


আনন্দ সাহা, লালবাগ: লালগোলা রাজবাড়ির রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়েই উন্মাদনা রয়েছে। রাজবাড়ির রথের রশি টানতে জেলার নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা আসেন। নিয়ম মেনে রাজবাড়ির জগন্নাথ মন্দিরে পুজোপাঠের পর হাজার হাজার ভক্তদের উপস্থিতিতে রথবাজার এলাকায় মাসির বাড়িতে রথ নিয়ে যাওয়া হয়। রাজবাড়িতে রথের মেলায় অন্যতম আকর্ষণ সার্কাস।
রাজপরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮২৩সালে লালগোলায় একটি কাঠের রথ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। বর্তমানে পুরীর রথের আদলে পেতলের পাত দিয়ে মোড়া প্রায় ৪০ফুট উঁচু যে ছয়চাকার রথটি আছে, সেটি ১৮৪০সালে লালগোলার মহারাজা মহেশনারায়ণ রায় তৈরি করান। লালগোলা রাজপরিবারের কূলদেবতা দধিমানব দেব। এই দেবতাকেই রথের দিন জগন্নাথদেব হিসেবে পুজো করা হয়। রথের দিন তাঁকে রথবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিধি মেনে সাতদিন পুজোর পর উল্টোরথে ফের রাজবাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে রাজবাড়ি প্রাঙ্গণে বেশ কয়েকদিন মেলা বসে। লালগোলার রাজবাড়ির রথের মেলার অন্যতম আকর্ষণ সার্কাস। মেলায় ছোটদের জন্য হরেকরকমের নাগরদোলা থাকে। মহিলাদের জন্য গৃহস্থলীর সামগ্রী বিক্রি হয়। খাবারের দোকানে ভিনরাজ্যের হরেক পদ মেলে।
লালগোলা পঞ্চায়েতের সদস্য অজয় ঘোষ বলেন, লালগোলার রথ বাংলার অন্যতম ঐতিহ্য। এলাকার মানুষ এই রথযাত্রার অপেক্ষায় থাকেন। লালগোলার যে সমস্ত মহিলার অন্যত্র বিয়ে হয়েছে, তাঁরাও স্বামীসন্তান নিয়ে রথযাত্রার আগে বাপের বাড়ি ফেরেন।
লালগোলার রথযাত্রা সম্প্রীতির বার্তা দেয়। এই উৎসবে সামিল হন স্থানীয় সারজামান শেখ, সাহিল শেখ, ফিরোজ হোসেনরা। তাঁরা জানালেন, রাজবাড়ির রথের সঙ্গে এলাকার মানুষের শিকড়ের সম্পর্ক। উৎসবে সমস্ত সম্প্রদায়ের মেলবন্ধন দেখা যায়। রথের মেলা ঘিরে এলাকার ছোটবড় সবাই আনন্দে মেতে ওঠেন। লালগোলা রাজবাড়ির রথের পাশাপাশি জিয়াগঞ্জের সাদকবাগ আখড়ার বৈষ্ণবীয় রথযাত্রায় প্রচুর ভক্তসমাগম হয়। নশিপুর রাজবাড়ির রথের ঐতিহ্যও বেশ প্রাচীন। সেখানকার রথের মেলায় রকমারি ফুল ও ফলের গাছ পাওয়া যায়। ফলে গাছপ্রেমী মানুষও নশিপুর রাজবাড়ির মেলায় ভিড় জমান। ছবি: অসীম ভাস্কর