুদ্রা ইউয়ানের দখলে।
প্রশ্ন হল, ডলারের আধিপত্য কমাতে এত তোড়জোড় কেন?
দক্ষিণ আফ্রিকার থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল ডায়লগ’-এর বিশ্লেষক সানুশা নাইডু বলছেন, ‘ডলারে লেনদেন করলেই একটা গোপন খরচ বা হিডেন কস্ট আমেরিকার পকেটে যায়। এখন বহু দেশ প্রশ্ন তোলা শুরু করেছে— কেন আমরা আমেরিকাকে এই টাকা দেব?’ নিজস্ব মুদ্রায় সরাসরি লেনদেন হলে এই খরচ বাঁচে এবং মুদ্রা বিনিময়ের ঝুঁকি কমে। তবে ইউনিভার্সিটি অব প্রিটোরিয়ার অধ্যাপক ড্যানি ব্র্যাডলোর মতে, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যে ব্যবহারিক চ্যালেঞ্জ আছে। যেমন— বতসোয়ানা ও মেক্সিকোর মধ্যে বাণিজ্য কম। তাই একে অপরের মুদ্রা জমিয়ে রাখার চেয়ে ডলার ব্যবহার করাই তাদের জন্য সুবিধাজনক। ব্র্যাডলোর কথায়, ডলারের বিকল্প খোঁজার আগ্রহ নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। সোনার দাম বাড়াই এর প্রমাণ। দেশগুলি ডলারকে আর পুরোপুরি স্থিতিশীল মনে করছে না। তাই তারা সোনা ও রুপোয় বিনিয়োগ বাড়িয়ে ঝুঁকি কমাচ্ছে। আমেরিকার রাজনৈতিক পরিবর্তন এই অবিশ্বাসের কারণ। আমেরিকা যেভাবে আফগানিস্তান থেকে রাশিয়া— যখন যার ডলার-রিজার্ভ ইচ্ছেমতো আটকে দিচ্ছে, তাতে মধ্যপন্থী দেশগুলির মধ্যেও ভয় ঢুকেছে। ফলে ডলারের বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করছে আমেরিকাই!
বিশ্লেষকরা বলছেন, বার বার গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি। সেই সঙ্গে যখন-তখন চড়া হারে শুল্ক চাপিয়ে দেওয়া। সামরিক খাতে খরচ বাড়ানোর চাপ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘পাগলামি’তে নাকের জলে চোখের জলে পশ্চিম ইউরোপ। এ-হেন পরিস্থিতিতে আমেরিকাকে চরম শিক্ষা দিতে ‘ডলার খুনের’ ছক কষছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ? এই নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা। গত ৭৬ বছরে আন্তর্জাতিক লেনদেনের পুরোটাই ডলারে হওয়ায় আমেরিকার উপর মারাত্মক ভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে পশ্চিম ইউরোপ। কারণ, খনিজ তেল-সহ যাবতীয় বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য বিদেশি মুদ্রাভাণ্ডারে বিপুল পরিমাণে মার্কিন মুদ্রা রাখতে হচ্ছে তাদের। এর জেরে জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমেরিকার ‘চোখরাঙানি’ও সহ্য করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পরিস্থিতি বদলাতে ১৯৯৯ সালে ইউরো নামের মুদ্রা বাজারে আনে ওই ২৭ দেশের সংগঠন। কিন্তু, তারপরেও হাওয়া ঘোরাতে সফল হয়নি ইইউ। বর্তমানে গোটা বিশ্বের বিদেশি মুদ্রাভাণ্ডারের প্রায় ৬০ শতাংশের উপর রয়েছে ডলারের দখলদারি। সেখানে মাত্র ২০ শতাংশ জায়গা পেয়েছে ইউরো। পশ্চিমি সংবাদমাধ্যমগুলির একাংশের দাবি, ট্রাম্পের ‘দৌরাত্ম্য’ বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট মুদ্রাটিকে আরও শক্তিশালী করার রাস্তায় ধীরে ধীরে হাঁটতে শুরু করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ফলে আগামী দিনে লাফিয়ে লাফিয়ে নামতে পারে মার্কিন মুদ্রার বাজারদর, যা নিঃসন্দেহে ওয়াশিংটনের অর্থনীতির ভিত নাড়িয়ে দেবে, বলছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। 
পশ্চিমি আর্থিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের মুদ্রায় অপরিশোধিত খনিজ তেল কেনার চুক্তি সারলে বিশ্ব জুড়ে গুরুত্ব হারাবে পেট্রো-ডলার। তখন অনেক দেশই বৈদেশিক মুদ্রাভাণ্ডারে মার্কিন অর্থ রাখার পরিমাণ কমাতে পারে। ইতিমধ্যেই তা শুরু হয়ে গিয়েছে বলা যেতে পারে। গত কয়েক বছরে ভারত-সহ ইউরোপীয় দেশগুলিকে সোনা কেনায় জোর দিতে দেখা গিয়েছে। ফলে বিশ্বমুদ্রার ফের সোনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্পষ্ট করেছেন তাঁরা। তাছাড়া আগামী দিনে ব্রিকসের মুদ্রাকে মান্যতা দিতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। তাতে দুনিয়া জুড়ে ডলারের ‘দাদাগিরি’ যে অনেকটাই কমে যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
তবে কি ডলারের পতন নিশ্চিত?
অধিকাংশ বিশ্লেষক বলছেন, এখনই না। তেল বা কাঁচামালের দাম নির্ধারণে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ হিসেবে ডলারই প্রধান থাকবে। এখনও ডলারের কোনো বিকল্প নেই। গ্লোবাল সাউথ ও ব্রিকস দেশগুলি আসলে ডলারের পুরোপুরি বিকল্প চাইছেও না। তারা চাইছে বৈচিত্র এবং লেনদেনের বিকল্প ব্যবস্থা, যাতে একমাত্র সুইফটের উপর নির্ভর করতে না হয়। কিন্তু আমেরিকা ডলারের আধিপত্য ধরে রাখতে সব কিছু করবে। আমেরিকার ক্ষমতার চার স্তম্ভ— নিরাপত্তা, অর্থ, জ্ঞান ও উৎপাদন—সবই ডলারের উপর দাঁড়িয়ে। বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হলে এই স্তম্ভগুলি দুর্বল হয়ে পড়বে। বিশ্ব যদি আমেরিকার অর্থনীতি ও নেতৃত্বের উপর আস্থা হারায়, তবে শেষপর্যন্ত চীনা ইউয়ানের উত্থানই ডলারের আধিপত্য ভাঙবে। ‘পেট্রোডলারের’ বদলে যেদিন ‘পেট্রোইউয়ান’ বিশ্ববাজারে তেলের দাম নির্ধারণে ব্যবহৃত হবে, সেদিনই ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটবে। আর তা বুঝেই ট্রাম্প হুমকি দিয়ে রেখেছেন, লেনদেনের মাধ্যম হিসাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুধুই ডলার থাকবে। কোনো দেশ নিয়ম বদলের চেষ্টা করলে, আমেরিকা তাকে বিদায় জানাবে।
তবে সম্প্রতি সোনার মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে পরিবর্তনের ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুগ যুগ ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনা বিনিয়োগকারীদের প্রথম পছন্দ। যখন চারপাশের সবকিছু টালমাটাল হয়ে ওঠে, তখন সহজে বহনযোগ্য এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বিক্রয়যোগ্য উচ্চমূল্যের পণ্য হিসেবে সোনার অবস্থান এক নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণেই গত এক বছরে বিনিয়োগকারীরা ব্যাপকভাবে সোনার দিকে ঝুঁকেছেন। বিশেষ করে সোনাভিত্তিক এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ)। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলিও তাদের সোনার মজুত বাড়িয়ে চলেছে। এর ফলে মূল্যবান এই ধাতু একের পর এক দামের রেকর্ড ভেঙেছে এবং মূল্যস্ফীতি সমন্বিত হিসাব অনুযায়ী, এটা ১৯৮০ সালের সর্বোচ্চ মূল্যকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। 
কেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলি বেশি স্বর্ণ কিনছে? 
২০২৪ সালের শুরু থেকে সোনার দামের তীব্র উত্থানের পিছনে বড়ো ভূমিকা রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির ব্যাপক কেনাকাটা। বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতিগুলিতে, যারা বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা ডলারের উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলি নিট ক্রেতা হিসেবে সোনা কিনছে। তবে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর এই প্রবণতা আরও জোরদার হয়েছে। আমেরিকা ও তার মিত্ররা যখন তাদের দেশে রাখা রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল বাজেয়াপ্ত করে, তখন বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয় যে— বিদেশি মুদ্রাভিত্তিক সম্পদ যখন তখন এমন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এর পরিণতিতেই চীনের পিপলস ব্যাংক গত ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ১৪ মাস ধরে সোনা কিনেছে।
ভারত ও চীনের মতো দেশগুলির ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা আমেরিকার ডলার নিয়ে একচ্ছত্র অধিকার বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড়ো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মত আমেরিকার অর্থনৈতিক বিশারদদের একাংশের। তাঁদেরই একজন জেরাল্ড সেলেন্ট। মার্কিন ডলারের ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলেও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন সেলেন্ট। বলেছেন, ‘যা ঘটছে তাতে আমেরিকার অর্থনীতি পতনের মুখে। ডলারের মৃত্যুর কাল ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।’ সেলেন্ট স্বীকার করে নিয়েছেন, ‘পাগলা রাজা’র খামখেয়ালিতেই ‘খাবি খাচ্ছে’ ডলার।
ট্রাম্প-নীতিতে নিশ্চিন্তের ডলারে উধাও হয়ে গিয়েছে ‘স্বর্গসুখ’!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ