


লখনউ: জাল-ভুয়ো-ভেজাল। দেশজুড়ে প্রতারণার ‘তিনমন্ত্র’ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই তিন শব্দ। ভুয়ো পুলিস-আমলা-সিবিআই, জাল আধার-প্যান কার্ড থেকে শুরু করে ভেজাল দুধ ও ওষুধ—বাদ যাচ্ছে না কিছুই। কিন্তু তাই বলে ভুয়ো দূতাবাস! না, গল্প নয়। ষোল আনা সত্যি। গাজিয়াবাদে একটি বাংলো ভাড়া করে সেখানেই রমরমিয়ে চলছিল এই ভুয়ো দূতাবাস। বাইরে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে একের পর এক বিলাসবহুল গাড়ি। তাতে লাগানো ভুয়ো কূটনৈতিক নম্বর প্লেট। আর এই ভুয়ো দূতাবাস চালানো হচ্ছিল ‘পশ্চিম আর্কটিকা’ নামে এক কাল্পনিক দেশের নামে। বাস্তবে গোটা বিশ্বে এই নামে কোনও দেশের অস্তিত্বই নেই। মঙ্গলবার সেখানে হানা দেয় উত্তরপ্রদেশ পুলিসের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। গ্রেপ্তার করে এই প্রতারণা চক্রের মাস্টারমাইন্ড হর্ষবর্ধন জৈন নামে এক ব্যক্তিকে। কীর্তিমান এই ব্যক্তি নিজেকে ‘রাষ্ট্রদূত’ পরিচয় দিয়ে প্রতারণার জাল ছড়িয়েছিল। কখনও বিদেশে চাকরির টোপ। কখনও বা বড় বাণিজ্যিক চুক্তি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার সঙ্গে এভাবেই প্রতারণা চালাচ্ছিল সে।
শুধু ‘পশ্চিম আর্কটিকা’ নামে কাল্পনিক দেশের রাষ্ট্রদূত নয়, নিজেকে সাবোরগা, পৌলভিয়া ও লন্ডনিয়া নামে মাইক্রোনেশন বা তথাকথিত স্বঘোষিত ক্ষুদ্ররাষ্ট্রের প্রতিনিধি বলেও দাবি করত ধৃত ব্যক্তি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজিয়াবাদের কবিনগর এলাকায় ওই ভুয়ো দূতাবাসে হানা দেন এসটিএফের অফিসাররা। গ্রেপ্তার করা হয় হর্ষবর্ধন জৈনকে। পুলিস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালাম সহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ধৃত ব্যক্তির ভুয়ো ছবি উদ্ধার হয়েছে। প্রতারণার সময় নিজেকে প্রভাবশালী কূটনীতিক প্রমাণ করতেই এই ভুয়ো ছবিগুলি ব্যবহার করত সে। বিদেশে চাকরি ও ব্যবসায়িক চুক্তি করিয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে প্রতারণার পাশাপাশি ধৃত ব্যক্তি ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে হাওলা চক্র চালাত বলেও সন্দেহ তদন্তকারীদের।
এসটিএফের তল্লাশিতে গাজিয়াবাজের ওই ভুয়ো দূতাবাস থেকে ভুয়ো কূটনৈতিক নম্বর প্লেট সহ মোট চারটি বিলাসবহুল গাড়ি উদ্ধার হয়েছে। তার সঙ্গেই সেখানে মিলেছে ‘মাইক্রোনেশন’ রাষ্ট্রগুলির নামে ১২টি ভুয়ো কূটনৈতিক পাসপোর্ট, বিদেশ মন্ত্রকের ভুয়ো সিল সহ বিভিন্ন জাল নথি, দু’টি ভুয়ো প্যান কার্ড, বিভিন্ন দেশ সংস্থার নামে তৈরি ৩৪টি ভুয়ো সিল, দু’টি ভুয়ো প্রেস কার্ড, নগদ ৪৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা, বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, ১৮টি ভুয়ো কূটনৈতিক নম্বর প্লেট। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অতীতে বিতর্কিত স্বঘোষিত ধর্মগুরু চন্দ্রস্বামী ও আন্তর্জাতিক অস্ত্র ডিলার আদনান খাশোগির সঙ্গেও যোগ ছিল অভিযুক্ত ব্যক্তির। এছাড়া পুলিস জানিয়েছে, ২০১১ সালে বেআইনি স্যাটেলাইট ফোন রাখার অভিযোগে মামলাও দায়ের হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। এবার ভুয়ো দূতাবাস খুলে প্রতারণার অভিযোগে গাজিয়াবাদের কবিনগর থানায় নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে জৈনের বিরুদ্ধে। তার সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিস সূত্রে খবর, শীঘ্রই আরও বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।