নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: দেশের জ্বালানি সংকট উদ্বেগজনক চেহারা নিচ্ছে। সোমবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে কার্যত সেকথা স্বীকার করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। করোনাকালের মতো কৃচ্ছ্রসাধনের বার্তাও দিয়েছেন। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সামনে এল জোড়া দুঃসংবাদ। প্রথমটি রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের নতুন নিয়ম। আর ২৫ দিন নয়, সিলিন্ডার ডেলিভারির পর গ্যাস বুকিংয়ের জন্য এবার অপেক্ষা করতে হবে ৩৫ দিন। শহর-গ্রাম সর্বত্রই। বাড়িতে দু’টি সিলিন্ডার থাকা গ্রাহকের ক্ষেত্রে অপেক্ষার এই সময়সীমা বাধ্যতামূলক! প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনায় অবশ্য প্রতীক্ষার প্রহর আরও বেশি, ৪৫ দিন। সংকট যে শুধু গ্যাসেই, এমনটা নয়। তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনে করা এক প্রশ্নের জবাবে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে, স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভে থাকা অশোধিত তেল দিয়ে দেশের মাত্র সাড়ে ন’দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে বর্তমানে সেটুকু জ্বালানিও সঞ্চিত নেই। রাজ্যসভায় সোমবার পেট্রলিয়াম রাষ্ট্রমন্ত্রী সুরেশ গোপীর দেওয়া পরিসংখ্যানে স্পষ্ট যে, বর্তমানে সঞ্চিত জ্বালানি দিয়ে জোগান বহাল রাখা যাবে খুব বেশি হলে দিনসাতেক।
রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি এতদিন নিয়ম করেছিল, সিলিন্ডার একবার ডেলিভারি হওয়ার ২৫ দিন পর ফের বুকিং করা যাবে। তাতেই রীতিমতো কালঘাম ছুটেছে সাধারণ গ্রাহকের। বুকিংয়ের পর সিলিন্ডার ডেলিভারি পেতে ১০-১২ দিন সময় লেগে যাচ্ছে কোথাও কোথাও। এদিন পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের তরফে তেল সংস্থাগুলিকে জানানো হয়েছে, যে সব গ্রাহকের দু’টি সিলিন্ডারের সংযোগ আছে, তাঁরা ডেলিভারির ৩৫ দিন পর ফের বুকিংয়ের সুযোগ পাবেন। ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য। পাঁচ কেজি সিলিন্ডারে সেই সময়সীমা ১২ দিন। ১০ কেজির কম্পোজিট সিলিন্ডারে ২৫ দিন। যাঁদের একটি মাত্র সিলিন্ডার সংযোগ আছে, তাঁরা একবার ডেলিভারির ২৫ দিনের মাথায় নতুন বুকিং করতে পারবেন। পাঁচ ও দশ কেজির ক্ষেত্রে তা যথাক্রমে ৯ ও ১৮ দিন। উজ্জ্বলা যোজনার ক্ষেত্রে ১৪.২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের ডেলিভারি ও বুকিংয়ের মধ্যে ব্যবধান ৪৫ দিন রাখা হয়েছে। পাঁচ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে তা ১৬ দিন।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অল ইন্ডিয়া এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর্স ফেডারেশনের সভাপতি বিজনবিহারী বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলে গ্রাহকদের সিলিন্ডার ডেলিভারির জন্য যে ৪৫ দিনের সময়সীমা রাখা হয়েছিল, তা গত সোমবার তুলে দেওয়া হয়। এরপর মঙ্গলবার নতুন নিয়ম জারি করা হল। কেন গ্যাস মিলছে না, তার জবাবদিহি করতে করতে আমরা ক্লান্ত। এখন সময়সীমা ৩৫ দিন করায় গ্রাহকদের মধ্যে যে ক্ষোভ সৃষ্টি হবে, তা সামলাবে কে?’
পেট্রল ও ডিজেলের ক্ষেত্রেও যে পরিস্থিতি যথেষ্ট সংকটময়, সেটা সামনে এসেছে এদিন একটি সংবাদমাধ্যমের করা আরটিআই আবেদনের জবাবে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত জ্বালানির যে কৌশলগত সঞ্চয় করে রাখে, তাতে দেশের সাড়ে ৯ দিনের চাহিদা পূরণ করা যায়। তবে সোমবারই মন্ত্রকের তরফে রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশে ৩৩ লক্ষ ৭২ হাজার মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল সঞ্চিত রয়েছে। তা মোট ধারণ ক্ষমতার (৫৩ লক্ষ টন) মাত্র ৬৪ শতাংশ।