


নয়াদিল্লি: ইয়েমেনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়াকে ক্ষমা করতে নারাজ মৃতের পরিবার। ‘ব্লাড মানি’ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের অতিরঞ্জিত প্রতিবেদনের কারণেই পরিস্থিতি বিগড়েছে, মন্তব্য ইয়েমেনের এক সমাজকর্মী স্যামুয়েল জেরোমের। এই সমাজকর্মী এই নিমিশাকে বাঁচাতে মৃত তালাল আবদো মেহদির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তিনি অসন্তুষ্ট। এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্যামুয়েল বলেছেন, ‘এটা শুধু টাকার বিষয় নয়। আমরা যদি মৃতের পরিবারের জায়গায় নিজেদের দাঁড় না করাতে পারি তবে ক্ষমা চাইতে পারি না।’
ভারতীয় মিডিয়ার রিপোর্টে অসন্তুষ্ট স্যামুয়েল। তিনি জানান, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করছে ১০ লক্ষ টাকা ‘ব্লাড মানি’ দিলেই নিমিশার মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হয়ে যাবে। বিষয়টা কিন্তু এমন নয়। তিনি বলেন,‘ব্লাড মানি শব্দবন্ধ ভুল ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি ২ বার মৃতের ভাই ও একবার মৃতের বাবার সঙ্গে দেখা করেছি। আমি শুধু তাঁদের কাছে নিমিশার জন্য ক্ষমাই চেয়েছি। আমি সেখানে গিয়ে বলতে পারি না, বলুন কত টাকা লাগবে? আমি জানি না ভারতের লোক এটা কীভাবে ভাবছে?’
২০১৭ সালে তালালকে খুনের ঘটনায় অনেক আগেই নিমিশার মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। তবে আইনি গেরোয় প্রথম ২০২০ সালে সেই আদেশে স্থগিতাদেশ হয়। পরে ২০২৩ সালে ফাঁসির হুকুম মিললেও ফের মামলা পিছিয়ে যায়। অবশেষে ১৬ জুলাই বুধবার চূড়ান্তভাবে নিমিশার ফাঁসির দিন ধার্য হয়। যদিও সেই দিনও পিছিয়ে গিয়েছে। তারপরই তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল নিয়ে ফের জল্পনা শুরু হয়ে যায়। যদিও এই চাপান উতোরের মধ্যেই আবদেল্লা মেহদি জানিয়ে দেন যে, তাঁরা কোনওভাবেই নিমিশাকে ক্ষমা করবেন না। ভাইয়ের সাফ যুক্তি, ধর্ম মেনেই তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের কারণেই মৃতের পরিবার এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন স্যামুয়েল। তিনি বলেছেন,‘আমি হতাশ। সবাই রেগে আছেন। পরিস্থিতি ঠান্ডা করতে হবে।’ কেরলের এক ধর্মগুরু মৃতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টিও ভুয়ো বলে দাবি স্যামুয়েলের।