Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাফরাবাদে বাবা-ছেলে খুন: সূতি সীমান্ত ও মুরারই থেকে ধৃত মূল অভিযুক্ত ২ ভাই

সামশেরগঞ্জ, সূতি ও ধুলিয়ানে তাণ্ডব চালানোর পর দুষ্কৃতীরা বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। সূতির সীমান্তবর্তী গ্রাম দিয়ে এই পালানোর রুটেই ধরা পরল জাফরাবাদে বাবা ও ছেলেকে খুন করার অন্যতম মূল অভিযুক্ত।

জাফরাবাদে বাবা-ছেলে খুন: সূতি সীমান্ত ও মুরারই থেকে ধৃত মূল অভিযুক্ত ২ ভাই
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সামশেরগঞ্জ, সূতি ও ধুলিয়ানে তাণ্ডব চালানোর পর দুষ্কৃতীরা বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে। সূতির সীমান্তবর্তী গ্রাম দিয়ে এই পালানোর রুটেই ধরা পরল জাফরাবাদে বাবা ও ছেলেকে খুন করার অন্যতম মূল অভিযুক্ত। প্রথম থেকেই দুষ্কৃতীরা চেষ্টা করেছে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিয়ে অন্যত্র গা ঢাকা দেবে। সূতির সুরক্ষিত করিডর ব্যবহার করে বাংলাদেশে পালানোর ছক ছিল বহু দুষ্কৃতীর। যারা অন্য দেশে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে পারেনি, তাদের গন্তব্য ভিন জেলা কিংবা অন্য রাজ্য। গত শনিবার জাফরাবাদ এলাকায় হরগোবিন্দ দাস এবং তার ছেলে চন্দন দাসকে বাড়ি থেকে বের করে এনে কুপিয়ে খুন করা হয়। একদল উন্মত্ত দুষ্কৃতী বাড়ির চারদিকে ঘিরে ফেলে অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিস অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে। জাফরাবাদের পার্শ্ববর্তী জিগরি এলাকার বেশ কয়েকজন যুবককে সহজে চিহ্নিত করে ফেলে পুলিস। সোমবার রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিস দুজনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতরা সম্পর্কে দুই ভাই, কালু নাদাব এবং দিলদার নাদাব। দিলদারকে সূতির বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে পাকড়াও করার পাশাপশি কালুকে বীরভূমের মুরারই থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে তুলে তাদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিস। 

Advertisement

জঙ্গিপুর মহকুমার সামশেরগঞ্জ, সূতি, রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকায় যে তাণ্ডব চলেছে, সেই ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি পুলিস এই জোড়া খুনের ঘটনায় অত্যন্ত তৎপরতা গ্রহণ করে। এই মামলার তদন্তে বিশেষ ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট গঠন করা হয়। যেখানে সামশেরগঞ্জ থানার অফিসার ছাড়াও, সিআইডি, আইবি এবং এসটিএফের অভিজ্ঞ অফিসাররা আছেন। জঙ্গিপুর মহকুমায় তান্ডবের ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা ২২১ জন। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে একাধিক তথ্য মিলেছে। দুঁদে পুলিস অফিসারদের সামনে অনেক যুবক জেরায় ভেঙে পড়ছে। 
দক্ষিণবঙ্গের এডিজি সুপ্রতিম সরকার সামশেরগঞ্জ থানায় দাঁড়িয়ে বলেন, জাফরাবাদ এলাকায় দুষ্কৃতীদের হাতে এক পরিবারের দুই সদস্য খুন হন। তাঁরা সম্পর্কে বাবা ও ছেলে। এই মামলার তদন্তে গত দুদিনে বিস্তারিত সিসিটিভি ফুটে সংগ্রহ করেছি সেই সিসিটিভির ফুটেজ আমরা খতিয়ে দেখি। বেশ কয়েকজন দুষ্কতীকে আমরা চিহ্নিত করতে সক্ষম হই। যারা খুনের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল, অভিযান চালিয়ে দুজন দুষ্কৃতীকে আমরা গ্রেপ্তার করতে পেরেছি। গত রাতে রাতভর অভিযান চালিয়ে এই দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। কালুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বীরভূম জেলার মুরারই থেকে এবং দিলদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সূতি থানার বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে। তাদেরকে আমরা আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছি।
এদিন সুপ্রতিমবাবু স্পষ্ট করে বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যে বা যারা প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে জড়িত, এমনকী যারা পরিকল্পনা করেছিলেন খুনের, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। আমরা প্রত্যেককে ধরব। দ্রুত তদন্ত শেষ করে তাদের সাজা সুনিশ্চিত করব। বাকি দুষ্কৃতীদের আমরা চিহ্নিত করেছি। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এখনও পর্যন্ত সব মিলিয়ে গ্রেপ্তার ২২১ জন। এই পর্বেই নানা গুজব ছড়ানোর অভিযোগে সমাজমাধ্যমের ১০৯৩টি  ফেক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। 
জঙ্গিপুরের পুলিস সুপার আনন্দ রায় বলেন, সোমবার ১৫ টি অভিযোগ হয়েছে এবং প্রত্যেকটির মামলা দায়ের হয়েছে। নতুন করে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  
এদিকে, মুর্শিদাবাদের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে নতুন করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। দাবি করা হয়েছে, অবিলম্বে ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি, একটি তদন্ত কমিটি তৈরির আর্জিও জানানো হয়েছে। আজ, বুধবার শুনানির সম্ভাবনা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ