নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে ঈদ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। এবার রামনবমীও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হোক। আগামী ৬ এপ্রিল রামনবমীর আগে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে না করে গেরুয়া শিবিরের প্রতি তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, ‘দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করবেন না। বাংলার মানুষ আর যা’ই হোক, দাঙ্গা সহ্য করে না, করবে না। বাংলা সংস্কৃতির জন্ম দেয়। আমরা রামকৃষ্ণকে মানি, জুমলা পার্টিকে নয়।’
রামনবমীর দিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি বাঁধানোক ছক কষছে বিজেপি এবং তাদের দোসররা। তার জন্য চলছে প্ররোচনা ও উস্কানি ছড়ানো। এমন অভিযোগ ইতিমধ্যেই উঠেছে। যার প্রেক্ষিতে বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই, ঈদের মতো রামনবমী, অন্নপূর্ণা ও বাসন্তী পুজোও শান্তিপূর্ণভাবে মিটুক।’ নাম না করে বিজেপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘গৈরিকীকরণ ও রক্তিমকরণকে মেলাবেন না। জুমলা পার্টিকে বলব, বাসন্তী পুজো, অন্নপূর্ণা পুজো করুন। ধর্ম মানেই কর্ম, মানবিক হোন, দানবিক হবেন না।’
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, রামনবমীতে পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মানুষের মধ্যে বিভাজনের জন্য, দাঙ্গা লাগানোর জন্য ওঁরা নতুন ধর্মের আমদানি করেছে। এই ধর্ম রামকৃষ্ণের নয়, স্বামী বিবেকানন্দের নয়, এই ধর্ম তপোবনের নয়, বেদ-বেদান্তের নয়। দয়া করে দাঙ্গা করে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করবেন না। এটা ওদের গেমপ্ল্যান।’ মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘গান্ধীজি দাঙ্গা থামাতে গিয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে অনশন করেছিলেন। এসব আমরা ভুলে যাব?’ তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, ধর্মপালন হোক নিয়ম এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর লন্ডন সফরে অশান্তির চেষ্টা করেছিল গুটিকয়েক বিক্ষোভকারী। তাঁদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর এদিন বলেছেন, ‘আমাকে বিদেশে প্রশ্ন করবে, আমি হিন্দু কি না! আমি বিজেপিকে জবাব দিতে বাধ্য নই।’
এদিকে, বাঁকুড়ার শালতোড়ায় রামনবমীর শোভাযাত্রা করতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তাদের অভিযোগ পুলিস শোভাযাত্রার অনুমতি দিচ্ছে না। মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। আজ বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি।