Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গয়না কিনে ইএমআই শোধ হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায়, আরও স্বনির্ভর-শৌখিন হচ্ছেন মহিলারা

চড়া রোদ। ক্যানিং পূর্বের বোদরা কালীতলা থেকে নেতড়া যাওয়ার রাস্তা ধু ধু করছে। ফাঁকা রাস্তা দিয়ে মা ও মেয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তাঁদের কাছে গিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কথা জিজ্ঞাসা করার পর প্রথমে ইতস্তত করলেন।

গয়না কিনে ইএমআই শোধ হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায়, আরও স্বনির্ভর-শৌখিন হচ্ছেন মহিলারা
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: চড়া রোদ। ক্যানিং পূর্বের বোদরা কালীতলা থেকে নেতড়া যাওয়ার রাস্তা ধু ধু করছে। ফাঁকা রাস্তা দিয়ে মা ও মেয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। তাঁদের কাছে গিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কথা জিজ্ঞাসা করার পর প্রথমে ইতস্তত করলেন। তারপর হাসিমুখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে মা কবিতা মণ্ডল বললেন, ‘ও হল আমার মেয়ে, মৌমিতা। ওর টিউশনির খরচ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দিয়েই মেটাই।’ আর জানালেন, ট্যাব কেনার জন্য সরকার ১০ হাজার টাকা দিয়েছে। ইন্টারনেটের জন্য প্রতিমাসে রিচার্জ করতে হয়। সেই টাকাও ভাণ্ডারের টাকা থেকেই খরচ করেন। কবিতাদেবীর স্বামী দিনমজুরির কাজ করেন। সংসারের  সব খরচ বহন করা তাঁর পক্ষে কঠিন। মমতার দেওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তাঁদের জীবনের অনেক কিছুর সুরাহা করে দিয়েছে।

Advertisement

সোনারপুর দক্ষিণে কোদালিয়া যেতে জয়িতা অধিকারী নামে এক মহিলার সঙ্গে দেখা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন করায় হেসে বললেন, ‘মাসে মাসে এই টাকা আসাটা আমাদের কাছে অনেক। উৎসব পার্বণে ছেলেমেয়েকে জামা বা প্যান্ট কিনে দিতে পারি। বাচ্চাদের অন্যান্য বায়না মেটাই। এই টাকাটার কারণেই স্বামীর উপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় না। উল্টে বাড়ির পুরুষমানুষটা মাঝেমধ্যে আমার কাছে টাকা চায়।’
জীবনতলা থেকে সোনারপুর, একাধিক মহিলার কথায় উঠে এল রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের উপকারিতার কথা। বাচ্চাদের পড়াশোনার খরচ থেকে সংসারের জিনিসপত্র কেনা ইত্যাদি প্রয়োজন মিটছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায়। কেউ আবার শখ মেটাতেও ভরসা রেখেছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপর। কুন্তলা গায়েন নামে বছর চল্লিশের এক গৃহিণী গয়না কিনেছেন ইনস্টলমেন্টে। তিনি মাসে মাসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা থেকে ইএমআই দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘স্বামীকে গয়না বানিয়ে দিতে বললেই না করে দিত। দিদি আমাদের জন্য এই প্রকল্প এনেছেন। সে টাকা জমিয়ে টুকটাক নিজের জন্য জিনিস কিনছি। এখন দেড় হাজার টাকা মাসে পাই। পাড়ায় সোনার দোকানে পছন্দের মতো হার বা আংটি কিনে অল্প অল্প করে শোধ দিচ্ছি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দিয়েই।’ এই জনপ্রিয় প্রকল্পকে চ্যালেঞ্জ করতে বিজেপি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মাধ্যমে মাসিক ৩ হাজার টাকা দেওয়ার গাজর ঝুলিয়ে মহিলাদের টানার চেষ্টা করছে। কিন্তু সেই ফাঁদে গ্রামের মহিলারা পড়তে নারাজ তা স্পষ্ট করেই জানাচ্ছেন। অনেক মহিলার বক্তব্য, ‘দিদি যা দিচ্ছেন তাতেই আমরা সন্তুষ্ট। বিজেপি মুখে বলছে দেবে কিন্তু ওদের যা মিথ্যা কথা বলার স্বভাব, দেবে কি না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কথা দিয়ে কথা রেখেছেন।’
সংসার চালানো থেকে নিজের শখ পূরণ তো বটেই এখন কয়েকটি গ্রামে দুর্গাপুজোও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জমানো টাকায় করছেন অনেক মহিলা। এমন বহু উদাহরণ আছে। ফলে মমতার এই প্রকল্প যে গ্রামের মহিলাদের স্বনির্ভর ও শক্তিশালী ও শৌখিন করে তুলেছে সেটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ