


নয়াদিল্লি: তাজিকিস্তানের আয়নি বিমানঘাঁটি। বিদেশের মাটিতে ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এয়ারবেস। নয়াদিল্লির হাতে আয়নির নিয়ন্ত্রণ এসেছিল অটলবিহারী বাজপেয়ি সরকারের আমলে। মধ্য এশিয়ায় চীন ও রাশিয়ার প্রভাবের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের এই পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পাক অধিকৃত কাশ্মীরও এই অঞ্চলের নাগালে। কিন্তু বাজপেয়ি জমানার সেই পদক্ষেপ মুখ থুবড়ে পড়ল নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে! প্রায় দু’দশক পর তাজিকিস্তানের এই বিমানঘাঁটি থেকে ভারত পাকাপাকিভাবে পাততাড়ি গুটিয়েছে বলে খবর। সূত্রের খবর, মূলত চীন ও রাশিয়ার চাপে পড়েই আয়নি বিমানঘাঁটি নিয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তি আর নবীকরণ করতে চায়নি তাজিকিস্তান। ফলে ২০২২ সালে ভারতকে কর্মী ও সরঞ্জাম সরানোর কাজ শুরু হয়। এই বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষেত্রে মোদি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।
এব্যাপারে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ সমাজ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘একবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে আয়নি এয়ারবেসের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছিল ভারত। পরিকাঠামোর উন্নয়ন করেছিল। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে সেটির সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও নিয়েছিল। যদিও চার বছর আগে সরকার ঠিক করে ধীরে ধীরে সেখান থেকে সরে আসা হবে। দেশের বাইরের একমাত্র সামরিক ঘাঁটি থেকে সরে আসার সেই প্রক্রিয়া সম্প্রতি সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। কূটনৈতিক কৌশলের প্রশ্নে এটি ভারতের কাছে যে আরও একটি ধাক্কা, সেবিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই।
রিপোর্ট অনুযায়ী, সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের পর স্বাধীন তাজিকিস্তান সরকারের সঙ্গে আয়নি এয়ারবেস নিয়ে চুক্তি করে ভারত। ২০০১-০২ সাল নাগাদ এবিষয়ে প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাজিকিস্তান সরকারের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে আয়নি এয়ারবেসের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের দায়িত্ব পায় ভারত। লিজের অঙ্গ হিসেবে এই বিমানঘাঁটি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ভারও ভারতের হাতেই তুলে দেয় তাজিকিস্তান। বিমানঘাঁটির পরিকাঠামো উন্নয়নে ১০ কোটি ডলার ব্যয় করে ভারত। রানওয়ের দৈর্ঘ বাড়ানো হয়। রিফুয়েলিং সহ বিভিন্ন আধুনিকমানের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়। সেনাবাহিনী ও বায়ুসেনা মিলিয়ে একটা সময় প্রায় ২০০ কর্মীকেও সেখানে মোতায়েন করা হয়। এক দশক আগে সেখানে অস্থায়ীভাবে মোতায়েন করা হয়েছিল এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারও। শুধু তাই নয়, আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতা দখলের পর সেখানে থেকে ভারতীয় নাগরিক ও আধিকারিকদের উদ্ধারের কাজেও তালিজিস্তানের এয়ারবেসটি ব্যবহার করা হয়েছিল। -ফাইল চিত্র