


থানে: পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার রবি ভার্মাকে গ্রেপ্তার করেছে মহারাষ্ট্রের অ্যান্টি-টেরোরিজম স্কোয়াড (এটিএস)। তাকে জেরায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, ভারতীয় নৌসেনার অন্তত ১৪টি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের গোপনীয় তথ্য পাক গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দিয়েছিল রবি। এরমধ্যে রয়েছে টেকনিক্যাল ড্রয়িং, যুদ্ধজাহাজের পরিচালনা ও কার্যকারিতা, নিরাপত্তা সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, রবির বাড়ি মহারাষ্ট্রের থানের কালওয়ার আতকোনেশ্বর নগরে। মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি সংস্থায় জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিল সে। ওই সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করত। সেই সূত্রেই নৌসেনার ওই জাহাজগুলিতে রবির যাতায়াত ছিল। ২০২৪ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো মহিলা পরিচয়ে একাধিক পাক গোয়েন্দা রবির সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রথমে পড়াশুনো সংক্রান্ত কাজে সাহায্যের জন্য যুদ্ধজাহাজের তথ্য চাইত তারা। পরে রবিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে পাকিস্তানি ইন্টালিজেন্স অপারেটিভরা। তাদের কথা মতো, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বহু তথ্য পাঠিয়ে দিয়েছিল ধৃত ইঞ্জিনিয়ার।
মহারাষ্ট্র এটিএসের তদন্তকারীদের দাবি, সংস্থার হয়ে প্রায়ই জাহাজগুলিতে যেতে হতো ওই প্রযুক্তিবিদকে। ভিতরে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি ছিল না। তা সত্ত্বেও জাহাজের অভ্যন্তরীণ নকশা ও প্রযুক্তিগত খুঁটিনাটি হাতে এঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় মাধ্যমে পাক গোয়েন্দাদের কাছে পাঠাত সে। রবি মনে করত, সমস্ত তথ্য তার প্রেমিকার কাছেই যাচ্ছে। শুক্রবার ধৃতকে থানে আদালতে তোলা হলে সোমবার পর্যন্ত পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ছেলে গ্রেপ্তার হওয়ার ভেঙে পড়েছেন রবির মা রেখাদেবী। এই পরিস্থিতির জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকেই দায়ী করেছেন তিনি। বলেন, ও আমার একমাত্র সম্বল। ওর কোনও দোষ নেই। ফেসবুকে একজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখতাম। ওই মহিলাই রবিকে ফাঁসিয়েছে। রেখা দেবী আরও জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকজন ‘খারাপ মহিলা’র খপ্পরে পরেছে বলে জানিয়েছিল রবি। তাদের থেকে বাঁচতে অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার কথাও ভাবছিল ছেলে।