


তেল আভিভ: হামাসকে শীঘ্রই নিরস্ত্র করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাতে অবশ্য বিন্দুমাত্র কান দিচ্ছে না প্যালেস্তাইনের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী। গাজায় প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে চলেছে তারা। হামাসের সাম্প্রতিক হত্যালীলার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সোমবার বিকেলের ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাস্তায় জখম অবস্থায় হাঁটু মুড়ে বসে রয়েছেন আটজন ব্যক্তি। তাঁদের চোখ কাপড় দিয়ে বাঁধা। কিছুক্ষণ পরেই আটজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় হামাসের বেশ কয়েকজন বন্দুকবাজ। মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন প্রত্যেকে। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। হামাসের অবশ্য দাবি, মৃতরা প্রত্যেকেই অপরাধী। ইজরায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছিল। যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে ইতিমধ্যে গাজার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরে গিয়েছে ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। তারপরই পুরনো এলাকার দখল নিতে মরিয়া হামাস। একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যদেরও তারা খতম করে চলেছে। এই অবস্থায় মঙ্গলবার ফের হামাসকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প—‘ওদের অস্ত্র ছাড়তেই হবে। না হলে আমরা সেটা করিয়ে ছাড়ব। কাজটা খুব তাড়াতাড়ি করা হবে। হয়তো জোর করে।’
এই পরিস্থিতিতে পণবন্দিদের মৃতদেহ নিয়েও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইজরায়েলি সেনা। ট্রাম্পের শান্তি চুক্তির পরে সোমবার ২০ জন পণবন্দিকে জীবিত অবস্থায় ইজরায়েলে ফেরত পাঠিয়েছে হামাস। সঙ্গে আসে চারজনের দেহ। মঙ্গলবার আরও চারজনের দেহ পাঠায় প্যালেস্তাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী। তবে ফরেন্সিক পরীক্ষার পরেই স্পষ্ট হয়ে যায় ছবিটা। ইজরায়েলি বাহিনীর দাবি, আটটি মৃতদেহের মধ্যে একটি দেহ কোনও পণবন্দির নয়। এই পরিস্থিতিতে হামাসাকে কড়া বার্তা দিয়েছে তারা। জানিয়েছে, ‘হামাসকে নিহত পণবন্দিদের দেহ ফেরত পাঠানোর যাবতীয় ব্যবস্থা করতেই হবে।’ একই সুরে হুঁশিয়ারি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর, ‘এবিষয়ে কোনওরকম আপস করব না। প্রত্যেকের দেহ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রচেষ্টা থামবে না।’ এটা অবশ্য প্রথমবার নয়। চলতি বছরের শুরুতেও শিরি বিবাস নামে এক মহিলা পণবন্দির দেহ পাঠাতে ভুল করেছিল হামাস। পরে অবশ্য তারা ভুল শুধরে নেয়।