


নাগপুর: অন্ধ্রপ্রদেশের পর মহারাষ্ট্র। রবিবার সকালে নাগপুরের বারুদ কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ। অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। গুরুতর জখম ১৮ জন। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে অনুমান পুলিশের।
জানা গিয়েছে, নাগপুরের কাটোল তহসিলের রাউলগাঁও এলাকার একটি কারখানায় বিস্ফোরণ হয়। খনি ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিস্ফোরক সামগ্রী তৈরি করে সংস্থাটি। প্যাকিং ইউনিটে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে বিস্ফোরণের সময় ওই অংশে কোনো উৎপাদন হচ্ছিল না। ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণ, তা স্পষ্ট নয়। অভিঘাতে কারখানার ছাদ উড়ে গিয়েছে। জোরালো শব্দ শুনে দ্রুত চলে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রাথমিক ভাবে তাঁরাই উদ্ধার কাজ শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল দেহ। অনেক দেহ শনাক্ত করাও কঠিন। ওই কারখানায় কর্মরত ছিলেন ৪২ বছরের কান্তা চাচানে। তাঁর মেয়ে মঙ্গেশ্রীও সেখানে কাজ করতেন। রবিবার সকালে একই সঙ্গে কাজে যান মা-মেয়ে। বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে মঙ্গেশ্রীর। হাহাকার করে কান্তা বলছিলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল!’ তিনি জানান, সকাল সাতটা নাগাদ প্রথম বিস্ফোরণ হয়। তারপর দেড়ঘণ্টা ধরে পরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আতঙ্কিত শ্রমিকরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। ঘটনার খবর শুনে পৌঁছয় পুলিশও। মৃতের পরিচয় নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, আহত শ্রমিকদের নাগপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে। উদ্ধার জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী উদ্ধার কাজে নেমেছে। পেট্রোলিয়াম ও এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন-এর আধিকারিকরাও রয়েছেন।
ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। আহতদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ তারা বহন করবে। মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও করা হয়েছে। গত শনিবারই অন্ধ্র্রপ্রদেশের একটি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বিস্ফোরণস্থলে চলছে উদ্ধারকাজ। ছবি: সমাজমাধ্যম।