Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

উৎসব মরশুমে গয়নার জোগান দিতে হিমশিম অবস্থা জেমস-জুয়েলারি পার্কের সংস্থাগুলির

শুধু বেসরকারি বিনিয়োগই নয়, কর্মসংস্থানেও সফল মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প হাওড়ার অঙ্কুরহাটির জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্ক।

উৎসব মরশুমে গয়নার জোগান দিতে হিমশিম অবস্থা জেমস-জুয়েলারি পার্কের সংস্থাগুলির
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৭:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শুধু বেসরকারি বিনিয়োগই নয়, কর্মসংস্থানেও সফল মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প হাওড়ার অঙ্কুরহাটির জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্ক। প্রায় সাড়ে পাঁচ একর জমির উপর গড়ে ওঠা এই জুয়েলারি পার্কের ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটগুলিতে পুজোর আগে ব্যস্ততা চরমে। হাঁফ ফেলার জো নেই কয়েক হাজার শ্রমিকের। ভিন রাজ্যের তুলনায় মিলছে ভালো মজুরি, রয়েছে কাজের নিশ্চয়তাও। তাই মহারাষ্ট্র, বেঙ্গালুরু থেকে আসা গয়না শিল্পের কারিগরদের অনেকেই অঙ্কুরহাটিতে কাজে ঢুকতে চাইছেন। কর্মসংস্থান দ্বিগুণ বাড়াতে পার্কের বাকি অংশের জমিতে পুজোর পরেই তৈরি হতে চলেছে আরও ইউনিট।

Advertisement

১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে অঙ্কুরহাটি মোড় থেকে মাকড়দহে যাওয়ার রাস্তায় পরে জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্কটি। সাড়ে পাঁচ একর জমির মধ্যে ইতিমধ্যেই চার একরের বেশি জমিতে তৈরি হয়েছে ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটগুলি। মোট ৩৫টি কোম্পানি সোনা ও হিরের গয়নার ডিজাইন থেকে শুরু করে ফিনিশড প্রোডাক্ট তৈরি হয় এখানে। এরমধ্যে ১৮টি বহুজাতিক সংস্থা রয়েছে। বাকি ১৭টি সংস্থা দেশীয়। ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটগুলিতে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। ২০১৬ সালে এই জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি পার্কের উদ্বোধন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করোনা পরিস্থিতির পর বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠেছে এই পার্ক। জানা গিয়েছে, সেই সময় চাহিদা দ্বিগুণ বাড়ে। চেন্নাই, মুম্বই, রাজস্থান, বেঙ্গালুরু, এমনকী দুবাই থেকে জুয়েলারি শিল্পের দক্ষ শ্রমিকরা ফিরে আসেন এখানে। কারিগরদের সিংহভাগই ডোমজুড়, বাঁকড়া সহ হাওড়া গ্রামীণের বাসিন্দা। জুয়েলারি পার্কের ম্যানেজার সুনীল দাস বলেন, ‘এমনিতেই বিয়ের সিজনে এখানে উৎপাদন বেড়ে যায়। পুজোর সময় এখন দিনরাত এক করে কাজ চলছে। অনেকগুলি শিফটে কাজ করে অর্ডার সামলাতে হচ্ছে। দিওয়ালি পর্যন্ত এই ব্যস্ততা চলবে।’ ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটগুলিতে কর্মরত শ্রমিকদের অনেকেই বলেন, ‘অন্য রাজ্যের তুলনায় এখানে মজুরি বেশি। ওভার শিফটিংয়ের জন্য বেশি টাকাও পাওয়া যায়।’ জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাসে মহারাষ্ট্র থেকে আসা প্রচুর শ্রমিক এখানে কাজে ঢুকতে চাইছেন। অঙ্কুরহাটি জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি ম্যানুফ্যাকচারার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অশোককুমার বেঙ্গানির কথায়, বিনিয়োগের অন্যতম ল্যান্ডমার্ক হয়ে উঠেছে এই জুয়েলারি পার্ক। দক্ষ শ্রমিকের আধিক্য ও ইউনিট চালাতে অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় কম খরচ হওয়ায় এই জুয়েলারি পার্কে বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ছে বহু সংস্থার। তাই পার্কের বাকি এক একর জমিতে শীঘ্রই তৈরি হবে আরও ইউনিট। সেজন্য ইতিমধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ