Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছেলের মাথায় হাত দিয়ে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার দিব্যি করতে জোর!

ভোট বিজেপিকেই দিতে হবে’। পদ্মপার্টির নেতাকর্মীদের প্রবল চাপেও হ্যাঁ বলেননি মানিকচকের রতনটোলার ছাপোষা মানুষ আনন্দ মণ্ডল।

ছেলের মাথায় হাত দিয়ে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার দিব্যি করতে জোর!
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সাগর রজক, মানিকচক: ‘ভোট বিজেপিকেই দিতে হবে’। পদ্মপার্টির নেতাকর্মীদের প্রবল চাপেও হ্যাঁ বলেননি মানিকচকের রতনটোলার ছাপোষা মানুষ আনন্দ মণ্ডল। সাংবিধানিক অধিকার কোথায় প্রয়োগ করবেন, তা গোপনই রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মরিয়া বিজেপি নেতা নিশ্চিত হতে ছেলের মাথায় হাত দিয়ে দিব্যি করার নির্দেশ দেন আনন্দকে। তাতেও রাজি করানো যাচ্ছে না দেখে শুরু হয় বেধড়ক মারধর। আক্রান্তের মন্তব্য, ভোটে না জিততেই যদি এই অত্যাচার শুরু হয়, ক্ষমতায় এলে কী করবে এরা! হামলাকারী বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে  থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আক্রান্ত।

Advertisement

আনন্দের পরিবারে সদস্য বলতে মানসিক ভারসাম্যহীন নাবালক। প্রতিদিন ভিক্ষাবৃত্তি করে যা উপার্জন হয়, তা দিয়ে চলে সংসার। এদিন ধরমপুর বাজার থেকে ফেরার পথে আনন্দের পথ আটকান গ্রামের বিজেপি নেতা মাধব মণ্ডল। প্রথমে তিনি বিজেপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেন। আনন্দ বলেন,, যাকে ইচ্ছা হবে, তাকেই ভোট দেব। একথা শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মাধব। নাবালক সন্তানের মাথায় হাত দিয়ে আনন্দকে দিব্যি করার নির্দেশ দেন বিজেপি নেতা। কথামতো কাজ না করায় মাধব রাস্তায় পড়ে থাকা বৈদ্যুতিক তার দিয়ে আনন্দকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। বাসিন্দারা ছুটে এলে চম্পট দেন ওই বিজেপি নেতা।
মানিকচক হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আনন্দ। বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল করি না। কিন্তু মাধব আমাকে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য জোর করছিলেন। ছেলের মাথায় হাত দিয়ে দিব্যিও করতে বলেছিলেন। রাজি না হওয়ায় মারধর করেছেন। স্থানীয়রা না বাঁচালে মেরেই ফেলতেন। মাধব হুমকি দিয়েছেন, বিজেপি ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দিলে বাড়িঘর ভেঙে দেবেন। খুবই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। 
এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মাধবকে বারবার ফোন করা হলেও ধরেননি। মেসেজ পাঠালেও উত্তর দেননি তিনি। বিজেপির মানিকচক মণ্ডল সভাপতি সুভাষ যাদব বলেন, এধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। স্থানীয় কয়েকজন বিজেপির বদনাম করতে ও আমাদের গ্রামীণ নেতাদের পুলিশের মাধ্যমে আটকে দেওয়ার জন্য এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করছেন। কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।
মানিকচকে তৃণমূল প্রার্থী কবিতা মণ্ডল বলেন, ভোট দেওয়া ব্যক্তিগত বিষয়। কোনো রাজনৈতিক দল হস্তক্ষেপ করতে পারে না। বিজেপি হারছে বুঝতে পেরে এভাবে ভয় দেখিয়ে ভোট নেওয়ার পন্থা নিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ