Bartaman Logo
৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বঞ্চিত যোগ্য চাকরিহারাদের জন্য শূন্য পদের সংখ্যা বৃদ্ধির ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর, এসএসসির শিক্ষক নিয়োগ

স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বঞ্চিত যোগ্য চাকরিহারা প্রার্থীদের জন্য শূন্যপদের সংখ্যা বাড়তে পারে। সোমবার সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

বঞ্চিত যোগ্য চাকরিহারাদের জন্য শূন্য পদের সংখ্যা বৃদ্ধির ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর, এসএসসির শিক্ষক নিয়োগ
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্কুল সার্ভিস কমিশনের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বঞ্চিত যোগ্য চাকরিহারা প্রার্থীদের জন্য শূন্যপদের সংখ্যা বাড়তে পারে। সোমবার সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এদিন বিকাশ ভবনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। যতক্ষণ না পুরো প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে ততক্ষণ আইনিভাবে কোনও কথা আমি বলতে পারি না। এটি মন্ত্রিসভা নিশ্চয়ই বিবেচনা করে দেখবে।’ পরে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আপাতত পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই শূন্যপদ বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে এগোনো হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আইনি পরামর্শও নেওয়া হচ্ছে। তবে, বর্ধিত শূন্যপদে শুধুমাত্র যোগ্য চাকরিহারারাই সুযোগ পাবেন।’

Advertisement

টেন্টেড প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও রায়গঞ্জের একজন শিক্ষকের নাম ইন্টারভিউয়ের আগের ডক্যুমেন্ট ভেরিফিকেশন তালিকায় এসেছে বলে অভিযোগ। তিনি বিশেষভাবে সক্ষমও বটে। আরেক প্রার্থী রয়েছেন, যাঁর ১৯৯৭ সালে জন্ম হলেও তিনি শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নম্বর পেয়েছেন। কীভাবে তিনি সেই তালিকায় এলেন, সে প্রশ্নও উঠছে। প্রথম ঘটনাটি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ নিয়ে আইনজীবীদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কোনও ছাড় দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ আর দ্বিতীয় ঘটনা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, ‘অনলাইনে আবেদন জমা পড়েছিল। হয়তো কিন্ডারগার্টেনে চাকরির অভিজ্ঞতার বিষয়টিই দিয়ে দিয়েছেন। এর জন্যই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি রয়েছে। সেখানে সমস্ত তথ্যই খতিয়ে দেখা হবে।’ শিক্ষামন্ত্রী এও বলেন, ‘ওই নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য টেন্টেড প্রার্থীর নাম তালিকায় নেই বলে এসএসসি আমাকে জানিয়েছে।’
এদিন নতুন চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকশোজন বিকাশ ভবন অভিযান শুরু করেন। করুণাময়ী থেকে বিকাশ ভবনের উদ্দেশে রওনা দিলে উন্নয়ন ভবনের উলটো দিকে তাঁদের আটকায় পুলিশ। তাঁরা সেখানেই বসে পড়েন। এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘ওঁদের এসএসসি অফিস পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি ছিল। কিন্তু তাঁরা উলটো দিকে, বিকাশ ভবনের দিকে যেতে শুরু করেন। সেখানে বিএনএস ১৬৩ ধারা বলবৎ থাকায় জমায়েতের নিয়ম নেই। তাই আটকানো হয়েছে।’ দীর্ঘক্ষণ সেখানেই বসে থাকেন তাঁরা। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার দাবি জানিয়ে যেতে থাকেন। তবে, পুলিশ তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করে যেতে থাকে। সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার দেখিয়ে এই আন্দোলন কেন আইনসংগত নয়, সেটাও বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে, আন্দোলনকারীরা অনড় ছিলেন। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ পুলিশ বলপ্রয়োগ শুরু করে। টেনেহিঁচড়ে তাঁদের বাসে তোলা হয়। অনেককে  মেট্রো স্টেশনে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। কেউ কেউ আশপাশের সরকারি ভবনে ঢুকে পড়েন। বইমেলা প্রাঙ্গণেও ঢুকে পড়েন কেউ কেউ। অনেককেই আটক করেছে পুলিশ।
আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, লিখিত পরীক্ষায় পুরো নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতায় পুরো নম্বর পাওয়া সত্ত্বেও তাঁরা ইন্টারভিউয়ের ভেরিফিকেশনে ডাক পাননি। শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জন্য চাকরিহারা শিক্ষকদের ১০ নম্বর দেওয়ার ফলেই তাঁরা পিছিয়ে পড়েছেন। তাই অভিজ্ঞতার নম্বর বাতিল, মোট শূন্যপদের সংখ্যা বাড়িয়ে এক লক্ষ করার দাবিতেই তাঁরা জমায়েত হন। ইংরেজির এক প্রার্থী বলেন, ‘আমি সব ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছি। ৭০-এ ৭০ পেয়েও ডাক পাইনি! কবির নাম লেখার মতো সহজ প্রশ্ন এসেছে চাকরিহারাদের বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিতে। এর সঙ্গে ১০ নম্বর যোগ হলে নতুনরা আর কীভাবে সুযোগ পাবেন?’ 
এই জমায়েত প্রসঙ্গে অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে, আন্দোলনকারীদের দাবি, এই দায় সরকারকেই নিতে হবে। অন্যদিকে, আজ মঙ্গলবার বাংলা বিষয়ের প্রার্থীদের তথ্য যাচাই শুরু হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১৫টি টেবিলে এই কাজ চলবে। প্রায় চারশো প্রার্থী ডাক পেয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে, এই তালিকায় ত্রুটির অভিযোগ তুলে সোমবার একটি মামলা দায়ের হয়েছে হাইকোর্টে। আগামীকাল, বুধবার মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।

সম্পর্কিত সংবাদ