Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

শিক্ষাব্যবস্থার হত্যালীলা চলছে, মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ সোনিয়ার

নরেন্দ্র মোদির আমলে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার হত্যালীলা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার যে নতুন শিক্ষানীতি (এনইপি) এনেছে

শিক্ষাব্যবস্থার হত্যালীলা চলছে, মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ সোনিয়ার
  • ১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: নরেন্দ্র মোদির আমলে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার হত্যালীলা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার যে নতুন শিক্ষানীতি (এনইপি) এনেছে, তার মূল উদ্দেশ্যই হল কেন্দ্রীকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ ও বেসরকারি ক্ষেত্রের অনুপ্রবেশের পথ প্রশস্ত করা। এই ভাষাতেই কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষানীতির সমালোচনায় সরব হলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তাঁর মতে, পাঠ্য পুস্তকেও সাম্প্রদায়িকতার অনুপ্রবেশ ঘটানো হচ্ছে। 

Advertisement

সোমবার একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে সোনিয়ার নিবন্ধ। সেখানে তিনি লিখেছেন,  শিক্ষাকে ‘ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ এবং সাম্প্রদায়িকতা’র  হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে মোদি সরকার। সোনিয়া বলেছেন, গত ১১ বছর ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বত্র ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটেছে। শিক্ষাক্ষেত্রকে এর ফল ভুগতে হচ্ছে বলে। নিজের অভিযোগে  সপক্ষে যুক্তিও তুলে ধরেছেন তিনি। সোনিয়া বলেন, ভারতের সংবিধান অনুযায়ী  শিক্ষা কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ তালিকাভুক্ত। তাই শিক্ষা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। অথচ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে সেন্ট্রাল অ্যাডভাইসরি বোর্ড অব এডুকেশনের (সিএবিই) কোনও বৈঠকই ডাকা হয়নি। 
সম্প্রতি নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে ইউজিসি। এই নির্দেশিকাকে ‘কালা কানুন’ বলে মন্তব্য করেছেন সোনিয়া। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ থেকে তহবিল বণ্টনের মতো বিষয়ে রাজ্যগুলির সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সংস্কারের নামে শিক্ষাক্ষেত্র থেকে গরিবদের বাদ দেওয়ার চক্রান্ত শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেছেন সোনিয়া। শিক্ষায় গেরুয়াকরণের প্রতিবাদেও সরব কংগ্রেস নেত্রী। তাঁর কথায়, ‘আরএসএস এবং বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক মনোভাবের অনুপ্রবেশ ঘটাতে সচেষ্ট। এবার সেই চেষ্টা আরও গতি পেয়েছে।’ কীভাবে হচ্ছে শিক্ষার গেরুয়াকরণ? এব্যাপারে সোনিয়া বলেছেন, এনসিইআরটির পাঠ্যক্রম থেকে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ড এবং মুঘল শাসনের একটা অংশ বাদ দেওয়ার ঘটনাতেই কেন্দ্রের অসৎ উদ্দেশ্য ধরা পড়ে যায়। 
সোনিয়ার মন্তব্যের সমালোচনা করেছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র সি আর কেশবন এই মন্তব্যকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিভ্রান্তকর’ বলে মন্তব্য করেন। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্র আগে রাজ্যের হাতেই ছিল। জরুরি অবস্থার সময় ৪২তম সংবিধান সংশোধন করে একে যৌথ তালিকাভুক্ত করা হয়। তাই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার কথা বলে দ্বিচারিতা করছেন সোনিয়া।’ তিনি আরও বলেন, ইউপিএ আমলে এনসিইআরটি এবং ইগনুর পাঠ্যবইয়ে ক্ষুদিরাম বসুর মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীকে সন্ত্রাসবাদী বলা হয়েছিল। তাই সোনিয়ার এই সমালোচনা মানায় না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ