


বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: এবার দিনে শুধু নয়, খুব শীঘ্রই সারারাত ধরে ভাগীরথী জলপথ ধরে কলকাতা বন্দর পর্যন্ত যাতায়াত করবে বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজ। কাকদ্বীপ, কুলপি, ডায়মন্ডহারবার, ফলতা, বজবজের বুড়ুল, রায়পুর হয়ে এখন পণ্য কলকাতা বন্দরে এখন আসে। খালাসের পর এই পথ ধরেই ফেরে। তবে তা দিনেরবেলায়। দীর্ঘদিনের এই নির্ঘণ্ট এবার বদলাতে চলেছে।
কলকাতা বন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুজোর পর এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। রাতভর অন্ধকারের মধ্যে জাহাজ চলাচলে যাতে কোনও সমস্যা না হয় তার জন্য তৈরি হচ্ছে পরিকাঠামো। জাহাজ যাওয়া আসার সুবিধায় নির্দিষ্ট চ্যানেল চিনে চলাচল করার জন্য কয়েকশো লোহার ভাসমান বয়া বসানো হয়েছে। সেগুলির মাথায় থাকবে লাল আলো। নদীর উভয় দিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং হাওড়াজুড়ে পাড় বরাবর বসানো হয়েছে স্টিলের চারতলা উঁচু বাতিস্তম্ভ। মাথায় থাকবে লাল আলো। বজবজের রায়পুর গঙ্গার নদীবাঁধের রাস্তা দিয়ে গজাপোহালি পঞ্চায়েতের গদাখালি, বারাতলা, বাহিরকুঞ্জ, বুড়ুল, ফলতা, ডায়মন্ডহারবার যাওয়ার পথে এই নতুন বাতিস্তম্ভ নজরে আসবে। পাশাপাশি ব্রিটিশ আমলের তৈরি ভগ্নপ্রায় প্রায় ছ’তলা উঁচু কংক্রিটের বাতিস্তম্ভও দেখা যাবে।
ইতিমধ্যে কলকাতা বন্দর লাল বাতি এবং লোহার বয়ার উপর নজরদারির জন্য নৌকা সহ আলাদা লোক নিয়োগ করেছে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা বয়া দেখাশোনা করবেন। দিনে ও রাতে বয়া ঠিকমতো নির্দিষ্ট জায়গায় ভাসছে কি না তা দেখে রিপোর্ট দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি লাল আলো ঠিকঠাক জ্বলছে কি না তাও জানাতে হচ্ছে। কলকাতা বন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, নজরদারির কাজে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন জায়গায় ভালো সংখ্যক কর্মী রাখা আছে। বয়ার আলো ও বাতিস্তম্ভ বসানোর কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর রাতে জাহাজ চলাচল শুরু হবে। নিজস্ব চিত্র