Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

৮ ঘণ্টা কাজ করতে হবেই অধ্যাপকদের, কড়া নিদান ইউজিসির

৮ ঘণ্টা কাজ করতে হবেই অধ্যাপকদের, কড়া নিদান ইউজিসির
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: অন্যান্য সরকারি বা বেসরকারি চাকরির সঙ্গে ফারাক থাকছে না কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-অধ্যাপকদের। এবার তাঁদেরও ন্যূনতম ৮ ঘণ্টা ক্যাম্পাসে থাকতেই হবে। এই মর্মে খসড়া নীতি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, একজন অধ্যাপক আট ঘণ্টার আগে তাঁর কর্মক্ষেত্র ছাড়তে পারবেন না। যদিও, এই নীতি বাস্তবে প্রয়োগ করতে গেলে ইউজিসি তথা শিক্ষামন্ত্রককে কড়া বিরোধের মুখে পড়তে হবে বলে শিক্ষক মহলের দাবি।
Advertisement
আট ঘণ্টার ‘চাকরি’ই শুধু নয়, ক্যাজুয়াল লিভ ১৪ দিন থেকে কমিয়ে করা হয়েছে আট দিন। ইউজিসির বক্তব্য, বর্তমানে ক্লাসরুম ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। জোর দেওয়া হচ্ছে পারদর্শিতা বৃদ্ধি এবং ‘আউটকাম’ ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায়। একটি কোর্স করে পড়ুয়ারা আখেরে কতটা শিখতে পারছে, তার ভিত্তিতে এই ‘আউটকামে’র সূচক নির্ধারিত হয়। তাই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের আরও বেশি সময় দিতে হবে। একইভাবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লম্বা ছুটি দু’সপ্তাহ পর্যন্ত কমানোর পরামর্শও দিয়েছে তারা। তবে, এই সময়ের মধ্যে ক্লাস নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মোট দিনের এক-তৃতীয়াংশ ‘আর্নড লিভ’ হিসেবে পাবেন। কলেজের ক্ষেত্রে অবশ্য এই ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে না।
আপাতভাবে ইউজিসি যেখানে পঠন-পাঠনের সময় বাড়াতে চাইছে, সেখানে আরও একটি শর্তে তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে। তারা বলেছে, প্রত্যেক সেমেস্টারে অন্তত ১৫ সপ্তাহ ক্লাস করতেই হবে। বাকি সময়টা বরাদ্দ থাকবে পরীক্ষা, পড়ুয়াদের নিয়ে সামাজিক কাজ, এনসিসি, দক্ষতাবৃদ্ধি সংক্রান্ত নানা ক্রিয়াকলাপ, গবেষণা এবং প্রশাসনিক কাজের জন্য। এ নিয়ে শিক্ষকদের একটা অংশ প্রশ্ন তুলেছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গৌতম মাইতি বলেন, ‘ইউজিসি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। অধ্যাপকরা কতক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবেন, তা ইউজিসি ঠিক করে দিতে পারে না। এটা প্রতিষ্ঠানের স্বাধিকারে হস্তক্ষেপ। যাদবপুরে বিধি অনুযায়ী ন্যূনতম পাঁচ ঘণ্টা থাকার নিয়ম রয়েছে। যদিও, বাস্তবক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি সময়ই অধ্যাপকরা বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক কাজে ক্যাম্পাসে থাকেন। তাই, আট ঘণ্টার সময়সীমা চাপিয়ে দেওয়ার নীতিটি অপমানজনক।’ ১৫ সপ্তাহ পঠন-পাঠনের শর্তটি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা বলছেন, একটি সেমেস্টারে কোর্সভেদে ১৮ থেকে ২০ সপ্তাহ ক্লাস এমনিতেই হয়। ইউজিসি যেখানে পঠন-পাঠনের সময় বাড়াতে চাইছে, সেখানে ন্যূনতম সময় ১৫ সপ্তাহে বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি হাস্যকর। সেটা বরং আরও বাড়ানো উচিত ছিল। শিক্ষক আন্দোলনের নেতা, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক তরুণকান্তি নস্কর বলেন, ‘এ ধরনের শর্ত দেওয়ার পাশাপাশি যোগ্যতা-বিধিতেও আপত্তিকর পরিবর্তন আনছে ইউজিসি। এখন কোনও বিষয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হতে গেলে স্নাতক বা স্নাতকোত্তরে সেই বিষয়ে পড়াশোনা না করলেও চলবে। শুধুমাত্র সেই বিষয়ে পিএইচডি থাকতে হবে। এতে শিক্ষকদের গভীরতা কমতে বাধ্য। তাছাড়া উপাচার্যদের প্রশাসনিক এবং শিল্পক্ষেত্র থেকে নিয়োগ করার যে ছাড় দেওয়া হয়েছে, তা আরও ক্ষতিকর।’
সম্পর্কিত সংবাদ