Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬

অসমে নিখোঁজ একের পর এক ঘোষিত বিদেশি, গোপনে বাংলাদেশ পাঠানোর অভিযোগ

২০১৭ সালেই নামের পাশে ‘বিদেশি’ তকমা লেগে গিয়েছিল। দু’-তিনবছর ডিটেনশন ক্যাম্পেও কাটাতে হয়। তারপর মুক্তি পেলেও আদালতের নির্দেশ সপ্তাহে সপ্তাহে থানায় হাজিরা দিতে হতো।

অসমে নিখোঁজ একের পর এক ঘোষিত বিদেশি, গোপনে বাংলাদেশ পাঠানোর অভিযোগ
  • ৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

গুয়াহাটি: ২০১৭ সালেই নামের পাশে ‘বিদেশি’ তকমা লেগে গিয়েছিল। দু’-তিনবছর ডিটেনশন ক্যাম্পেও কাটাতে হয়। তারপর মুক্তি পেলেও আদালতের নির্দেশ সপ্তাহে সপ্তাহে থানায় হাজিরা দিতে হতো। সেই নির্দেশ মানতে গিয়েই অসমে ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাচ্ছেন একের পর ‘বিদেশি’! এমনই অভিযোগ ঘিরে তমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বরপেটার সোনা বানু, দরাং জেলার মানিকজান বেগম, কামরূপ জেলার আবু বক্কর সিদ্দিকি ও তাঁর ভাই আকবর আলি সহ অনেকের হদিশ না পেয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পরিবারে। তাদের অভিযোগ, পুলিস-প্রশাসন কোনও তথ্যই দিতে চাইছে না। বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন তাঁরা। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, ২৪ মে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন সোনা বানু। পরিবারের দাবি, সেখানেই তাঁকে সারাদিন আটক করে রাখা হয়। কিন্তু, থানা থেকে আর বাড়ি ফেরেননি ৫৮ বছরের বিধবা প্রৌঢ়া। তাতেই রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে তাঁর চার কন্যার। মায়ের খোঁজ পেতে দোরে দোরে গিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না। এরমধ্যে একটি ভিডিও বানুর পরিবারের কাছে এসে পৌঁছেছে। তাতে ওই প্রৌঢ়ার মতো দেখতে একজনকে বাংলাদেশে দেখা গিয়েছে। তারপরই পরিবারের আশঙ্কা, সম্ভবত বানুকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু, থানা বা সরকারের তরফে কোনও তথ্যই তাঁরা পাচ্ছেন না। একই পরিস্থিতি মানিকজান বেগমের পরিবারেরও। সম্প্রতি তাঁকে দরাং জেলার ধুলা থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। ওই মহিলার ছেলে বারেক আলি জানিয়েছেন, ২৩ মে মাকে প্রথমে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। পরের দিন এসপি অফিসে তলব করেছিলেন আধিকারিকরা। আমাদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু, তারপর থেকে মায়ের আর কোনও খবর নেই। কয়েকদিন আগে একটি ভিডিওতে মাকে বাংলাদেশে দেখা গিয়েছে। কিন্তু, প্রশাসন মুখ বন্ধ করে রেখেছে। তথ্য পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। 
 স্থানীয় সূত্রে খবর, অনুপ্রবেশকারীদের ধরতে ২৩ মে থেকে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। তাতে গোলপাড়ার জলেশ্বর থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ব্যক্তি ২০১৮ সালে বিদেশি তকমা পাওয়া আব্দুল হামিদ শেখকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়েছে পুলিস। একইভাবে আবু বক্কর সিদ্দিকি ও তাঁর ভাই আকবর আলিকে আটক করে কামরূপ জেলার নাগরবেরা থানার পুলিস। তাঁদেরও খোঁজ পাচ্ছে না পরিবার। এই নিয়ে আদালতে হলফনামা জমা দিয়েছে তারা। নিখোঁজদের দাদা জমুরুদ্দিন জানিয়েছেন, আমরা পাঁচ ভাই। তাঁদের মধ্যে তিনজন ভারতীয় নাগরিক। তাহলে বাকি দু’জনকে কীভাবে বিদেশি ঘোষণা করা হল? ওদের সঙ্গে দেখা করার জন্য বারবার আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু, কোনও লাভ হয়নি। তাঁদের আইনজীবীর অভিযোগ, বিদেশি হিসেবে ঘোষিত বেশ কয়েকজনকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু, সুপ্রিম কোর্ট এধরনের কোনও নির্দেশই দেয়নি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ