


নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: বৈশাখের শুরুতেই গরমের অনুভূতি পঞ্চাশ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁইছুঁই। প্যাচপ্যাচে গরমে নাভিশ্বাস। আগামী দিনে পরিস্থিতি আর কতটা অসহনীয় হবে সেই ভেবে আতঙ্কিত নদীয়াবাসী। মঙ্গলবার কৃষ্ণনগর শহরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু অনুভূতি ছিল ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের। যা অবাক করেছে শহরবাসীকে। কারণ গতবছর এপ্রিল মাসে এত ভয়ঙ্কর গরম ছিল না। কিন্তু এবছর অনেক আগেই তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। গরমের দোসর হয়েছে লোড শেডিং। নদীয়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মাঝেমধ্যেই লোড শেডিং হচ্ছে। যার ফলে পরিস্থিতি দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।
নদীয়া জেলার বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থার আধিকারিক সুকান্ত মণ্ডল বলেন, কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহের সমস্যা হয়েছিল। তাই কিছু জায়গায় কারেন্ট চলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতির একদম স্বাভাবিক। সমস্ত জায়গায় আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। প্রসঙ্গত, সোমবার গভীর রাতে টানা দেড় থেকে দু’ ঘণ্টা যেটা বিভিন্ন জায়গায় লোড শেডিং ছিল। কৃষ্ণনগর, নবদ্বীপ, ভীমপুর, নাকাশিপাড়া, চাপড়ায় এই সমস্যার দেখা দেয়। একে তো ভ্যাপসা গরম, তার উপর কারেন্ট যাওয়া নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ শহরবাসী। আগামী এক সপ্তাহে বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই নদীয়া জেলায়। যদিও নদীয়ার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে মাঝেমধ্যেই ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বেলার দিকে রাস্তায় বেরনো দায় হয়ে উঠছে জেলাবাসীর। নদীয়া জেলায় তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকছে। তবে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। রাস্তা বেরলেই গলদঘর্ম হতে হচ্ছে। কৃষ্ণনগরের বাসিন্দা জয়ন্ত দাস বলেন, গতবছর ভালো গরম পড়েছিল। কিন্তু সেই গরম পড়েছিল মে’ মাস নাগাদ। কিন্তু এবার পয়লা বৈশাখ যেতে না যেতেই সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখনও জৈষ্ঠ্য মাস পড়ে আছে। তখন অস্বস্তি আরও বাড়বে।
চিকিৎসকদের দাবি, এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরনোই ভালো। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং যাঁরা দীর্ঘদিন করে অসুস্থ।, এই গরমের তাঁদের বাইরে বেরনো ঝুঁকিপূর্ণ। ডিহাইড্রেশন এড়াতে প্রচুর জল খেতে হবে। হাওয়া অফিসের এক আধিকারিকের দাবি, এপ্রিল মাসে গরমের পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতা ও জলীয় বাষ্প ভীষণ মাত্রায় বেড়ে গিয়েছে। যার জন্য প্রবল গরম অনুভূত হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ফলে দুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে। -নিজস্ব চিত্র