


বেঙ্গালুরু: শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তা। ৬ মে পর্যন্ত কোথাও কোনওরকম জমায়েত করা যাবে না। বৃহস্পতিবার রাতে বজরং দলের প্রাক্তন নেতা সুহাস শেট্টি খুনের পর থেকেই উত্তপ্ত মেঙ্গালুরু। সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে শুক্রবার তড়িঘড়ি একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল মেঙ্গালুরু পুলিস। আপাতত বন্ধ সমস্ত মিটিং মিছিল।
বৃহস্পতিবার রাতে মেঙ্গালুরুর এক ব্যস্ততম রাস্তায় তলোয়ার ও ভোজালি নিয়ে হিন্দু নেতা সুহাস শেট্টির উপর হামলা চালায় পাঁচ দুষ্কৃতী। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে সেই দৃশ্য। ঘটনার পরই হাসপাতালের সামনে জড়ো হয় একাধিক হিন্দু সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বর্তমানে শহরের পরিবেশ থমথমে। যে কোনও সময় গোষ্ঠীসংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। আর সেকথা মাথায় রেখেই ১৬৩ ধারার অধীনে একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মেঙ্গালুরু পুলিস। আপাতত ৬ মে পর্যন্ত সমস্তরকম জমায়েত, মিটিং, মিছিল বন্ধ। এমনকী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন জিনিসপত্রও বহন করা যাবে না।
সুহাস বজরং দল সহ একাধিক স্থানীয় হিন্দু সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হামলা, হেনস্তা, বেআইনিভাবে সমাবেশ করার অভিযোগে একাধিক মামলাও ছিল। ২০২২ সালে ২৩ বছরের তরুণ মহম্মদ ফাজিলকে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। স্থানীয়দের একাংশের তরফে জানা যায়, বিজেপির যুবকর্মী প্রবীণ নেত্তারুকে খুনের প্রতিশোধ নিতেই ফাজিলকে খুন করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই সুহাস খুনের তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। প্রাথমিক অনুমান, এই হামলা পরিকল্পিত। কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর জানিয়েছেন, ‘অত্যন্ত ভয়াবহ ঘটনা। অপরাধীদের খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যেই চারটি টিম তৈরি করা হয়েছে। দোষীদের কড়া শাস্তি দেওয়া হবে।’