Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

বেছে বেছে বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ, বিজেপি-কমিশনকে তোপ গণমঞ্চের

মানুষের রায় নয়। বিজেপি এবার বাংলার ‘দখল’ করার মানসিকতাতেই মত্ত। সেই কারণেই অত্যন্ত নিলর্জ্জভাবে বেছে বেছে বৈধ নাগরিকদের নাম কমিশনকে দিয়ে বাদ দিয়েছে।

বেছে বেছে বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ, বিজেপি-কমিশনকে তোপ গণমঞ্চের
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মানুষের রায় নয়। বিজেপি এবার বাংলার ‘দখল’ করার মানসিকতাতেই মত্ত। সেই কারণেই অত্যন্ত নিলর্জ্জভাবে বেছে বেছে বৈধ নাগরিকদের নাম কমিশনকে দিয়ে বাদ দিয়েছে। এসআইআরের নামে মুসলিম আর মহিলাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। বুধবার সরব হল দুই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশনাল ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন যোগেন্দ্র যাদব, আ‌ইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, অর্থনীতিবিদ ডঃ দীপঙ্কর দে এবং সুমন ভট্টাচার্য। 

Advertisement

ভারত জোড়ো অভিযান এবং দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের আয়োজনে এদিনের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে কমিশনের কাজের প্রবল সমালোচনা করা হল। প্রশ্ন তোলা হল, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, তামিলনাড়ু, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যেও এসআইআর হচ্ছে। তাহলে কেন বেছে বেছে স্রেফ বাংলাতেই বাদ সংখ্যালঘুরা? যে আসনে তৃণমূলের গতবারের জয়ের মার্জিন কম, সেখানেই কেন অধিক ভোটারের নাম কাটা হয়েছে? কেন অন্য কোনো রাজ্যে হয়নি লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি? মাইক্রো অবর্জারভার?
যোগেন্দ্র যাদব বলেন, এবার যেনতেনপ্রকারেণ বাংলা চাই বলেই মেতে উঠেছে বিজেপি। তাই কমিশনকে দিয়ে নির্লজ্জ অসাংবিধানিক কাজ করানো হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের সমালোচনা করেও তিনি বলেন, এতদিন ধরে শুনানি চলছে। কেন ৯২ লক্ষ লোকের নাম বাদ চলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হতে দিল শীর্ষ আদালত? 
সেই সুর ধরে সুমন ভট্টাচার্যর কটাক্ষ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বলছেন, এবার ভোট দিতে না পারলে পরেরবার যাতে দিতে পারেন, বাতিলদের জন্য সেই চেষ্টা হচ্ছে। আমার প্রশ্ন, আপনাদের যদি বলা হয়, এবার নয়। পরের জন্মে প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি হবেন, তাহলে কেমন শুনতে লাগবে? 
অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যূত করতে বিরোধীদের উদ্যোগ নস্যাৎ করে দেওয়ার প্রতিবাদে কনস্টিটিউশন ক্লাবেই অন্য এক সাংবাদিক সম্মেলনে সরব হল তৃণমূল, কংগ্রেস, আপ, এনসিপি (এসপি), ডিএমর মতো বিরোধীরা। ডেরেক ও’ব্রায়েন, অভিষেক মনু সিংভি, সাগরিকা ঘোষ, সন্দীপ পাঠক সহ উপস্থিত বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা বললেন, লোকসভার স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান  যেভাবে জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যূত করতে আমাদের নোটিস খারিজ করেছেন, তা গণতন্ত্রের বিরোধী। সঠিক কোনো কারণ, অভিযোগকারীদের বক্তব্য না শুনে, কমিটি গঠন না করেই কী করে নোটিস খারিজ হয়? তাহলে তো কারও বিরুদ্ধেই কোনো অভিযোগ করা যাবে না। তাই বিরোধীরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার তোড়জোড় করছে ব঩লেই জানা গিয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ