


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এরাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (এমএসএমই) উন্নতিতে অন্যতম বড় বাধা প্রযুক্তি। এমন বহু ছোট শিল্প সংস্থা আছে, যারা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত উন্নতি না করতে পারার কারণে এগতে পারছে না। কীভাবে সেই প্রযুক্তিগত সহায়তা মিলবে, তা জানা থাকে না অনেকেরই। সেই সুযোগ করে দিতে এবার এগিয়ে এল রাজ্য সরকার। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প দপ্তর জানিয়েছে, তারা এরাজ্যের একাধিক নামী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে, যারা শিল্প সংস্থাকে প্রযুক্তিগত সাহায্য করবে।
শুক্রবার মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান সচিব রাজেশ পান্ডে বলেন, প্রযুক্তিগত সহায়তায় আমরা ইতিমধ্যেই খড়্গপুর আইআইটি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাভুক্ত এমএসএমই টুল রুমের সঙ্গে চুক্তি করেছি। অতিসম্প্রতি চুক্তির ব্যাপারে আলোচনা শুরু হয়েছে সিএসআইআরের সঙ্গে। এদের মাধ্যমে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হবে, যেখানে যেকোনও শিল্প প্রতিষ্ঠান তার প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তার কথা জানাবে। যে প্রতিষ্ঠানটিতে এমন সমাধান আছে, তারা ওই সাহায্য করবে। পাশাপাশি রাজেশ পান্ডে জানিয়েছেন, তাঁরা বিশ্ব ব্যাঙ্কের আওতায় একটি প্রকল্প চালু করছেন, যেখানে কলকাতা আইআইএম ইনোভেশন পার্কের সঙ্গে একযোগে ইনকিউবেশন সেন্টার তৈরি হবে এবং স্টার্ট আপে উৎসাহ দেওয়া হবে।
এরাজ্যে ছোট শিল্পে যাতে ঋণ সংক্রান্ত কোনও সমস্যা না-হয়, তার জন্য স্টেট লেভেল ব্যাঙ্কার্স কমিটির আওতাভুক্ত এমএসএমই সাব কমিটিতে নিয়মিত বৈঠক হয় হবে। এদিন দাবি করেছেন রাজেশ পান্ডে। বণিকসভা ফিকি’র এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ২০১১ সালে এরাজ্যে ছোট শিল্পে ঋণ প্রদানের অঙ্ক ছিল ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা। তা এখন বেড়ে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। চলতি অর্থবর্ষ শেষে সেই অঙ্ক ২ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান সচিব। তিনি দাবি করেন, এরাজ্যে প্রায় ৯০ লক্ষ ছোট শিল্প থাকলেও এখনও পর্যন্ত ৪৩ লক্ষ শিল্পের ‘উদ্যম’ রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। বাকিদেরও যাতে এই রেজিস্ট্রেশন করানো যায়, তার চেষ্টা চলছে। প্রসঙ্গত, উদ্যম পোর্টালে নাম নথিভুক্তি না থাকলে প্রশাসনিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারে ছোট শিল্প।