


নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে টাকার জন্যই মধ্যবিত্ত মানুষ স্বাস্থ্যবিমা করেন। বহু টাকা বছরে বছরে দিতে হয় প্রিমিয়াম বাবদ। কিন্তু বিমা সংস্থাগুলির একাংশ মানুষের প্রয়োজনে সেই টাকা দিতে চাইছে না। ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের শরণাপন্ন হলেও কাজ হচ্ছে না অনেক ক্ষেত্রে। ওই দপ্তরের নোটিসকে গ্রাহ্যই করছে না বিমা সংস্থাগুলি। ভূরি ভূরি এ ধরনের অভিযোগ আসছে। এক চিকিৎসক পর্যন্ত বিমা সংস্থার এই অমানবিক আচরণের শিকার হয়েছেন। আসানসোল জেলা হাসপাতালে কর্মরত সেই ডাক্তার অরিতা চট্টরাজ ক্যান্সারের রোগী। তাঁর স্বামীও ডাক্তার। কাজেই তাঁরা খুব ভালোই জানেন, কোন ক্ষেত্রে মেডিক্লেমের টাকা পাওয়া যায় আর কোন ক্ষেত্রে যায় না। অরিতা দেবীর একটি নামজাদা সংস্থার স্বাস্থ্যবিমা রয়েছে। তিনি চিকিৎসা করা তে গেলে সংস্থাটি প্রথমে ‘ক্যাশ লেস’ (অর্থাৎ চিকিৎসার টাকা বিমা সংস্থা সরাসরি হাসপাতালকে দেবে) সুবিধে দিতে অস্বীকার করে। পরে অরিতা দেবী চিকিৎসার সব নথি ও বিল দিয়ে টাকা ‘রিইমবার্স’ (নিজের থেকে খরচের পর বিমা সংস্থার টাকা দেওয়া) করার দাবি করেন। কিন্তু তাতেও বিমা সংস্থাটি ভ্রুক্ষেপ করেনি। শেষে চিকিৎসক দম্পতি ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের শরণাপন্ন হন। কিন্তু ওই দপ্তর থেকে নোটিস পেয়েও অনমনীয় মনোভাব দেখায় বিমা সংস্থাটি। পরে দম্পতি যখন আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিলে, ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের মধ্যস্থতায় ৩ লক্ষ ৮০ টাকা দিয়েছে বিমা সংস্থাটি।
একই ভাবে সিএলডব্লুর কর্মী ৫৮ বছরের বাসুদেব চট্টোপাধ্যায়ও বিমা সংস্থার হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁর ছেলেকে হিপ রিপ্লেসমেন্টের জন্য দুর্গাপুরের একটি বড় বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন। তিনিও ক্যাশলেস সুবিধে পাননি। এদিক ওদিক থেকে টাকা জোগাড় করে ছেলের অপারেশন করান তিনি। তারপর হাসপাতালের বিল নিয়ে যখন বিমা সংস্থার কাছে যান, তাঁকে জানানো হয়, টাকা দেওয়া যাবে না। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে প্রৌঢ়ের। হয়রানির শিকার হয়ে তিনি যান ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরে। সরকারি দপ্তরের মধ্যস্থতায় ২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা বিমা সংস্থার কাছ থেকে পান বুদ্ধদেববাবু। একই ভাবে হয়রানির শিকার হয়েছিলেন নিমাইচন্দ্র মণ্ডলও। তিনিও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরে অভিযোগ করে ৩ লক্ষ টাকা পেয়েছেন বিমা সংস্থার কাছে।
চাপে পড়ে এই তিনটি ক্ষেত্রে বিমা সংস্থা টাকা ফেরত দিলেও সবার সেই সৌভাগ্য হয়নি। ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর সূত্রেই জানা গিয়েছে, বহু বিমা সংস্থা তাঁদের নোটিসকেও গুরুত্ব দিচ্ছে না। বহু মানুষ অফিসে এসে বার বার ফিরে যাচ্ছেন। বহু বছর ধরে বিমা সংস্থার প্রিমিয়াম দেওয়ার পর চিকিৎসার টাকা দেওয়ার এই গড়িমসি দেখে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেরই অভিযোগ, ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের নোটিসে কাজ হলে ভালো, না হলে বিষয়টি ডিস্ট্রিক্ট কনজিউমার ডিসপুট রিড্রেসাল কমিশনে চলে গেলে তা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হয়ে যায়। রোগের ভারে যে সময়ে রোগী ও তাঁর আত্মীয় পরিজনরা ব্যতিব্যস্ত তখন বিমা সংস্থার এই আমনবিক আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিক সরকার, দাবি হয়রানির শিকার হওয়ার মানুষদের। কনজিউমার অ্যাফেয়ার ডিরেক্টরেটের পশ্চিম বর্ধমানের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর বিপ্লব সরকার বলেন, স্বাস্থ্যবিমা সংস্থাগুলি ক্রেতাদের বিমার টাকা দিতে বহু ক্ষেত্রেই হয়রানি করছেন। আমরা বহু অভিযোগ পাচ্ছি।