নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও হাওড়া: সরকারি পাট্টার জমি হাতিয়ে কয়েক কোটি টাকার প্রতারণার ঘটনায় বাঁকুড়া থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে নাজিরগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ। ধৃতের নাম তুষারকান্তি দত্ত। তুষার সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিঘার পর বিঘা পাট্টার জমি হাতিয়ে একটি সংস্থাকে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই ৩২টি জাল দলিল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিন তাকে হাওড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক গৈরিক রায় ১০ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার বাসিন্দা তুষার সাঁকরাইলের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করত। একটি প্রজেক্টের জন্য ওই সংস্থার প্রায় ৩৫০ বিঘা জমির প্রয়োজন ছিল। জমির সন্ধান, ভেরিফিকেশন সহ জমি কেনার যাবতীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তুষার সহ সংস্থার তিন-চারজন কর্মীকে। অভিযোগ, বাঁকুড়ায় গিয়ে সরকারি পাট্টা পাওয়া বেশ কয়েকজন জমির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিছু টাকার বিনিময়ে জমিগুলোর মালিকানা নিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। শুধু তাই নয়, পাট্টা জমি ছাড়াও বহু খাস জমির মালিকের অজান্তেও তাদের জমির দলিল জাল করে রেজিস্ট্রি অফিসে মালিকানা নিজেদের নামে করে নিয়েছিল তারা। পুলিশ জানিয়েছে, রেজিস্ট্রি অফিসে জমির মালিকানা বদলের সময় জমির মালিকের পরিবর্তে ভুয়ো লোককে উপস্থিত করিয়ে ভেরিফিকেশন করানো হত। সেটি সরকারি পাট্টার জমি নাকি জলা জমি, চরিত্র না দেখেই সেগুলোর অনুমোদন দিয়ে দেওয়া হত। এই প্রতারণা কাণ্ডে অভিযুক্তদের সঙ্গে রেজিস্ট্রি অফিসের একাংশও জড়িত বলে সন্দেহ পুলিশের।
জানা গিয়েছে, তিনমাস ধরে বাঁকুড়ায় এমন বহু জমি হাতিয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে ওই সংস্থার হাতে সেগুলোর দলিল তুলে দেয় অভিযুক্তরা। এরপর সংস্থাটি বাঁকুড়ায় গিয়ে প্রজেক্টের কাজে নামতেই আসল ঘটনা ধরা পড়ে। প্রতারণার ঘটনায় সম্প্রতি নাজিরগঞ্জ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ওই সংস্থা। এরপরেই পুলিশ বাঁকুড়ায় গিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ধৃতের কাছ থেকে পাওয়া ৩২টি জাল দলিল খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই মামলার সরকারি কৌঁসুলি তারাগতি ঘটক বলেন, ‘ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকিদের খোঁজ চলছে। গোটা চক্রটি ধরাই এখন লক্ষ্য। এভাবেই সামনে আসবে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত আরও অনেকে।’