রাজু চক্রবর্তী, কলকাতা: যাত্রীর অভাবে শিয়ালদহ শাখায় লোকাল ট্রেনে ‘ফার্স্ট ক্লাস’ পরিষেবা তুলে দিল রেল। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শিয়ালদহ-রানাঘাট রুটে লেডিস স্পেশাল ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে ফার্স্ট ক্লাস চালু হয়েছিল। মোটা কুশন দেওয়া আরামদায়ক আসন, ভিতরের অংশে ছবি, সিসিটিভি, ইমার্জেন্সি টক ব্যাক, পিভিসি ফ্লোর ম্যাটে মোড়া ছিল কোচগুলি। দ্বিতীয় শ্রেণির তুলনায় ফার্স্ট ক্লাসের ভাড়াও পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে আট গুণ বেশি। পূর্ব রেলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শিয়ালদহ থেকে বিধাননগর চার কিলোমিটার যেতে সাধারণ শ্রেণির ভাড়া পাঁচ টাকা, সেখানে ফার্স্ট ক্লাসের ভাড়া ২৫ টাকা। শিয়ালদহ থেকে নৈহাটি যেতে দ্বিতীয় শ্রেণির ভাড়া ১০ টাকা, ফার্স্ট ক্লাসে তা ৮৫ টাকা। মান্থলি কিংবা সিজন টিকিটের দামও ছিল চড়া। দ্বিতীয় শ্রেণিতে শিয়ালদহ-সোদপুর ১০০ টাকা মান্থলি অথচ ফার্স্ট ক্লাসে সিজন টিকিট ৫০৫ টাকা। শিয়ালদহ-রানাঘাট সেকেন্ড ক্লাসে মান্থলি ৩৫৫ টাকা, ফার্স্ট ক্লাসে সে ভাড়া এক হাজার ২৭০ টাকা।
পূর্ব রেলের এক আধিকারিক বলেন, ধুমধাম করে মাতৃভূমি লোকালে ফার্স্ট ক্লাস চালু করা হয়। কিন্তু যাত্রীদের মধ্যে তেমন সাড়া মেলেনি। সাধারণ ভাড়ার তুলনায় কয়েকগুণ বাড়তি টাকা দিয়ে লোকাল ট্রেনে প্রথম শ্রেণির কামরায় যাত্রা করতে বিশেষ আগ্রহী নন যাত্রীরা। শহরতলি থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনে কলকাতায় যাওয়া আসার ক্ষেত্রে সবথেকে সস্তার গণপরিবহণ হল ট্রেন। বাদুরঝোলা হয়েও পাঁচ টাকার টিকিট কেটে ট্রেনে সফর করতে অভ্যস্ত যাত্রীদের অধিকাংশ। তাঁরা অতিরিক্ত পাঁচগুণ টাকা খরচ করে ফার্স্ট ক্লাসে চড়তে নারাজ। এর ফলে শুরুর দিন থেকেই যাত্রী শূন্যতায় ভুগেছে রেলের এই অভিনব প্রয়াস। ওই আধিকারিকের দাবি, এই পরিষেবা চালাতে গিয়ে বাড়ছিল প্রশাসনিক জটিলতা। বাড়তি ভাড়ার অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক এই কোচগুলির জন্য মোতায়েন করতে হয়েছিল বাড়তি নিরাপত্তারক্ষী। সেকেন্ড ক্লাসের টিকিট কেটে ফার্স্ট ক্লাসে উঠে পড়ার প্রবণতা ঠেকাতে মহিলা আরপিএফ মোতায়েন করতে হচ্ছিল। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই দেখা গিয়েছে আপ-ডাউনে ট্রেনের কামরা যাত্রীশূন্য। সেখানে উর্দিধারীরা খোস গল্প করে সময় কাটাচ্ছেন। তারপরই ফার্স্ট ক্লাস তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রথম শ্রেণির ওই কামরাগুলির অঙ্গসজ্জা একই রেখে বর্তমানে সাধারণ কামরার মতো তা চালানো হচ্ছে।
প্রসঙ্গত শিয়ালদহ ডিভিশনে এসি লোকাল ট্রেন চালুর সিদ্ধান্তও নিয়েছে রেল বোর্ড। খুব শীঘ্রই চেন্নাই থেকে নবনির্মিত জোড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ শহরে ঢুকে পড়বে। এরও ভাড়া হবে বেশি। সাধারণ লোকাল ট্রেনের তুলনায় সাত থেকে ১০ গুণ বেশি ভাড়া দিতে হবে যাত্রীদের। ফার্স্ট ক্লাসের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর এসি কোচের ক্ষেত্রেও দুর্ভাবনা গ্রাস করছে রেল কর্তাদের। বেশি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে যাত্রীদের মানসিকতার বদল না হলে ফের মুখ পোড়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে আশঙ্কা তাঁদের।