Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাঘের কামড়ে আক্রান্ত ও মৃতদের পরিবার পায়নি ক্ষতিপূরণ, মিলেছে ঘর তৈরির টাকা

সুন্দরবনের নদীতে মাছ-কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের কামড়ে জখম হয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন লখিন্দর সাপুই। আবার নদীতে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন বাবা ও ছেলে।

বাঘের কামড়ে আক্রান্ত ও মৃতদের পরিবার  পায়নি ক্ষতিপূরণ, মিলেছে ঘর তৈরির টাকা
  • ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি: সুন্দরবনের নদীতে মাছ-কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের কামড়ে জখম হয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন লখিন্দর সাপুই। আবার নদীতে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন বাবা ও ছেলে। জঙ্গল থেকে বাঘ বেরিয়ে ছেলে তপন মুখোপাধ্যায়কে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। বাবা পশুপতি মুখোপাধ্যায় বুকে একরাশ কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছিলেন। এঁরা সবাই সুন্দরবনের কুলতলির দেউলবাড়ি পঞ্চায়েতের চপাদারপাড়ার বাসিন্দা। এঁদের অনেক অভিযোগ আছে। কারণ কেউ কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। তবে ভোটের আগে কিছুটা হলেও খুশির আলো এঁদের চোখে-মুখে। কারণ বাংলা আবাস যোজনায় রাজ্য সরকারের ঘর তৈরির ৬০ হাজার টাকা এসেছে। তাঁদের বাস করতে হচ্ছিল মাটির ঘরে। এবার আর তা হবে না। তাই ঘর তৈরিতে নেমে পড়েছেন লখিন্দর, পশুপতিরা।

Advertisement

চপাদারপাড়া লোকমুখে পরিচিত বাঘ বিধবাদের গ্রাম বলে। গ্রামে বাস কয়েকশো মৎস্যজীবী পরিবারের। সুন্দরবনের নদীতে মাছ-কাঁকড়া ধরেই এঁদের সংসার চলে। আর সেটা করতে গিয়ে বাঘের মুখোমুখিও হতে হয়। তবু সংসার বাঁচানোর তাগিদে এঁরা কেউ পেশা থেকে সরে যাননি। ঘর তৈরি করতে করতেই মৎস্যজীবী লখিন্দর সাপুই ওরফে লকাই বলেন, ২০২২ সালে নদীতে মাছ, কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এখনও মাথায় আছে সেই চিহ্ন। আমার বাঁ পা, বাঁ হাত প্রায় অকেজো। কোনোক্রমে বেঁচে আছি। পাকা ঘর তৈরির জন্য অনেক জায়গায় আবেদন করেছিলাম। অবশেষে কিছুদিন আগে ৬০ হাজার টাকা পেয়েছি। সেই টাকায় ঘর তৈরি করছি। এজন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ।
আবার, মৎস্যজীবী পশুপতি মুখোপাধ্যায় বলেন, বউমা বিধবা ভাতা পাচ্ছে। আর আমরা ঘর তৈরির টাকা পাওয়ায় সেই কাজ করতে পারছি। তবে কত বছর কেটে গেলেও ক্ষতিপূরণ পাইনি। আর এক বৃদ্ধা রভুনা নস্কর বলেন, জঙ্গলে কাঠ কাটতে গিয়েছিলাম। তখন বাঘ আমাকে পিছন থেকে ধরে। মাথায় এখনও সেই আঘাতের চিহ্ন আছে। মাটির ঘরে থাকতে থাকতে ভাবছিলাম, আর বোধহয় টাকা পাবো না। কিন্তু কয়েকদিন আগে টাকা পাওয়ায় স্বস্তি পেলাম। এবার ঘর হবে।
চপাদার গ্রামে মাতলা নদীর ধারে এক প্রান্তে নতুন রাস্তা নির্মাণের জন্য ইটও পড়েছে। খুশি গ্রামের মানুষ। তাঁরা বলেন, খুব তাড়াতাড়ি রাস্তাটা সম্পূর্ণ হোক, এটাই চাই। আর সেই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ যদি মিলতো, তাহলে সংসার চালাতে আরও সুবিধা হতো। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ