Bartaman Logo
২৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সুখসাগর পেঁয়াজের রেকর্ড ফলন, ভালো দাম পেয়ে খুশি জেলার চাষিরা

সুখসাগর পেঁয়াজের রেকর্ড ফলন, ভালো দাম পেয়ে খুশি জেলার চাষিরা
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদে সুখসাগর পেঁয়াজ চাষে এবার ফলন সর্বকালের রেকর্ড ছাড়াল। সর্বোচ্চ ফলনের পাশাপাশি পাইকারি বাজারে ভালো দাম মেলায় পেঁয়াজ চাষিদের মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে। চাষিদের দাবি, এবার বিঘা প্রতি ৪৫-৫০ কুইন্টাল হারে পেঁয়াজের ফলন হয়েছে। কোনও কোনও জমিতে বিঘা প্রতি ৫৫ কুইন্টাল পর্যন্ত ফলন হয়েছে। ৯০ থেকে ১০০ দিনের ফসলে চাষিরা এবার বিঘা প্রতি ৫০ হাজার টাকা লাভ ঘরে তুলেছেন। পেঁয়াজ চাষে ভালো লাভ হওয়ায় আগামী বছর রাই, মসুর, গম চাষিরা পেঁয়াজ চাষের ঝুঁকতে চলছেন। পেঁয়াজ চাষিদের বক্তব্য, গত বছর আবহাওয়ার কারণে পেঁয়াজের ফলন খারাপ হয়েছিল। এবার লাভের অঙ্ক সর্বকালের সেরা।

Advertisement

মুর্শিদাবাদে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে সুখসাগর পেঁয়াজ চাষ হয়। নওদা ব্লকে সব থেকে বেশি পেঁয়াজ চাষ হয়। এছাড়া হরিহরপাড়া, বেলডাঙা, বহরমপুর ব্লকে ভালো পেঁয়াজ চাষ হয়। বছর তিনেক থেকে মুর্শিদাবাদের চাষিরা সুখসাগর পেঁয়াজের বীজ তৈরি করে চাষ শুরু করেছেন। উদ্যানপালন দপ্তরের পরামর্শ কাজে লাগিয়ে চাষিরা সাফল্যও পেয়েছেন। নিজের জমিতে চাষের পাশাপাশি চারা বিক্রি করেও বহু চাষি মোটা টাকা লাভ করছেন। নওদা ব্লকের পরেশনাথপুরের সুজয় মণ্ডল এবার দশ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। সুজয়বাবু বলেন, দেড় লক্ষ টাকার চারা বিক্রি করেছি। তাতে আমার নিজের জমিতে চাষের খরচা উঠে গিয়েছে। পেঁয়াজ থেকে এবার বিঘা প্রতি ৫০ হাজার টাকা লাভ করেছি।
নিজের জমিতে চারা তৈরি করে পেঁয়াজ চাষে প্রতি বিঘায় ২৪ হাজার টাকা খরচা হয়। এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে চাষ করতে জমি মালিককে চোদ্দো হাজার টাকা দিতে হয়। সেক্ষেত্রে চাষের খরচা ৩৮ হাজার টাকা হয়। চারা কিনে চাষ করতে হলে খরচা আরও একটু বাড়ে। নওদা এলাকার নূরজামাল শেখ বলেন, গত দু’বছর পেঁয়াজ চাষ করে ভালো লাভ করতে পারিনি। এবার সুখসাগর পেঁয়াজ চাষ করে অপ্রত্যাশিত আয় হয়েছে। আগামী বছর নিজের জমির সঙ্গে লিজে জমি পেলে পেঁয়াজের চাষ করব মনস্থির করেছি। এবার পেঁয়াজ ওঠার মুখে চাষিরা ভালো দাম পেয়েছেন। রস থাকা অবস্থাতেই চাষিরা পাইকারি বাজারে ১ হাজার ৬৫০ টাকা কুইন্টাল দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। চাষিদের ঘরে এখনও ২০ শতাংশ পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। তিন মাস পর্যন্ত চাষিরা এই পেঁয়াজ ঘরে মজুত রাখবেন। দাম বাড়লে বিক্রি শুরু করবেন। শিশির মণ্ডল বলেন, সংরক্ষণের অভাবে ঘরে বেশি পেঁয়াজ মজুত রাখতে পারি না। বেশি লাভের আশায় ত্রিশ কুইন্টাল মজুত রেখেছি। এবার সুখসাগর পেঁয়াজ চাষে ভালো লাভ হওয়ায় অনেকেই আগামী বছর ডালশস্য, গম, রাই চাষ কমিয়ে পেঁয়াজ চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ