Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

স্বামীকে খুনের কথা প্রতিবেশীকে জানিয়েছিলেন প্রাক্তন ডিজির স্ত্রী

‘দানবকে খুন করেছি।’ স্বামীকে খুনের পর প্রতিবেশী এক মহিলাকে ভিডিও কলে একথাই জানিয়েছিলেন কর্ণাটক পুলিসের প্রাক্তন ডিজির স্ত্রী পল্লবী। ঘটনাক্রমে ওই মহিলা ছিলেন এক পুলিসকর্মীর স্ত্রী।

স্বামীকে খুনের কথা প্রতিবেশীকে জানিয়েছিলেন প্রাক্তন ডিজির স্ত্রী
  • ২২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বেঙ্গালুরু: ‘দানবকে খুন করেছি।’ স্বামীকে খুনের পর প্রতিবেশী এক মহিলাকে ভিডিও কলে একথাই জানিয়েছিলেন কর্ণাটক পুলিসের প্রাক্তন ডিজির স্ত্রী পল্লবী। ঘটনাক্রমে ওই মহিলা ছিলেন এক পুলিসকর্মীর স্ত্রী। তিনিই এই হাড়হিম করা খুনের কথা স্বামীকে জানিয়েছিলেন। এরপরই পুলিস রবিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাক্তন ডিজি ওম প্রকাশের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। খুনের অভিযোগে সোমবার পল্লবী এবং তাঁদের মেয়ে কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। এদিন পুলিসের পক্ষ থেকে ওম প্রকাশকে খুনের ঘটনাক্রম প্রকাশ করা হয়েছে। 

Advertisement

রবিবার বেঙ্গালুরুতে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘর থেকে উদ্ধার হয় ৬৮ বছরের ওম প্রকাশের দেহ। পুলিস জানিয়েছে, সম্পত্তিজনিত বিবাদের জেরেই খুন হতে হল প্রকাশকে। আসলে প্রকাশদের একটি সম্পত্তি রয়েছে কর্ণাটকের ডান্ডেলি এলাকায়। সম্প্রতি সেই সম্পত্তি পরিবারের অন্য একজনের নামে লিখে দেন তিনি। এই নিয়ে খুশি ছিলেন না পল্লবী। তাই মেয়ের সাহায্য নিয়ে প্রকাশকে খুন করা হয় বলে পুলিসের প্রাথমিক অনুমান। রবিবার সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে পল্লবীর সঙ্গে প্রকাশের বচসা শুরু হয়। স্বামীকে কাবু করতে তাঁর চোখে প্রথমে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে দেন পল্লবী। এরপর মেয়ে কৃতীর সাহায্য নিয়ে প্রকাশকে বেঁধে ফেলে তারা। তারপর ছুরির কোপ দেয় পল্লবী। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় প্রাক্তন ডিজিপির। 
এদিন সামনে এসেছে প্রকাশের ছেলে কার্তিকেশের বয়ান। গত এক সপ্তাহ ধরে পল্লবী প্রকাশকে খুনের হুমকি দিচ্ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। কার্তিকেশের কথায়, ‘হুমকির পরেই পিসির বাড়িতে থাকতে শুরু করেন বাবা। দু’দিন আগে কৃতী পিসির বাড়ি থেকে বাবাকে বেঙ্গালুরুর বাড়িতে আনে। বাবা আসতে চায়নি।’ রবিবার বিকেল ৫টার সময় ডোমলুরে কর্ণাটক গল্ফ অ্যাসোসিয়েশনে থাকার সময় খুনের কথা জানতে পারেন তিনি। মা এবং বোন হতাশা থেকেই এই কাজ করে থাকতে পারে জানিয়েছেন কার্তিকেশ। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, পল্লবীর সিজোফ্রেনিয়া রয়েছে। তাঁর চিকিৎসাও চলছে। প্রকাশ-পল্লবীর সম্পর্কের টানাপোড়েনও বহু পুরনো। কয়েকমাস আগে থানায় স্বামীর নামে অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন পল্লবী। তবে পুলিস আধিকারিক তাতে আমল না দেওয়ার থানার সামনেই ধর্নায় বসেন। এখানেই শেষ নয়, বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে স্বামীর নামে নানা অভিযোগ করে থাকেন তিনি। স্বামী তাঁকে বিষ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে বলে কয়েকদিন আগে তিনি একটি গ্রুপে জানিয়েছিলেন। লিখেছিলেন বিষমুক্ত হতে লেবু ও ঘি ব্যবহার করছেন তিনি। কোনও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় আবার তাঁকে পণবন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।  ছবি: পিটিআই

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ