Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

ধাপ কমলেও মোট আদায় যেন বাড়ে, জিএসটি কাউন্সিলকে বার্তা অর্থমন্ত্রকের

জিএসটির হার চারটি ধাপ থেকে কমে যতই দু’টি হোক, মোট জিএসটি সংগ্রহের পরিমাণ যেন না কমে? অর্থমন্ত্রক এরকমই চাইছে।

ধাপ কমলেও মোট আদায় যেন বাড়ে, জিএসটি কাউন্সিলকে বার্তা অর্থমন্ত্রকের
  • ১৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: জিএসটির হার চারটি ধাপ থেকে কমে যতই দু’টি হোক, মোট জিএসটি সংগ্রহের পরিমাণ যেন না কমে? অর্থমন্ত্রক এরকমই চাইছে। আর সেই বার্তা জিএসটি কাউন্সিলের মন্ত্রিগোষ্ঠীকেও দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে রাজ্যগুলির চরম আর্থিক ক্ষতি সামাল দেওয়ার ফর্মুলা কী হবে? ২০২৬ সালের মার্চ মাসেই সমাপ্ত হয়ে যাবে জিএসটি ক্ষতিপূরণ প্রদানের সময়সীমা। অর্থাৎ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে আর কোনও ক্ষতিপূরণ সেস রাজ্যকে দেওয়া হবে না। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই আর্থিক সঙ্কট থেকে রাজ্যগুলিকে রক্ষা করার কোনও ফর্মুলা তৈরি হয়নি। চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লা থেকে আচমকা ঘোষণা করে দিয়েছেন, দীপাবলি থেকেই জিএসটির সবথেকে বড় সংস্কার আসতে চলেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনও আগাম প্রস্তুতি ছিল না। বস্তুত ওই ভাষণের মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে জিএসটি হার সংস্কারের একটি নোট দেওয়া হয়েছিল জিএসটি কাউন্সিলের মন্ত্রিগোষ্ঠীর কাছে। তড়িঘড়ি তাই বৈঠক ডাকা হয়েছে। আগামী কাল, বুধবার মন্ত্রিগোষ্ঠীর বৈঠক। পরদিনই বৃহস্পতিবার জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক হবে। একদিনের বৈঠকে কি আদৌ এতগুলি সিদ্ধান্ত নিয়ে কাউন্সিলকে সুপারিশ করা সম্ভব? এই প্রশ্ন উঠছে কাউন্সিলের মধ্যেই।  জিএসটি কাউন্সিলের মন্ত্রিগোষ্ঠীর সদস্য ৬টি রাজ্য। কেরল, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং কর্ণাটক। আগামী কাল মন্ত্রিগোষ্ঠীর বৈঠকের অন্যতম এজেন্ডা স্বাস্থ্য বিমা এবং ক্ষতিপূরণ সেস। দীর্ঘদিন আগে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত এই দুই ইস্যুতে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনি জিএসটি কাউন্সিল। তাই এই নিয়ে প্রবল রাজনৈতিক মতান্তরও তৈরি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ চরমে উঠেছে। হঠাৎ এত তড়িঘড়ি এই বৈঠক কেন? কারণ যদি দীপাবলির মধ্যেই বহু পণ্যের জিএসটি কমিয়ে দু’টি মাত্র ধাপের জিএসটিতে নিয়ে আসতে হয়, তাহলে ক্ষতিপূরণ সেস নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে দ্রুত। কারণ ইতিমধ্যেই একটি সেস জিএসটি হারে অন্তুর্ভুক্ত করার ভাবনাচিন্তা চলছে। সেই অতিরিক্ত সেস থেকেই রাজ্যগুলি ক্ষতিপূরণ অঙ্ক পেতে থাকবে। কিন্তু বাস্তব হল, যদি ক্ষতিপূরণ সেসকে জিএসটির সঙ্গেই যুক্ত করে দেওয়া হয়, তাহলে জিএসটি হার ১৮ শতাংশের সীমানায় রাখা যাবে কীভাবে? আর ওই জিএসটির ভাগ তো কেন্দ্রীয় সরকারও পাবে! তাহলে পৃথকভাবে রাজ্যের ক্ষতিপূরণ হচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে কাউন্সিলের মন্ত্রিগোষ্ঠীকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটি হল, ৫, ১২, ১৮ এবং ২৮ শতাংশের জিএসটি কমে গিয়ে যখন শুধুই ৫ এবং ১৮ শতাংশ দুটি ধাপ হবে, তখনও যেন মোট আদায়ীকৃত জিএসটির পরিমাণ কমে না যায়। অর্থাৎ কেন্দ্রীয়ভাবে জিএসটি সংগ্রহের পরিমাণ যেন একই থাকে। এখন এই ১৮ শতাংশ ধাপ থেকেই মোট জিএসটি রাজস্বের ৬৫ শতাংশ আদায় হয়। কেন্দ্র চাইছে , কয়েকটি পণ্যকেই শুধু সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ ধাপে রাখতে। এতে সবমিলিয়ে কর আদায় বেড়ে যাবে। পারমুটেশন ও কম্বিনেশন করে সেই লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করা মন্ত্রিগোষ্ঠীর কাছে সবথেকে কঠিন চ্যালেঞ্জ। 

সম্পর্কিত সংবাদ